ফসলের উপকারী পতঙ্গের অভাব: কৃত্রিম পরাগায়নের পদ্ধতির পথে হাটছে কৃষক

0
11

স্টাফ রিপোর্টার

জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ফুল জাতীয় ফসলের পরায়গায়ন উপযোগী পতঙ্গের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে পেঁয়াজের কদম (বীজের ফুল) সহ ফুল জাতীয় ফসলে কৃত্রিম পরাগায়ন করতে গিয়ে কৃষকদের বাড়তি ব্যয় হচ্ছে অন্য দিকে ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবছর শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ তলা তৈরী সময় বীজের কৃত্রিম সংকট দেখা দেয়। সুখ সাগর, হাইব্রিড ও কিং জাতীয় পেঁয়াজের প্রতিকেজি বীজ ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে কিনেন কৃষকরা। বীজ সংকট মোকাবিলায় বড় চাষীরা নিজেরা ভালো জাতের শীতকালীন পেঁয়াজের কদম আবাদ করে বীজ তৈরী করে নিচ্ছে। শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ বিঘা প্রতি ১৮ কেজি ফলন হয়। চাষীরা জানান, নিজের ঘরের বীজের পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর পেঁয়াজের কদমের পরাগায়নের সময় মৌমাছি সহ অন্য পতঙ্গ মাঠে আসছে না। ফলে নিজেরা হাত দিয়ে কৃত্রিম পদ্ধতিতে পরাগায়ন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃত্রিম পরাগায়নে বীজের মান ও ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। তারা জানায়, জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছিসহ ফসলের পরাগায়ন উপযোগী পতঙ্গ কমে গেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার শিমুলিয়া, একতারপুর, জয়ন্তী হাজরা, আমবাড়িয়া ও গোপগ্রাম ইউনিয়নে প্রায় ১৭৫ বিঘা জমিতে শীতকালনি পেঁয়াজের কদম (বীজ) আবাদ হয়েছে। বীজের ফলন ভালো হলে ১০ হাজার বিঘা জমিতে আবাদের বীজ তৈরী হবে। সূত্রটি আরও বলেন, সব ফসলই পরাগায়নের উপর নির্ভরশীল। জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক স্প্রে করায় ফসলের পরাগায়নের সহযোগী পোকামাকর মারা যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে শিমুলিয়া ইউনিয়নের মালিগ্রাম দক্ষিন পাড়া মাঠে কৃষক জিহাদ আলী শেখের সাথে তার কদমের জমিতে দাঁড়িয়ে কথা হয়। তিনি একবিঘা জমিতে হাইব্রিড ও কিং জাতের পেঁয়াজের কদম (বীজের ফুল) আবাদ করেছেন। ফাল্গুন মাসেও মাঠে একটি মৌমাছির দেখা নেই। তাই দুইজন শ্রমিক নিয়ে কৃত্রিম পদ্ধতিতে পেঁয়াজের কদমের জমিতে পরাগায়ণ করছিলেন।

এ কৃষক নিজের ও অন্যকৃষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আগে মাঠে ফসলের উপকারী পতঙ্গ ছিলো। এখন মাঠে অতিমাত্রায় কীটনাশক স্প্রে করা পতঙ্গ মারা যাচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

উপজেলা কুষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, জমির মাটি পরীক্ষা ছাড়াই কৃষক তার ইচ্ছা মাফিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। ফলে ফুল ফসরের জন্য উপকারী পতঙ্গ মারা যাচ্ছে। ফসলের প্রাকৃতিক পরাগায়ণ হচ্ছে না। এর জন্য ফুল জাতীয় ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে।