কবর স্থানের গাছ বিক্রি ও বিএনপির দুই গ্রুপের হামলায় আহত ৪২

0
4

স্টাফ রিপোর্টার

কবর স্থানের গাছ বিক্রি কেন্দ্র করে দুই গ্রাম বাসীরা মাইকিং করে হামলা পাল্টা হামলা চালায়। অপরদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায়র স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রæপের মধ্যে রক্তয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪২ জন আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া করব স্থানের গাছ বিক্রি করে মাটি ভরাট করা কেন্দ্র করে দুই দল গ্রাম বাসীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় কমপক্ষে দুই গ্রামের ২০ জন আহত হয়। হামলা কারীরা কবর স্থানের দেয়ালে লেখা বর্তমান কমিটি ও স্থপতিদের নাম লাল কালি দিয়ে মুছে দেয়। শতবর্শী সাতপাখিয়া কবর স্থানটি ১৬ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। কোটি টাকা মূল্যের কয়েক হাজার মেহগনি গাছ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতুব্বরদের বিরোধ রয়েছে। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রনে চলে বর্তমান কমিটি। বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরদের রয়েছে আর একটি কমিটি। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীদের বর্তমান কমিটি এখান থেকে ১০টি মেহগণির গাছ বিক্রি করে কবরস্থানের মাটি ভরাট শুরু করে। এ দিন সকালে বরইচাড়া গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা করে কবর স্থানের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দাররা মাইকে ঘোষনা দিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহতের চেষ্টা করে। শুরু হয় দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এভাবে চলে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা। দুই পক্ষের আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সাময়ীক নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে দুপুরে এ রিপোট লেখা পর্যন্ত সাতপাখিয়া গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে হামলা প্রতিহত করতে ঘোষনা দেওয়া হচ্ছে।

কবর স্থানের মাটির শ্রমিক শুরুর আলী বলেন, তারা প্রায় ২০জন শ্রমিক কবর স্থানে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে বরইচারা গ্রামের প্রায় ২শ লোক তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশী ধারালো অস্ত্র ছিলো। শ্রমিকরা পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলী বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা সাতপাখিয়া কবর স্থানের জমি দান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটা মানতে নারাজ। সাতপাখিয়া গ্রামের কয়েকজন সাবেক মেম্বর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চুরি করে গাছ বিক্রি করেছে। বরইচাড়া গ্রামের লোকজন গাছ কাটা বন্ধ করতে গিয়েছিলো। এ সময় প্রতিপক্ষ তাদের উপর হামলা করে। হামলা আহত বরইচারা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৪০)সহ দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

সাতপাখিয়া কবর স্থানের সভাপতি আবু মুসা বলেন, কবর স্থানে প্রতিপক্ষ বরইচাড়া গ্রামবাসীদের কোন অবদান নেই। তার পরেও তারা মৃতদেহ দাফন করে। অনেকবার তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কমিটর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০টি মেহগণির গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সে টাকা দিয়ে কবর স্থানের মাটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বিনা উষ্কানিতে কমিটির নিয়োজিত শ্রমিকদের উপর হামলা করে। দেয়াল লিখন মুছে দেয়। সাতপাখিয়া গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। তাদের হামলায় কমিটির প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। তিনি কবর স্থানে শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের উপর হামলা কারীদের বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার সকালে প্রায় একই সময়ে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে দুই যুবকের মধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুটি গ্রæপের কর্মীরা হামলা পাল্টা হামলা জড়িয়ে পরে।

দুই পক্ষের আহতরা সবাই নিজেদের বিএনপি কর্মী বলে দাবি করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিনের দলীয় পদ নেই। তার প্রতিপক্ষ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুল বিশ্বাসের ছেলে রনি ও নবীনের ছেলে শিপলুর মধ্যে বিরোধ হয়। এ ঘটনা কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের ২২ জন আহত হয়। এ ছাড়া দুই পক্ষ ৬টি বাড়ি ভাংচুর করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জনকে ভর্তিকরা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কবর স্থান কমিটি ও বিএনপির নেতারা।

বনগ্রামের বিএনপি নেতা ও স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিন জানায়, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তার লোকদের উপর হামলা করেছে। হামলার তার পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। তার কর্মী শান্ত বিশ্বাসের ছেলে রন বিশ্বাসের অবস্থা গুরুত্বর হওয়া তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করা হয়েছে। তিনি মামলা করবেন।

আর এক বিএনপি নেতা আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু বলেন, হামলায় তার প্রায় ৭ জন কর্মী আহত হয়েছে। এসব কর্মীদের বাড়ি ঘরও তারা ভাংচুর করেছে।

খোকসা থানার ওসি তদন্ত মোশারফ হোসেন বলেন, দুই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। কোন অভিযোগ পাওযা যায়নি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।