মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২৬.
Home Blog Page 154

পদ্মা নদীর বালুমহালে সন্ত্রাসীদের তান্ডব

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

পদ্মা নদীর বালুমহালের দখল নিতে দুটি বালুঘাটে ব্যাপক গুলি বর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তান্ডবকারীরা প্রায় দেড় ডজন মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ফেরিঘাট বালুমহাল এবং মসলেমপুর ১২ মাইল বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র মহড়া এবং উত্তেজনা চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানা গেছে, দুপুরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মোটরসাইকেল নিয়ে ভেড়ামারার পুরাতন ফেরিঘাট বালুমহালে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ৭০-৮০টি মোটরসাইকেলে বহর নিয়ে হামলা চালায়। শতাধিক সন্ত্রাসী বালু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে বালু ব্যবসায়ীরা আড়ালে পালিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তান্ডব চালায়। এসময় তারা ব্যবসায়ীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

বাহিরচর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও বালু ব্যবসায়ী সোহেল রানা ভুঁইয়া বাবু জানান, ১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে একদল সন্ত্রাসী বালুঘাটে এসে জোর করে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করতে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তারা ঘোষণা দেন, কোনো সন্ত্রাসীকে অতিরিক্ত চাঁদা দেবেন না।

এ নিয়ে মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এরইমধ্যে বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলামের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত রোকনের নেতৃত্বে ৭০-৮০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক সশস্ত্র ক্যাডার বালুঘাটে প্রবেশ করেই এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। ককটেল নিক্ষেপ করেন। এসময় ১৮টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং পাঁচটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিএনপি নেতা এবং সাবেক এমপি অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের ভাতিজা জহুরুল ইসলাম বিজলী জানান, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম চুনুর নামে ঘাট ছিল। টাকা ওঠাতেন জাকিরুল নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। এই বালুঘাট দখল নিতে আধিপত্য বিস্তার করতেই রোকনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়।

আরেক বিএনপি নেতা বিপ্লব মালিথা বলেন, নাইন এম এম পিস্তল, শটগান, দোনলা বন্দুকসহ প্রত্যেকের হাতেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। তারা প্রক্যাশে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছেন।

এদিকে ফেরিঘাটের বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই সশস্ত্র এই বাহিনী চলে যায় পাশের ১২ মাইল বালুঘাট দখল নিতে। সেখানেও একইভাবে তান্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। বালুঘাটে থাকা বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বিশু এবং তার ছেলে শামসুজ্জামান সবুজকে খুঁজতে থাকেন। এসময় অন্তত ১০-১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়। এসময় পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও একটিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

শামসুজ্জামান সবুজ অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম আলমের নির্দেশে তার ক্যাডার রোকন, উজ্জ্বলের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘাটে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আমার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।

বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম বিশু বলেন, বালুঘাটের দখল নিতে ক্যাডাররা এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন – ভোটার হতে পারবেন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

ভেড়ামারা থানা পুলিশের পৃথক দল দুটি বালুঘাট এলাকায় পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন – জমি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল হতদারিদ্র কৃষকের

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটার হতে পারবেন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যোগ্য নাগরিকরা ভোটার হতে পারবেন। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এতে বলা হয়, ১ জানুয়ারি ২০০৭ বা এর আগে যেসব নাগরিকের জন্ম হয়েছে এবং আগের হালনাগাদে যারা বাদ পড়েছেন বা অন্য কোন কারণে ভোটার তালিকাভুক্ত হতে পারেননি; তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার হতে পারবেন।

ভোটার হতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হবে-

# ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদের কপি।
# জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব সনদের কপি।
# নিকট আত্মীয়ের (পিতা-মাতা, ভাই-বোন প্রভৃতি) জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
# এসএসসি/দাখিল/সমমান অথবা অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
# ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি/চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের ফটোকপি)।

আরও পড়ুন – জমি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল হতদারিদ্র কৃষকের 

২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ মার্চ।

আরও পড়ুন – খোকসায় সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ

সবশেষ গত ২ মার্চ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ১২ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন ভোটার যুক্ত হবে প্রায় ১৭ লাখ।

জমি নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল হতদারিদ্র কৃষকের

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু জমিজমা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের কিলঘুষিতে রাহাজ উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলা সিঙ্গা গ্রামে প্রতিবেশির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে রাহাজ উদ্দীনের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার ওই গ্রামের তাহাজ উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মেহের আলীর ছেলে স্বপনের নামে হরিণাকুন্ডু থানায় হত্যা মামলার আবেদন করেছেন নিহতের ছেলে পলাশ হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশি স্বপনের সঙ্গে এক শতকেরও কম জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল রাহাজের। এ নিয়ে সিঙ্গা গ্রামের বাজারে রাহাজ ও স্বপনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় স্বপন তাকে কিলঘুষি মারতে থাকে। পরে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন রাহাজ উদ্দিন। কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রহমান জানান, সকালে বাজারে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। শুনেছি স্বপন তার(নিহতকে)গলাই গামছা দিয়ে টেনে নিয়ে বেড়ায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রাহাজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হয়। এ সময় তিনি মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন – খোকসায় সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ

নিহতের ছেলে পলাশ অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে আমার পিতাকে মারধর করে স্বপন। তাকে গলাই গামছা পেঁচিয়ে টানাহেঁচড়া করে। ফলে ঘটনাস্থলেই পিতা মারা গেছেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন – খোকসায় মহান বিজয় দিবস পালিত

হরিণাকুন্ডু থানার ওসি এম এ রউফ খান বলেন, ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে রাহাজ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া হয়ে মারা যেতে পারেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্নয়ে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট হাতে পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

খোকসায় সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ

0

ষ্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় সরকার নির্ধারিত দামে সার পাবার দাবিতে কৃষকরা বিক্ষোভ করেছে। সরকারি সারের বরাদ্দ ও প্রয়োজনের কোন তথ্য নেই কৃষি কর্মকর্তার কাছে।

মঙ্গলবার সকালে খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠ থেকে কৃষকরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারী কৃষকরা উপজেলা পরিষদে ঢুকে বিক্ষোভ করতে থাকে। কিছু সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্ষোভকারী কৃষকদের সাথে কথা বলেন। তিনি ১০জন কৃষক প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করার জন্য ডাকেন। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী বৈঠক করেন। পরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকদের সরকারি দামে সার বিক্রির প্রতিশ্রæতি দেন।

উপজেলা শিমুলিয়া, জানিপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মালিগ্রাম, শিমুলিয়া ,মানিকাট, কমলাপুর, নারায়ণপুর, বশয়াসহ প্রায় ১২ টি গ্রামের কয়েকশ কৃষক বিক্ষোভে অংশ নেন।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তার জানা নেই রবি ফসল, পেঁয়াজ, ভুট্টা ও বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্র। বলতে পারেনি এ মৌসূমে কতটন সারের প্রয়োজন। বিএডিসি বা বিএসটিআই এর ২১ জন ডিলালের জন্য কি পরিমানের রাসায়নিক সার সরকারি ভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বৃদ্ধ কৃষক ইয়ার আলী দাবি করেন, সরকারের অনেক ডিলার আছেন যারা সার মজুত করে কৃত্রিম ভাবে সারের সংকট সৃষ্টি করেছেন। সরকারি ভাবে এক কেজি ফসফেট সারের দাম ২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই সার এক কেজি ৪৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাংলা ড্যাপ সার ২৭ টাকা বিক্রির কথা থাকলেও ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাও আবার দিনের বেলায় সার মেলে না। রাতের আধারে দুই তিন গুন চড়া দামে সার নিতে হচ্ছে।

কমলাপুরের কৃষক আরিফ জানান তিনি পেঁয়াজ আবাদের জন্য ঋনের টাকায় ৭ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু সারের অভাবে জমি আবাদ করতে পারছে না। তার পেঁয়াজ আবাদ বিলম্ব হচ্ছে। সারের অভাবে তিনি সব হারাতে বসেছেন।

বিএডিসির ডিলার আসাদুজ্জামান। তিনি জেলা সদরে বসবাস করেন। তার প্রতিনিধি অজিৎ কুমার মহাজন জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিএডিসির ১১ জন ডিলার প্রায় ৫৩৩৬ বস্তা টিএসপি ও এমওপি সারের ডিও করেছেন। এ সময় বিএনটিআই এর ১০জন ডিলার সমপরিমান রাসায়নিক সার ডিও করেছেন। যা দিয়ে খোকসার সব জমি ঢেকে দেওয়া যায়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, অনেকে অধিক মুনাফার আশায় এ পরিস্থিতর সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও স্বীকার করেন, দুইজন ব্যবসায়ীর হাতে ৯টি ডিলার শিপ রয়েছে।

আরও পড়ুন – খোকসায় মহান বিজয় দিবস পালিত

উপজেলা কৃষি কর্মকতা আব্দুল্লাহ আল নোমান মুঠোফোনে বলেন, সারের সংকট হয়েছে তা তার জানা নেই। তিনি জানেন না রবি ফসল, পেঁয়াজ, ভুট্টা, বোরো ধান আবাদে এ মৌসূমে কত মেট্রিক টন সারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে পরে জানাবেন বলে ফোন ছেড়ে দেন।

আরও পড়ুন – রমজানে ভোজ্য তেলে ভ্যাট কমিয়েছে সরকার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দিপন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকদের সামনে হাজির হয়ে বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে উপজেলা ২৯টি পয়েন্টে কৃষকদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের সার সরবরাহ নিশ্চিত করবেন। তিনি আরও জানান, সার সংকট নিয়ে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেন নি।

খোকসায় মহান বিজয় দিবস পালিত

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা আয়োজনের মধ্যে মহান বিজয় পালিত হয়েছে।

সোমবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতার শুভ সূচনা হয়। সকাল ৮ টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সংসদ চত্বরের শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এখান থেকে আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক ঘুরে খোকসা উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন উপজেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এবছরই প্রথম উপজেলা চত্বরে পুলিশ আনসার ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সালাম প্রদর্শন করেন। দুপুরে উপজেলা চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা আয়োজন করা হয়।

কুচকাওয়াজ ও সালাম প্রধান অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন ও থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ মঈনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেশমা খাতুন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমজাদ আলী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের ফজলুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামরুজ্জামান সোহেল প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

মহান বিজয দিবস উপলক্ষে উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপজেলা মডেল মসজিদসহ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও বিভিন্ন মসজিদে বাদ জুম্মা দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এছাড়া বেলা ১১ টায় উপজেলা চত্বরে দিনব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়।

মহান বিজয় দিবস জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন পৃথক র‌্যালী ও সমাবেশ করেছে।

সকালে জামায়াতে ইসলামী খোকসা শাখার নেতাকর্মীরা খোকসা ডিগ্রী কলেজ এলাকায় খন্ড খন্ডো মিছিলসহ জমায়েত হয়। পরে তারা র‌্যালীসহ উপজেলা পরিষদ ও বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষীন করে।

আরও পড়ুন – রমজানে ভোজ্য তেলে ভ্যাট কমিয়েছে সরকার

এ দিন সকালে খোকসা বাসস্ট্যান্ডে ইসলামী আন্দোলন সমাবেশ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ শাজাহান আলী, এ সময় বক্তব্য রাখেন ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন খোকসা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার খান, ইসলামী যুব আন্দোলনের জাহাঙ্গীর হোসাইন, আসলাম হোসাইন প্রমুখ।

আরও পড়ুন – কুষ্টিয়ার মোকামে দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম

ইসলাম ইসলামী যুব আন্দোলন খোকসা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

রমজানে ভোজ্য তেলে ভ্যাট কমিয়েছে সরকার

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন রমজানে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সয়াবিন তেলসহ কয়েকটি ভোজ্যতেলে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আমদানি পর্যায়ে করের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, সয়াবিন, পাম, সানফ্লাওয়ার এবং ক্যানোলা তেলের বিক্রয় স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা কার্যকর থাকবে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এছাড়া, এসব পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে ভোজ্যতেলের ওপর কোনো শুল্ক-কর অবশিষ্ট থাকছে না।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত ১৭ অক্টোবর এবং ১৯ নভেম্বর জারি করা ভ্যাট ও শুল্ক হ্রাসের প্রজ্ঞাপনগুলোর মেয়াদ ছিল ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবার নতুন প্রজ্ঞাপনের আওতায় সয়াবিন ও পামতেলের পাশাপাশি সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা তেলকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় রাখার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা তেলের আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, অগ্রিম কর (এটি), এবং অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাট ও শুল্ক হ্রাসের ফলে এসব তেলের আমদানি ব্যয় লিটারপ্রতি ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

আরও পড়ুন – কুষ্টিয়ার মোকামে দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আশা প্রকাশ করেছে যে, এ উদ্যোগে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে পণ্যের দাম ভোক্তাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

আরও পড়ুন – সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে বিএনপি’র স্বাগত

রমজান মাসের চাহিদা বিবেচনায় এনে গৃহীত এ পদক্ষেপ ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার মোকামে দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে সবধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পরেছে খুচরা বাজারে। কেজিপ্রতি মিনিকেটসহ সবধরনের চালের দাম বেড়েছে চার টাকা।

দফায় দফায় চালের দাম বাড়ায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ক্ষুব্ধ ক্রেতারা বলছেন, যেভাবে সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে চালের দাম একশো টাকায় পোঁছাতে খুব বেশি দিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে না।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) কুষ্টিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত পৌর বাজার এবং বড় বাজারে খোঁজ নিয়ে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সবধরনের চালের দাম কেজিতে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চ শ্রেণির সবচেয়ে বেশি পছন্দের মিনিকেট (সরু) চাল ৭০ টাকা থেকে চার টাকা বেড়ে ৭৪ টাকা, বাসমতি চাল ৮৮ টাকার স্থলে ৯২ টাকা, কাজললতা ৬৬ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, আঠাশ (মোটা) চাল ৫৪ টাকার পরিবর্তে ৫৮ টাকা এবং স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা কেজির বদলে ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং মিনিকেট চালের সবচেয়ে বড় মোকাম হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত কুষ্টিয়ার খাজানগর মিলগেটেও সবধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এই মোকামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দফায় চালের দাম বাড়িয়েছেন মিল মালিকরা।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান জানান, ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই কুষ্টিয়ায় চালের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। মিনিকেট চাল ১৫ দিন আগে ৫০ কেজির বস্তা ছিল ৩৪০০ টাকা। এখন দাম প্রতিকেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। অন্যান্য চালের মধ্যে বাসমতি চাল কেজিতে তিন টাকা বেড়েছে। আঠাশ চাল কেজিতে দুই টাকা এবং স্বর্ণাসহ অন্যান্য চালের দামও ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই টাকা বেড়েছে। বাজারে মোটা স্বর্ণা এবং আঠাশ মণপ্রতি ১৫০ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট ধান প্রতিমণে ২০০ টাকা করে বেড়েছে। এখন মিনিকেটের সিজন না। মৌসুম আসতে আরও তিন মাস সময় লাগবে।

জয়নাল আবেদীন দাবি করেন, মিনিকেট এবং বাসমতি চালের দাম বাড়লে এর প্রভাব অন্য চালের ওপর গিয়ে পড়ে। এ সমস্যার সমাধানে দ্রæত সরু চাল আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং চালের বাজারের পাশাপাশি মিল-মালিকদের ধান-চাল মজুত নিয়মিত কঠোরভাবে মনিটরিং করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মিনিকেট চালের জন্য কুষ্টিয়ার খাজানগর সারা দেশে পরিচিত। এখানে ৬৪টি অটো চালকলে এই চাল উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন শত শত ট্রাক মিনিকেট চাল ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। মিলমালিকেরা বলছেন, গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে প্রতিকেজি মিনিকেট চালের দাম ছিল ৬৭ টাকা। ১০ অক্টোবর সেই দাম কমে দাঁড়ায় সাড়ে ৬৬ টাকায়। এরপর থেকে এই চালের চাহিদা বাড়তে থাকে।

খাজানগরের গোল্ডেন রাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট চাল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ধানের দাম মণপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে যে ধানের দাম ছিল মণ ১ হাজার ৫০০ টাকা, তা এখন ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মিলগেটে মিনিকেট চালের দাম বাড়াতে হয়েছে।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের চাল ব্যবসায়ী হাজি আসাদুজ্জামান বলেন, পুরোনো ধানের ক্রাইসিস চলছে। পুরোনো ধান বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। মিনিকেট ধান ১৮০০ থেকে ১৮২০ টাকা, বাসমতি ধান ২১০০ টাকা মণ দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ধানের দাম বেশি হলে মিলগেটেও চালের দাম বেড়ে যায়। আর মিলগেটে বেশি দামে চাল কিনতে হলে খুচরা বাজারে অটোমেটিক চালের দাম বেড়ে যায়।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারে চাল কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুষ্টিয়ায় চালের দাম যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে কেজি ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকতে আর খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। তিনি চালের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট এবং সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

খাজানগরের কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত খাজানগরের ১০-১২ জন ব্যবসায়ী দীর্ঘ প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে মিনিকেট চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি মাহবুব উল আলম হানিফের অতি ঘনিষ্ট এসব ব্যবসায়ীরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে দফায় দফায় চালের দাম বাড়িয়েছেন।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর এসব ব্যবসায়ীরা অন্তর্র্বতী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সিন্ডিকেট করে চালের দাম ইচ্ছেমতো বাড়াচ্ছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন – সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে বিএনপি’র স্বাগত

কুষ্টিয়ার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান বলেন, এবার ধানের ফলন আগের চেয়ে কম হয়েছে। তাই দেশে ধানের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তারপরও চালের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা গুটিকয়েক মিলমালিকের কারণে। তারা করপোরেট চাল কোম্পানির সঙ্গে মিল রেখে চালের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দাম বাড়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন –ঝিনাইদহ বিজয় দিবসে বর্নাঢ্য আয়োজন

জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোথাও কোনো অসংগতি আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে কোনো গড়মিল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে বিএনপি’র স্বাগত

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে স্বাগত জনিয়েছে বিএনপি।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ স্বাগত জানান।

মির্জা আব্বাস বলেন, আশা করি, অন্তর্র্বতী সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

আরও পড়ুন – ঝিনাইদহ বিজয় দিবসে বর্নাঢ্য আয়োজন

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর জনগণের চাওয়া একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। তাই অতিদ্রæত সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে একটি গণতান্ত্রিক সরকার উপহার দিতে হবে।

আরও পড়ুন – বিজয় দিবসের ভাষণে বারবার ঐক্যের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা

এদিন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ঝিনাইদহ বিজয় দিবসে বর্নাঢ্য আয়োজন

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মহান বিজয় দিবসে শোভাযাত্রা ও র‌্যালি করেছে।

সোমবার বেলা ১২ টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা স্টান্ডে গিয়ে শেষ হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পামাল্য অর্পণ করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনাসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।

আরও পড়ুন – বিজয় দিবসের ভাষণে বারবার ঐক্যের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা

এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনেও শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নলডাঙ্গা ভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এতে কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক নজরুল ইসলাম তোতাসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী অংশ নেয়।

আরও পড়ুন – বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ইউএনও গাড়ি ভাংচুর

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, সাবেক সভাপতি এম রায়হান, এম সাইফুল মাবুদ, আসিফ ইকবাল মাখন, এম, রবিউল ইসলাম রবি, আব্দুল হাই, সোহেল আহম্মেদ, শিপলু জামান প্রমুখ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসের ভাষণে বারবার ঐক্যের কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা

0
ছবি সংগৃহীত

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, শক্তিশালী স্বৈরাচারী সরকারকে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা হটাতে পেরেছি। তারা এখনো সর্বশক্তি দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যকে নস্যাৎ করতে চাচ্ছে, একের প্রতি অন্যের বিষ উগড়ে দিতে চাচ্ছে। তাদের এই হীন প্রচেষ্টাকে কোনোভাবেই সফল হতে দেবেন না।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি একাধিক প্রসঙ্গে একাধিকবার ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বিজয়ের মাস হোক নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে জাতির মহা ঐক্যের মাস। বিজয়ের মাস হোক ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করার মাস।

ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য ‘জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন’ প্রতিষ্ঠা করার কথাও জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, ‘এর কাজ হবে রাজনৈতিক দলসহ সকল পক্ষের সঙ্গে মতামত বিনিময় করে যে সমস্ত বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপন হবে সেগুলো চিহ্নিত করা এবং বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা।’ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান উপদেষ্টা নিজেই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছরের বিজয় দিবস বিশেষ কারণে মহা আনন্দের দিন। মাত্র চার মাস আগে একটি অসম্ভব সম্ভব হয়ে গেল, দেশের সবাই মিলে একজোটে হুংকার দিয়ে উঠলো, পৃথিবীর ঘৃণ্যতম স্বৈরাচারী শাসককে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে আমাদের প্রিয় দেশকে মুক্ত করেছে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান। যে হাজার হাজার শহীদ এবং আহতদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার অটুট ঐক্যের মাধ্যমে এই গণ-অভ্যুত্থান সম্ভব হলো তাদের সবাইকে স্মরণ করি এবং আজ এবারের মহা বিজয়ের দিনে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ার তাগিদে ছাত্র জনতা স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রক্ত দিয়ে চার মাস আগে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে ঐক্য গড়ে তুলেছিল, সে ঐক্য এখনো পাথরের মতো মজবুত আছে। মাত্র কয়েক দিন আগে জাতি আবার গর্জে উঠে সমগ্র পৃথিবীকে সেকথা জানিয়ে দিয়েছে।’

‘যখন পরাজিত শক্তি নড়েচড়ে ওঠার চেষ্টা করছিল, সকল রাজনৈতিক দলের এবং সকল ধর্মের শীর্ষ ব্যক্তিদের এবং ছাত্রদের সমাবেশের মাধ্যমে এক কণ্ঠে সজোরে ঘোষণা দিয়েছিল আমরা যে নিরেট ঐক্যের মাধ্যমে অভ্যুত্থান করেছি সেই ঐক্য আরও জোরদার হয়েছে। চার মাসের ব্যবধানে আমাদের ঐক্য কোথাও শিথিল হয়নি। নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্পে আমরা অটুট আছি।’ যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘বহির্বিশ্বে চাতুর্যপূর্ণ প্রচারণা দিয়ে যারা আমাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তারা দূরত্ব সৃষ্টি তো করতে পারেইনি, বরং সারা জাতিকে সগৌরবে উচ্চকণ্ঠে তার ঐক্যকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে উজ্জীবিত করেছে।’

‘পরাজিত শক্তি তাদের পরাজয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তারা প্রতিদিন দেশের ভেতরে এবং বাইরে থেকে জনতার অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করার জন্য বিপুল অর্থব্যয়ে নানা ভঙ্গিতে তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাচার করা হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের আয়ত্তে রয়েছে। তাদের সুবিধাভোগীরা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। আমাদের ঐক্য অটুট থাকলে তারা আমাদেরকে আমাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে ব্যর্থ করতে পারবে না। সজাগ থাকুন। নিজের লক্ষ্যকে জাতির লক্ষ্যের সঙ্গে একীভূত করুন। পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদেরকে আমাদের লক্ষ্য অর্জন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।’

আরও পড়ুন – বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ইউএনও গাড়ি ভাংচুর

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই, বিশ্বের কাছে দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সত্যই হোক আমাদের হাতিয়ার।’

আরও পড়ুন – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের ওপর হামলায় একজন গ্রেফতার

‘জাতির এই নিরেট ঐক্য এই বছরের বিজয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখবে। ইতিহাসের অনন্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করে রাখবে। এই ঐতিহাসিক অর্জনের জন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাইকে আমার অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই ঐক্যের জোরে আমরা আমাদের সকল সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে পারবো।’ বলে আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টা।

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষককে হত্যার ঘটনায় চারজনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষক সাহাবুল ইসলাম মন্ডলকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে চারজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদন্ডের...

প্লাটফর্ম না থাকায় ট্রেনে উঠতে হয় যুদ্ধ করে

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসা রেল ষ্টেশনের ২ নম্বর লাইনে প্লাটফর্ম নাই। সমতল থেকে ট্রেনের কামরার দূরত্ব খাড়া ৫ ফুট উচুতে। ফলে যাত্রীরদের ট্রেনে উঠা-নামা করতে...

অলৌকিক ভাবে প্রাণে বেঁচে গেলো বাসের ৪০ যাত্রী

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া রাজবাড়ী সড়কের খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখমুখি সংঘর্ষে গাড়ি দুটি দুমড়ে মুচরে গেলেও অলৌকিকভাবে ৪০ যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেলো। সোমবার বিকাল চারটার...

ঘাট পারে বিরম্বনা

নদীতে চর যেগে ওঠায় কয়েক সপ্তাহ আগেই খেয়া ঘাটে নৌকা পারা বন্ধ হয়ে যায়। গড়াই নদীতে বাঁশের চরাট দিয়ে যাত্রী পারপার হচ্ছিলো। কিন্তু রবিবার...

আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ, ঢাকায় স্থানান্তর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে শফিকুল ইসলাম আজম (৫২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক...