কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি মসজিদে “ইসকন” বিরোধী কথা বলায় ইমামকে চাকুরীচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সোন্দাহ বাইতুল হামদ্ জামে মসজিদের ইমাম মিনহাজ আল আদনানের সাথে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে ওই ইমাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে।
চাকুরিচ্যুত ইমামের অভিযোগ গত শুক্রবার জুমআর নামাজে খুতবা শেষে ‘ইসকন’ নিয়ে আলোচনা করায় তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদ কমিটি বলছে, প্রকাশ্যে কমিটির বিরুদ্ধে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ – সুবিধা নিয়ে সমালোচনা করায় তার চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।
ইমাম মিনহাজ আল আদনান মাগুরা জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত ১ নভেম্বর থেকে সোন্দাহ বাইতুল হামদ্ জামে মসজিদে আট হাজার টাকা বেতনে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রবিবার দুপুরে মসজিদ প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, ইমাম মিনহাজ আল আদনান মসজিদের সামনে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত শুক্রবার জুমআর নামাজে খুতবায় তাওহীদ, আকিদা ও ইমান নিয়ে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে দেশের চলমান পরিস্থিতি ও ইসকন নিয়ে আলোচনা হয়। সেদিন তাৎক্ষণিক কেউ কিছু বলেনি। গত শনিবার রাতে মসজিদের সহ সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, হিসাবরক্ষক আবুল হোসেন শমছেরসহ কয়েকজন তাকে বলেন যে, মসজিদে ইসকন ও বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা যাবেনা। এনিয়ে কিছুটা কথাকাটি হয়। এরপর রবিবার ফজরের নামাজের পর তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
তার ভাষ্য, ইসকন নিয়ে আলোচনা করায় তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। এটা তার সাথে অন্যায় হয়েছে। এর একটা বিচার হওয়া উচিৎ।
মসজিদের সহ সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, হিসাবরক্ষক আবুল হোসেন শমছের ইমামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, গত ২২ নভেম্বর ইমাম সাহেব মসজিদে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রকাশ্যে কমিটির বিরুদ্ধে অসৎ বক্তব্য ও আচরণ করেছেন। সেজন্য কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, গত শুক্রবার মসজিদে ইমাম ইসকন নিয়ে কথা বলেছেন। তবে এনিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
স্থানীয় মুসল্লি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবারে হুজুর তাওহীদ, আকিদার পাশাপাশি ইসকন নিয়ে আলোচনা করেছিল। সেজন্য তাকে মসজিদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ইমাম মসজিদে ইসকন ও বেতন নিয়ে আলোচনা করায় কমিটির সিংহভাগ সদস্যদের সম্মতিতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, আরও কয়েক মাস ইমামকে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ইমামের ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানাবেন তিনি।