কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতে স্কুল ভবন থেকে অচেতন অবস্থায় এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর ওই কিশোরীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানালেও এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী কিশোরী মিরপুর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের বাসিন্দা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে তার নানাবাড়ি ছত্রগাছা গ্রামে বসবাস করে আসছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয় যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত আটটার দিকে বিদ্যালয়়র পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ওই কিশোরীকে খোঁজা শুরু করে। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে কিশোরীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: হোসেন ইমাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে রাতের দিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়েজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, অনুষ্ঠান শেষে তার মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ আনতে গিয়েছিল ওখান থেকে তৃতীয় তলায় গিয়েছিল। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছে না।
এদিকে জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, সে সিড়ির কাছে বসে ছিল, এরপর তার আর কিছুই মনে নেই।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর জানান, তারা আপাতত বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে সঠিক বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



