Home breaking news খাল খনন প্রকল্পের দুটি এক্সকাভেটার পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

খাল খনন প্রকল্পের দুটি এক্সকাভেটার পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

0
6

ষ্টাফ রিপোর্টার

রাতের আঁধারে সরকারী খাল খনন প্রকল্পের মাটিকাটার কাজের সময় দুটি এক্সকাভেটার মেশিন পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছে স্বশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। একই সাথে একটি মোটরসাইকেল, দুটি মুঠো ফোন ও স্কেবিটারের ব্যাটারী লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

কুষ্টিয়ার খোকসার মোড়াগাছা-হাসিপুর খালের উৎস্যমুখ দ্বিপচর ব্রিজের কাছে বুধবার দিনগত রাত দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়। গত ১৬ মার্চ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রি আসাদুজ্জামান আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ খালের খনন কাজের উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে মোড়াগাছা বাজারের সুইচ গেট থেকে উৎস্যমুখ দ্বিপচরের ব্রিজ পর্যন্ত ৯শ মিটার খাল খনন কাজের প্রথম পর্যায়ের শেষের দিকে পৌচ্ছেছে। এরই মধ্যে দুর্বৃত্তরা এ হামলা ঘটনা ঘটলো।

এ হামলার কারন সম্পর্কে স্পষ্ট করতে অনিহা প্রকাশ করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেন। এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের তার অফিস সহকারীদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। সরকারের অগ্রাধীকারের খান খনন প্রকল্পে মাটিকাটার এক্সকাভেটার মেশিন পুড়িয়ে দেওয়া স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি বলে খোকসা থানা পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে দ্বিপচর ব্রিজের কাছে এক্সকাভেটার মেশিন দিয়ে মাটি কাটা চলছিলো। এ সময় গড়াই নদীর দিক থেকে ১৫ /২০ জনের একটি স্বশস্ত্র দল উঠে আসে। তাদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয় অস্ত্র ছিলো। তারা প্রথমে প্রকল্পের দু’জন নৈশ প্রহরী ও এক্সকাভেটারের চালকের সহযোগী সবুজ হোসেনের উপর হামলা চালায়। হামলা ঘটনা টের পেয়ে এক্সকাভেটার চালকরা মেশিন ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা এক্সকাভেটার দুটি প্রথমে ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে মেশিন দুটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুর্বৃত্তরা প্রায় দুই ঘন্টা ঘরে তান্ডব চালায়। তারা চলে যাবার সময় এক্সকাভেটারের মালিকের একটি মোটর সাইকেল, এক্সকাভেটারের দুটি ব্যাটারি, শ্রমিকদের দুটি মুঠো ফোন নিয়ে যায়। রাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এ ঘটনা জানানোর পর খোকসা ফায়ার ব্রিগেডের একটি ইউনিট ঘটনা স্থলে পৌচ্ছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে পুলিশ সহ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়।

সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গড়াই নদী উৎসমুখ থেকে ২শ মিটার দূরে খালটির উৎস্যমুখ প্রান্তে দুর্বৃত্তদের পুড়িয়ে দেওয়া এক্সকাভেটার দুটি দাঁড়িয়ে আছে। দ্বিপচর ও আশে পাশের নারী পুরুষ ভিড় করেছেন। এক্সকাভেটারের মালিক পক্ষের লোকেরা ক্ষতি নিরুপনে ব্যস্ত। খান খনন প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সকালে মেশিন পোড়ানোর খবর শুনে দেখতে এসেছেন দ্বিপচরের বাসিন্দার মহিরন বিবি। প্রায় ৩০ বছর চরে বসবাস করেন। সরকারী কাজের মেশিন পোড়ানোয় তিনি দুঃখ পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, একটা ভালো কাজ বন্ধ করেছে সন্ত্রাসীরা। এই দিক দিয়ে বড় খাল হয়ে মাঠের অনেক জমির পানি নদীতে নেমে যাবে। তাতে ধান পাট ভালো হবে।

দ্বিপচরের ভূমিহীন নেতা মজিবর বলেন, মেশিন পোড়ানোর সাথে যারাই থাক তারা কাজটি ভালো করেনি। তিনিও এই ন্যাকার জনক কাজের সাথে জরিতদের চিহ্নিত করে আইনে সপর্দের দাবি করেন।

দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার স্কেবিটারের চালকের সহযোগী সবুজ হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১১ টায় তিনি ও দুই নৈশ প্রহরী মেশিনের পাষে ব্রিজের উপর বসে ছিলেন। তখন ড্রাইভাররা মাটি কাটার কাজ করছিলেন। গড়াই নদীর দিক থেকে ১৫/২০ জন অস্ত্রধারী এসে তাকে আটকায়। তাদের প্রত্যেকের হাতে বন্দুক পিস্ত ক্রিচ ছিলো। হামলাকারীরা তাকেই বেশী মারপিট করে। এ সময় চালকরা পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে মেশিন দুটি পুড়িয়ে দেয়। কোম্পানির একটি মোটর সাইকেল, শ্রমিকদের দুটি মুঠো ফোন ও এক্সকাভেটারের ব্যাটারী নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকেও তুলে নিয়ে যায়। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি লিচু বাগানের কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এক্সকাভেটারের চালক সিয়াম মন্ডল জানান, রাতে তারা মেশিন চালিয়ে মাটি কাটছিলেন। সন্ত্রাসীরা হামলা শুরু কিছু সময় পর অন্য একজন ড্রাইভার মেশিন ফেলে তার কাছে চলে আসেন। এ সময় তারা দুজনে এক সাথে পালিয়ে যান। তারা সরকারী কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেনকে জানালে রাত ২টার দিকে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসেন। তারা মেশিনের আগুন নেভান। পরে পুলিশ ও সরকারী কর্মকর্তারা আসেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাল খনন প্রকল্পটির একমাত্র কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেন বলেন, ঘটনাটি ক্লু-লেস। ¯্রফে ডাকাতি ছাড়া কিছু বলা যায় না। এ ছাড়া তারা আর কোন অপসন খুজে পাচ্ছেন না।

এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, সরকারী জমি দিয়ে খাল খনন ও খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মান হওয়ায় চরে সববাস কারী ভূমিহীনরা খুব খুশি। তাদের কাছে কেউ চাঁদাও চায়নি। কি কারনে এ ঘটনা ঘটানো হলো তা বুঝে উঠতে পাছেন না। স্কেবিটারের মালিক পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মামলা পক্রিয়াধীন। অপরাধীদের সনাক্তের কাজ চলছে।

রাত সাড়ে ৮টার পর মামলার আপডেট জানতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ওসি তদন্ত মোশরাফ হোসেনের সাথে কথা বলা হলে তিনি নিশ্চিত করেন, মামলার রেকর্ডের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বাদি এলেই মামলা রেকর্ড করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসমিন জাহান বলেন, সরকারের অগ্রধীকার প্রকল্পে হামলার ঘটনার উৎস্য উৎঘাটন করতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্ত ভোগীরা মামলা করবেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।