পাম্পে সিরিয়াল নিয়ে দন্দ্বে অন্ধকারে মিরপুর

0
1

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে তেল পাম্পে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার টানাপোড়েনে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকা। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা।

জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মিরপুর উপজেলাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাব-স্টেশনের ১৫টি ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা স্থানীয় মেসার্স মল্লিক তেল পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। এসময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জরুরী সেবাই নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলেন। কিন্তু জরুরি পরিষেবার কথা জানিয়ে কর্মীরা দ্রæত তেল নিতে চাইলে বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের জরুরি কাজ ব্যাহত হয় এবং ক্ষোভে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।

সকাল ৯টা থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলা স্থবির হয়ে পড়ে।

মিরপুর উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাড়িতে পানি তুলতে পারছি না, রান্নাবান্নাসহ সব কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

একই চিত্র সরকারি অফিসগুলোতেও। মিরপুর পৌর এলাকার সুলতানপুর থেকে জমির মিউটেশন (নামজারি) করতে আসা রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার জানান, সকাল থেকে বসে আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে ফরম পূরণ বা টাকা জমা দিতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহ শেষ। এখন আবার রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের এই কষ্টের দায় কে নেবে?

মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফুল হক বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা রাত থেকেই কাজ করছিল। সকালে নতুন কিছু ত্রæটি দেখা দিলে দ্রæত যাতায়াতের জন্য কর্মীদের তেল প্রয়োজন হয়। আমি নিজে ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করেছিলাম ওযন জরি বিবেচনায় আমাদের দ্রæত তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। তেল পেতে দেরি হওয়ায় লাইন চেক করে চালু করতেও বিলম্ব হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।