রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬.
Home Blog Page 34

মনোনয়ন ফরম কিনলেন আমির হামজা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

রিকশায় চড়ে এসে মনোনয়ন ফরম কিনলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আমির হামজা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রিকশাযোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পৌঁছান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বিতর্কিত বক্তব্যে নিয়মিত আলোচনায় থাকা ইসলামী বক্তা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজা সম্প্রতি অনেকটাই নীরব। গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে না তার চটকদার বক্তব্য। আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়, এমন কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। আজকে রিকশাযোগে এসে আবারও দৃষ্টি কাড়লেন গণমাধ্যম কর্মীদের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মাজহারুল হক মমিন ও খায়রুল ইসলাম রবিন, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি ডা. রায়হান আলী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান বোরহান ও আলী মুজাহিদ। এছাড়া কুষ্টিয়া শহর শিবিরের সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, সাবেক সভাপতি সেলিম রেজাসহ জামায়াত ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের আমির হামজা বলেন, হত্যাকান্ড কখনো সমর্থন করি না যারা ঘটিয়েছে আমরা তাদের বিচার চাই। এ হত্যাকান্ডের মধ্যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আছে। অনেকে চাচ্ছে নির্বাচন পিছেয়ে যাক এবং দেশটা অন্যের হাতে চলে যাক। নির্বাচিত সরকার না আসলে কি হয় আমরা তো দেখেছি সুতরাং এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নির্বাচনে যে তারিখ দেওয়া আছে আশা করি এই তারিখেই নির্বাচন হয়ে যাবে।

আমির হামজা আরও বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে মাঠে আছি, সে হিসাবে নির্বাচনের পরিবেশ যেভাবে চলছে এভাবে চললে আমরা আশাবাদী জয়ী হব। আমাদের দুইটা থানায় প্রত্যেক ঘরের দুয়ারে আমরা গিয়েছি, মানুষের যেভাবে সাড়া পেয়েছি আমরা আশা করছি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হব।

খোকসায় একটি প্রকল্পের ২২ প্রশিক্ষক ভাতা পায়না ছয়মাস

0

স্টাফ রিপোর্টার

সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় পরিচালিত ইউনিয়ন ভিত্তিক কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রকল্পের ২২ জন প্রশিক্ষক ৬ মাস ভাতার টাকা পায়না। প্রশিক্ষার্থী কিশোর কিশোরীদের বরাদ্দের নাস্তা দেওয়া হয় না। ফলে প্রকল্পটি বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

কুষ্টিয়ার খোকসার পৌরসভা ও ৯ ইউনিয়নে সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ২০১৯ সালে থেকে কিশোর কিশোরী ক্লাব নামের সহশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ১০টি প্রশিক্ষন কেন্দ্র চালু রয়েছে। কবিতা আবৃত্তি, গান, মার্শাল আট ও জেন্ডার বিষয়ে কিশোর কিশোরীদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে প্রকল্পটি। এক বছর মেয়াদি প্রকল্পে প্রতিটি ইউনিয়নের ৩০ জন কিশোর কিশোরকে সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার দুই দির প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে পালন করছিলো।

খোজ নিয়ে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে পর এ প্রকল্পে সরকারী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নতুন অর্থ বরাদ্দ না আসার ফলে জুলাই মাস থেকে কিশোর-কিশোর ক্লাব প্রকল্পটি দুই জন জেন্ডার প্রমোটার সহ ২২ জন প্রশিক্ষকের ভাতা টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিশোর কিশোরীদের সপ্তাহের দুটি প্রশিক্ষন ক্লাসের নাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। জন প্রতি নাস্তার জন্য বরাদ্দ ছিলো ৩০ টাকা। তার পরেও খুরিয়ে খুরিয়ে চলছিলো প্রকল্পটি। দিনদিন প্রতিটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ওসমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কানে ভেসে এলো সমবেত কন্ঠে লোকগীতি“ দে রে পাল তুলে দে, মাঝি হেলা করিস না”। উকি দিয়ে দেখা গেলো একটি শ্রেণি কক্ষের ভিতরে ১০/১২ জন কিশোর কিশোর সেখান হারমনিয়মের সাথে গানটি ঠিক করছে। এতজন প্রশিক্ষকও আছেন।

এই ক্লাবেই সদস্য সাবেকুর নাহার এ্যানি। অষ্টম শ্রেনির ছাত্রী। নিজে হারমনি বাজিয়ে গায়নে পারে না। তবে প্রশিক্ষকের সহযোগীতায় গেয়ে শোনালেন অন্য একটি দেশ গান। মেয়েটির বেশ সুরেলা কন্ঠ। ভালো গায়কী।

প্রশিক্ষক মামুনূর রশিদ জানালের তাদের দুর অবস্থার কথা। সপ্তাহে প্রতিটি ক্লাসের জন্য তাকে ৫শ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তাও আবার জুলাই মাসের পর আর দেওয়া হয়নি। একই সময় থেকে কিশোর কিশোরীদের নাস্তাও বন্ধ রয়েছে। এক সময় তাদের ভাতা হয়তো পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এই ক্লাসে ৩০ জন কিশোর কিশোরী আছে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। তাদের সেশন শেষ হয়ে যাবে। তাদের নাস্তার টাকার কি হবে।

প্রশিক্ষক রেজওয়ান আলী খান ও কবি বিশ্বাস জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে কিশোর কিশোরীরা সহ শিক্ষা হিসেবে গান, কবিতা, মার্শঅল আট ও জেন্ডার সম্পর্কে জনতে পারছিলো। কিন্তু প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হলে গ্রামের খেটে খাওয়া শ্রেণির মানুষের সন্তানরা এক ধাপ পিছিয়ে যাবে। তারা প্রকল্পটি চালু রাখুর জন্য আহবান জানান।

উপজেলা মহিলা বিষয়োক কর্মকর্তা রুবি আক্তার জানান, সামাজি প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রকল্প গ্রামের ছেলে মেয়েদের জন্য সময় উপযোগী প্রকল্প। প্রকল্পটি বন্ধ হয়নি। চলতি বছরের মে মাসের পর আর অর্থ বরাদ্দ না আসায় প্রশিক্ষকদের সন্মানী ও কিশোর কিশোরীদের নাস্তা বন্ধ রয়েছে। আগামীতে বরাদ্দ আসবে বলে তিনি শুনেছেন।

গড়াই নদীতে নিখোঁজ প্রতিবন্ধি যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের পরের দিন প্রতিবন্ধি যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার ব্রিগেডের ডুবুরী দল।

গড়াই নদীর চাঁদট খেয়া ঘাট থেকে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০ টায় প্রতিবন্ধি ও মৃগীরোগে আক্রান্ত বাবু মুন্সী (২৫) এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সে চাঁদট বাজার এলাকার ইকবাল মুন্সীর ছেলে। নিহত যুবক ভিক্ষাবৃত্তি পেয়ায় নিয়োজিত ছিলো। সে তার বৃদ্ধ দাদার সাথে বসবাস করতো।

পরিবার ও ফায়ার ব্রিগেড সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল ৩টার দিকে প্রতিবন্ধি বাবু একা গড়াই নদীর চাঁদট খেয়াঘাট এলাকায় গোসেল করতে যায়। বিকাল পর্যন্ত সে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকেরা তার সন্ধ্যানে যায়। নদীর ঘাটে ওই যুবকের শুকনো কাপড় ও স্যান্ডেলের নিচে রেখে যাওয়া কিছু টাকা পাওয়া যায়। নদীতে যুবক নিখোঁজের বিষয়ে খোকসা ফায়ার ব্রিগেডকে জানালে তাদের একটি ইউনিট নদীতে মৃতদেহের সন্ধ্যান চালায়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যুবকের সন্ধ্যানে ব্যর্থ হয়ে তারা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে। পরদিন মঙ্গলবার সকালে খুলনা থেকে আসা ফায়ার ব্রিগেডের ডুবুরী ইউনিটের সদস্যরা অভিযান চালায়। বেলা পৌনে ১০টার দিকে বাবু’র মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নিহত প্রতিবন্ধি বাবুর দাদা মকবুল মুন্সী জানায়, সে গোলে যাওয়ার সময় তিনি তাকে বাধা দিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোন কথা না শুনে সে গোসলে যায়। তার খোজ করতে গিয়ে পোশাক ও স্যান্ডেলের নিচে টাকা পাওয়ার তিনি নিশ্চিত হয়ে হন বাবু বেচে নেই। বাবু মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলো। বাবু তার দাদার কাছে বড় হয়েছে।

খোকসা ফায়ার ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত ষ্টেশন অফিসার আলতাব হোসেন জানান, আগের দিন খবর পেয়ে তাদের একটি টিম ঘটনা স্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। পর দিন খুলনা থেকে আসা ডুবুরীরা মৃতদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

নিহত প্রতিবন্ধি যুবকের বাড়িতে উপস্থিত খোকসা থানা পুলিশের এসআই আলাল জানান, পাবনার ঈশ্বরদীর নৌপুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তারা আসার পর সিদ্ধান্ত হবে।

বিদ্যুতের আগুনে বিথির সব স্বপ্ন পুড়ে গেলো

0
পুড়ে যাওয়া স্বপ্রে গোয়াল ঘরৈর সামনে কৃষাণী বিথি

স্টাফ রিপোর্টার

পল্লী বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের থেকে সৃষ্টি হওয়া আগুনে কৃষাণ দম্পতির স্বপ্নের গোয়াল ঘরটি পুড়ে গেলো। পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্র ফোনে সারা দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুষ্টিয়ার খোকসার মালিগ্রাম মধ্যপাড়ায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পল্লী বিদ্যুত সমিতির সার্ভিস লাইনের তার থেকে আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। মুহুত্যের মধ্যে কৃষক দম্পতি রঞ্জু শেখ ও বিথি খাতুনের সদ্য তোলা ২৮ বন্দের (দৈঘ-প্রস্তের একক) সেমিপাকা টিনের গোয়াল ঘরটি পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাতের সময় থেকে তারা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছেন আর পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন দিয়েছেন। পরে গ্রামবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেতায়। ততক্ষনে কৃষক দম্পতির নতুন ঘরসহ গরু খাবারের ৩ হাজার বিছালী ও ২ হাজার পাটকাঠি পুড়ে যায়।

কৃষাণী বিথি খাতুন (২০)। নিজের বাড়িতে ছোট একটি গরুর খামার করবে বলে প্রশিক্ষন নিয়েছেন। সমিতি থেকে ঋণ করে ঘর তুলেছেন। গরুর খারের জন্য বিছালী কিনেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনটি গরু কিনবেন। তার সব স্বপ্নই পুড়ে গেলো বিদ্যুতের আগুনে।

এ প্রতিবেদকের কাছে বিথি খাতুন বলেন, তখন সকাল ৯টা বাজে। এমন সময় বিথি দেখেন তার নতুন তৈরী করা গোয়াল ঘরে উপর দিয়ে তার নিজের বাড়ির মিটারের বিদ্যুতের সার্ভিস তারে আগুন হচ্ছে। সে তখন নিজে পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করেন। ব্যস্ত পান। এর মধ্যে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। ১০টার দিকে ঘরের চালের উপর তারে আবার আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি আবার ফোন দেন। একই ভাবে ফোনটি ব্যস্ত পান। এরমধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে মাঠের কৃষকরা এসে কয়েক দফায় চেষ্টার পর ফোনে সারা মেলে। বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষানীর প্রতিবেশী হাফিজা খান জানান, আগুনের শুরু থেকে তিনিও পল্লী বিদ্যুতে ফোন দিয়ে ছিলেন। সারা পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যায় এ রিপোট লেখা সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে কর্তব্যরত লাইনম্যান রুহুল আমিন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির খোকসা সাব জোনাল অফিসের এজিএম আব্দুল কাদির জেলানীর সাথে ফোনে কথা বলার জন্য কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

দিল্লিতে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করলো বাংলাদেশ হাইকমিশন

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে উগ্র ভারতীয়দের হামলার পর সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে।

গত শনিবার রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি সংগঠন ‘অখরু হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিক্ষোভ করে। তারা প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ¯েøাগান দেয়। এ সময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে বাংলাদেশ মিশনের অবস্থান অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে। সেখানে হিন্দু চরমপন্থিদের প্রবেশের বিষয়টি প্রত্যাশিত নয়। এতে বোঝা যায়, তাদের সেখানে আসতে দেওয়া হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং নিরাপত্তা হুমকি অনুভব করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সব ধরনের কনস্যুলার কার্যক্রম ও ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পাকা রাস্তার ভিতরে শতাধিক বৈদতিক খুটি রয়ে গেলো

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় পুনঃনির্মাধীন সাড়ে ১১ কিলোমিটার পাকা রাস্তার ভিতরে পল্লী বিদ্যুতের ১১৫টি বৈদতিক খুটি দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া একটি খালের সুইচগেটসহ একাধিক বস্ক কালভাডের গাইড ওয়াল ঢেকে দিয়ে রাস্তা করায় খাল ও কালভাডের অস্তিত বোঝাই যাচ্ছে না। এ রাস্তাটি পথচারীদের কাছে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

উপজেলার জানিপুর ও বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষে উপজেলা সদরের যাতায়াতের ১১ কিলোমিটার ৫৩৫ মিটার পাকা রাস্তা খানা খন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। গত সরকারের আমলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আর সি আই পি প্রকল্পের অধিন ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা মেরামতের টেন্ডার হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদাস কার্যাদেশ পাওয়ার পর কমলাপুর – একতারপুর জিসি রোড, বহরমপুর-বনগ্রাম ভায়া কাতলাগাড়ি ঘাট ও চাঁদট-বনগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু করে। রাস্তার সিংহ ভাগ অংশে তিন ফুট চওড়া ও দুই ফুট গভীর গর্তখুরে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ রাস্তায় চলাচল কারীরা ভোগান্তিতে পরে। ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অপরিকল্পিত ভাবে এসব রাস্তার ইটের এজিং ঘেসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনের খুটি পোতে। সম্প্রতি নির্মান করা লাইনের প্রায় ১১৫টি বৈদতিক খুটি রাস্তার তিন ফুট ভিতরে চলে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার ভিতর বৈদতিক খুটি রেখে রাস্তা পাকা করা শুরু করে।

এ ছাড়া চাঁদট খালের উৎস মুখের সুইচ গেটসহ একাধিক বস্ক কালভাটের গাইড ওয়াল থেকে এক দেড় ফুট উচু করে রাস্তা সংস্কার কাজ করে। গ্রামবাসী এভাবে রাস্তা তৈরীতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বাঁধা উপেক্ষা করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বহরম পুর-বনগ্রাম ভায়া কাতলাগারি ঘাট ও চাঁদট-বনগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তার ম্যাকাড্রামের কাজ শেষ করেছে। এ কাজের মান নিয়েও এলাকাবাসীদের অভিযোগ রয়েছে। এখন বাঁকী শুধু কার্পেটিং করা।

উপজেলা প্রকেীশলীর দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, রাস্তা গুলো কিছু স্থানে আগের থেকে উচু করা হয়েছে। ফলে সুইচ গেটের গাইড ওয়াল থেকে রাস্তা উচু হয়ে গেছে। দরপত্রে (টেন্ডারের) কোন সুইচ গেট বা বস্ক কালভাডের উপরে গাউড ওয়াল নির্মানের করার আদেশ নেই। এ ছাড়া নতুন লাইন নির্মানের সময় পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা ১১৫ স্থানে রাস্তার ভিতরে বৈদতিক খুটে পুতে রেখে গেছে। তবে বৈদতিক খুটি সরানোর জন্য পল্লী বিদ্যুতের সাথে দেন দরবার চলছে।

বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল উদ্দিন বলেন, রাস্তার ৩/৪ ফুট ভিতরে পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য খুটি রেখে কাজ করা হয়েছে। তিনি নিজেও খুটির সাথে আঘাত পেয়েছেন। খুটি সরানোর বিষয়ে ঠিকাদারকে জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা রাস্তার ভিতরে বিদ্যুতের খুটি রেখে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, কিছু কিছু স্থানে রাস্তা উচু করায় সুইচ গেটসহ একধিক বস্ক কালভাডের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে না। ফলে অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে।

বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বৃদ্ধ তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, পাকা রাস্তার ভিতরে খাম্বা (বৈদতিক খুটি) রেখে কাজ করার সময় তারা বাঁধা দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান মেম্বরদের কথা কেউ শোনে না। খাম্বা রেখেই রাস্তা করা হয়েছে। খাম্বার কারণে ফসলের গাড়ি বাড়িতে নিতে সমস্যা হচ্ছে। অটো ভ্যান চলাচলেও সমস্যা হয়েছে। খালের সুইগেটের পাশের ওয়াল রাস্তার মাটির নিচে চলে গেছে। খাল আছে বোঝা যাচ্ছে না। কেউ ভুল করলেই প্রায় ২০/২৫ হাত গভীর খালের নিচে গিয়ে পরবে। তার মৃত্যু হতে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদাসের প্রতিনিধি আব্দুল হালিমের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হয়। তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

এলজিউডির কার্যসহকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার ভেতর থেকে বৈদতিক খুটি তোলার জন্য উপর মহলে আলাপ আলোচনা চলছে বলে শুনেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী আসাদ উল্লাহ বাচ্চুকে মুঠোফোনে করা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে হোয়াট আপের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠানো হয়।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি জানান, রাস্তার মাঝ খান থেকে পল্লী বিদ্যুতের খুটি সরানোর বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কথা চলছে। তবে খালের সুইচ গেট ও বস্ক কালভাডের গাইড ওয়াল সম্পর্কে এই শুনলে। মানুষের জীবন হানী করে এমন কাজ করা ঠিক হবে না। তিনি ভিজিট করে ব্যবস্থা নেবেন।

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে ৮টি বিশেষ চেকপোস্ট বসাল বিজিবি

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও শ্রমিক উইংয়ের খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মোতালেব সিকদারকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনার পর কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

অপরাধীরা যাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তরা মোতালেব সিকদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবং দলটির খুলনা বিভাগীয় শ্রমিক উইংয়ের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘটনার পরপরই কুষ্টিয়া বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ মেহেরপুর জেলার গাংনী ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও পাহারা জোরদার করে।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপরাধীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে মোট ৮টি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম দ্বিগুণ করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে দুষ্কৃতকারীদের আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, “এই জঘন্য অপরাধে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সেজন্য দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর বিজিবির নির্দেশনায় সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

নিখোঁজের পরদিন বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

0

কুমারখালী প্রতিনিধি

ষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারি কলেজের পুকুর থেকে শাহিন হোসেন (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালের দিকে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত শাহিন কুমারখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, শাহিন চোখে কম দেখত। ডায়াবেটিস, ব্রেইনসহ নানান রোগে ভুগছিল। রবিবার বিকালে প্রতিদিনের মতোই আসরের নামাজ পড়তে কুমারখালী বড় জামে মসজিদে গিয়েছিল শাহিন। সন্ধ্যা হওয়ার পরও বাড়ি না ফিরলে স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে কুমারখালী সরকারি কলেজের পুকুরে তার স্যান্ডেল দেখতে পান স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ওইদিন রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পাইনি ফায়ার সার্ভিস। এরপর সোমবার সকাল ৮টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহিনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

শাহিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিকস, ব্রেইনসহ নানান রোগে ভুগছিলেন। চোখেও কম দেখতেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার বিকালে আসরের নামাজ পড়তে কুমারখালী বড় জামে মসজিদে গিয়েছিলেন। তিনি তাবলীগ জামায়াতও করতেন। মাগরিব নামাজের পরও বাড়িতে না ফিরলে সবাই মিলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে কলেজের পুকুরে তার স্যান্ডেল ভাসতে দেখা যায়। আর সকাল ওই পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় স্বামীকে পাওয়া গেছে।’

তার ভাষ্য, নামাজ পড়তে বেড়িয়ে স্বামী পানিতে পরে ডুবে মারা গেছে। তার কোনো শত্রু ছিলো না। কোনো অভিযোগ নেই।

কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইন্দ্র প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, পুকুরে ভেসে থাকা স্যান্ডেলের সূত্র ধরে রাবিবার রাতে কুমারখালী সরকারি কলেজের পুকুরে অভিযান শুরু করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, স্বজন ও এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পুকুরে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে বৃদ্ধ শাহিনের মৃত্য হয়েছে।

খোকসায় সার ডিলারকে জরিমানা

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় সার বিক্রির রেজিষ্টারে গরমিল পাওয়ায় এক সার ডিলারকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সোমবার দুপুরে জানিপুর বাজারের বিসিআইসি’র ডিলার গনেষ রায়ের দোকালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি দল। তারা ওই ব্যবসায়ীর দৈনিক বিক্রির রেজিষ্টারের গরমিল দেখেতে পান।

বিক্রয় রেজিষ্টারের গলমিল থাকায় আদালত কৃষি বিপনন আইনের ২০১৮ এর ১৯(ড) ধারায় ওই সার ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি মোছাঃ তাসমিন জাহান এ রায় ঘোষনা করেন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন।

চলতি শীতকালীন পেয়াজ ও রবি ফসল আবাদ মৌসুমের শুরুতেই উপজেলায় চরম সার সংকটের শুরু হয়েছে। উপায়ন্ত না পেয়ে কৃষকরা দুইগুন দামে কালোবাজারীদের কাছ থেকে সার কিনতে বাধ্য হয়। অনেক কৃষক নাম মাত্র সার দিয়ে জমিতে পেঁয়াজসহ রবি ফসল আবাদ করেছেন। ফলে ফসলের ফলনে তারতম্য হতেপারে। চলতি আবাদ মৌসুমে উপজেলায় ২৮৮০ হেক্টর জমিতে পেয়াজ আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়। এখানে বিসিআইসি ও বিএডিসি’র ২৩ জন ডিলারকে চলতি ডিসেম্বর মাসে ৬২৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিলারদের ঘরে গেলে সার মিলছে না।

অল্পের জন্য বাঁচলেন যুবদল নেতা, দুমড়ে মুচড়ে গেল দুটি মোটরসাইকেল

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী রেলপথের কুমারখালী রেলস্টেশনের পূর্বপ্রান্তে ফুলতলা রেল ক্রসিং। পাশেই কুমারখালী সরকারি কলেজ। কলেজ গেট নামেও পরিচিত স্থানটি। এটি কুমারখালী শহর, উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সপ্তাহিক হাটে যাতায়াতের বিকল্প সড়কের সংযোগ স্থল। এই মোড় দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই রেল ক্রসিংএ নেই রেলগেট, গেটম্যান কিংবা সাইনবোর্ড বা পাহাড়াদার। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬২৬ নম্বর ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবদল নেতা আহত হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও পাশে থাকা আরও একটি মোটরসাইকেলসহ দুইটি মোটরসাইকেল দুমড়ে মুচড়ে গেছে। সুস্থ ও নিরাপদে চলাচলের জন্য দ্রæত রেলগেট স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয়রা।

আহত যুবদল নেতার নাম মো. শহিদুল ইসলাম (৪০)। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং হাসিমপুর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি হর্ণ বাজিয়ে দ্রæতগতিতে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গেট না থাকায় পালসার মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে ফুলতলা রেল ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করেন শহিদুল। তখন হঠাৎ ট্রেনটি কাছে চলে আসলে মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান শহিদুল। আর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মোটরসাইকেলটি ছিটকে এসে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলের ওপর এসে পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেল দুমড়ে মুচড়ে যায়। আর শহিদুল হাত ও পা কেটে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মিষ্টি ব্যবসায়ী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাজল হোসেন বলেন, এখানে রেলগেট নেই। ট্রেনের হর্ণ শুনে রেললাইনের পাশেই মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেসময় শহিদুল পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে গেলে ট্রেনটি খুব কাছে চলে আসে। তখন তিনি মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দেন আর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি ছুটে এসে আমার মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেলেরই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শহিদুল আহত হয়েছেন।

আহত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে রেললাইনের মাঝামাঝি পৌছালে ট্রেনটি খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখন মোটরসাইকেলটি পিছানোর চেষ্টা করি। কিন্তু পিছনে আরেকটি মোটরসাইকেল থাকায় পিছানো আর সম্ভব হয়নি। সেসময় দিকবিদিক হারিয়ে লাফ মারি। আর ট্রেন এসে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আমার হাত কেটে গেছে, পায়ে আঘাত লেগেছে। আর গাড়িটি ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেছে।

কুমারখালীর স্টেশনের মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে তেমন হতাহতি না হলেও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ফুলতলা এলাকাটি রেল ক্রসিং অনুমোদিত। সেজন্য গেট স্থাপন হয়নি। তবে স্থানীয়রা লিখিতভাবে অভিযোগ করলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্ররণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

মসজিদের ইমাম-খতিবরা পেলেন ঈদ উপহার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভা এলাকার ৩৪ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের যুবদলের নেতার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়। এম এন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়...

নিহত কৃষকদল নেতার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ‎ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ...

ঘাটে বাঁধা ডিঙ্গি নৌকা

নদীতে পানি নেই। ডিঙ্গি নৌকায় যাত্রী পাড়াপার বন্ধ হয়ে গেছে। সপ্তাহ খানেক আগেও প্রতিটি ঘাটের মাঝিরা কর্মব্যস্ত ছিলেন। গড়াই নদী পানিশুন্য হয়ে পরায় খোকসা,...

আজ রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা হবে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দেন...

ভিজিএফের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ‎ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হন। বৃহস্পতিবার দিনগত...