শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬.
Home Blog Page 98

সরকারী জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে আধাপাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের জোতভালুকা-নগরকয়া পানি প্রবাহ খালের পূর্বাশা ভালুকা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের পাড় দিয়ে কয়েকটি গ্রামের শত শত বিঘা জমির ফসল নিয়ে চলাচল করে কৃষক ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তবে চলার পথে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন রবিউল। এতে চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

শনিবার (২৪ মে) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জোতভালুকা-নগরকয়া পাউবো সেচ খালের পূর্বাশা ভালুকা এলাকায় ছোট কালভার্ট রয়েছে। কালভার্টের পাশে খালের পাড় দখল করে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশ দিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

এ সময় আবুল হোসেনের ছেলে কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, পাউবোর কর্তারা লাল পতাকা টাঙিয়ে ঘর করতে নিষেধ করেছিল। তবুও সরকারি খালে রাস্তার জমি দখল করে ঘর করেছে রবিউল। এতে কৃষকদের ফসল বোঝায় গাড়ি ঘোড়া নিয়ে চলাচলে করতে সমস্যা হচ্ছে।

পূর্বাশা ভালুকা মাঠে প্রায় তিন বিঘা জমির চাষ কামাল উদ্দিনের। তিনি বলেন, খালের পাড়ের রাস্তা দিয়ে মানুষ, জমি চাষাবাদের যন্ত্র ও ফসলাদি পরিবহনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পথ সংকীর্ণ করে ঘর করায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রæত রাস্তা থেকে ঘরটি অপসারণের দাবি জানান তিনি।

কৃষক রবিউলকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার স্ত্রী বলেন, খালের জমির অল্প একটু নিয়ে রান্নাঘর তৈরি করা হয়েছে। এতে জনগণের সমস্যা হওয়ার কথা না।

ঘরটি সরকারি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইয়ামিন হক। তিনি বলেন, স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন আগে ঘর করতে নিষেধ করে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছিল। শনিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। খুব দ্রæতই জমি মেপে ঘরটি অপসারণ করা হবে।

আরও পড়ুন – ব্যবসায়ীর কাছে ফোনে চাঁদা দাবি, সিমের মালিক আটক

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সরকারি জমি দখলের সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীর কাছে ফোনে চাঁদা দাবি, সিমের মালিক আটক

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে ফোনে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদা না দিলে তাকে গুলি করে হত্যারও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এক বাংলালিংক সিমের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) সকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া সিমের মালিকের নাম মো.আসাদুর রহমান আসাদ (২৪)। তিনি উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের যদুবয়রা স্কুলপাড়ার ইখতার হোসেনের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি। গত শুক্রবার রাতে প্রযুক্তির সাহায্যে সিমের মালিককে সনাক্ত করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করেছিল পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও এতমামপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে ০১৯৫৯-৭৬৫৩৭৫ নম্বর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি কল দেয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে আশরাফুলের জন্য ৬টি বুলেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এর আগে গত ২০ মে একই নম্বর থেকে কল করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আশরাফুল। অভিযোগোর ভিত্তিতে তথ্য ও প্রযুক্তির সাহায্যে আসাদকে গত শুক্রবার রাতে আটক করে পুলিশ। তবে যে নাম্বার থেকে আশরাফুলকে হুমকি দেয়া হয় ওই সিম কার্ড উদ্ধার করা যায়নি। ওই সিমটি গ্রেফতারকৃত আসাদুর রহমান আসাদের নামে উত্তোলন করা। এনআইডি সূত্র ধরে পুলিশ তাকে আটক করে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শনিবার সকালে থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আটককৃত আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আশরাফুল আলম বলেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি বারবার পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল। থানায় বিচারের আশায় মামলা করেছি। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আসাদের স্বজনদের দাবি, প্রায় নয় মাস আগে সিমকার্ডটি হারিয়ে গেছে। তবে সে সময় থানায় কোন জিডি করা হয়নি। বা সিমটি আর তোলা হয়নি।

আরও পড়ুন – কোটি টাকার স্বর্ণসহ তুলে নেওয়া সিন্দুকের সন্ধ্যান মিলেছে, তবে………….

কুমারখালী থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তির সাহায্যে সিমের মালিককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই বাছাইয়ে ঘটনার আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

কোটি টাকার স্বর্ণসহ তুলে নেওয়া সিন্দুকের সন্ধ্যান মিলেছে, তবে………….

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার প্রধান বাজারের একটি সোনার দোকান থেকে কোটি টাকার সোনা ও রুপাসহ তুলে নিয়ে যাওয়া সিন্দুকটি ২৪ ঘন্টা পর পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত অপরাধি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সোনা ব্যবসায়ীর সিন্দুক লুটের ঘটনার পর বাজারটির ৬ শতাধিক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে সময় পার করছেন।

শনিবার দুপুরে খোকসা থানা পুলিশে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় প্রাইভেটকারে আসা দুর্বৃত্তরা খোকসা বাজারের প্রধান সড়কের বাংলাদেশ জুয়েলার্সে সাটারের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে একটি লোহার সিন্দুক তুলে নিযে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার দিন গত রাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না গ্রামে ভাঙ্গা অবস্থায় একটি সিন্দুক পাওয়া যায়। পরে মোবাইলের ভিডিও কলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবাসীকে দিয়ে সেটি সনাক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ ও ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিরা সিন্দুক উদ্ধারে রওনা হয়েছেন।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় প্রাইভেট কারে আসার দুর্বৃত্ত¡রা মাত্র ১২ মিনিট দশ সেকেন্ড অপারেশন চালিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্সের সোনা ও রুপা রাখার লোহার প্রধান সিন্দুকটি তুলে নিয়ে যায়। দুপুরে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা দোকান খুলতে এলে ঘটনাটি জানাযানি হয়।

দুর্বৃত্তদের চিহ্ণিত করার দাবিতে শনিবার সকালে বাজার ব্যবসায়ীদের বৈঠক করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে তা হয়নি। তবে সিন্দুক লুট হওয়া বাংলাদেশ জুয়েলার্স সহ সব গুলোর জুয়েলার্স খোলা থাকলেও অডার বা ডেলিভারি হয়নি বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী। তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা জানান, প্রতি শুক্রবার দুপুর পর তিনি দোকান খুলতে আসেন। এসে দেখতে পান তার দোকানের একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা। দোকানের ভিতরে ঢুকে দেখেন তার প্রায় ৪ মন ওজনের লোহার প্রধান সিন্দুকটি দুর্বৃত্বরা লুট করে নিয়ে গেছে।

তিনি দাবি করেন, লোহার সিন্দুকটিতে বিভিন্ন কাস্টমারের (খরিদ্দারের) প্রায় ৪৫/৫০ ভরি সোনা, প্রায় ৩০০ ভরি রুপা, ৩০ হাজার নগদ টাকা রাখা ছিলো। তিনি জানান ক্ষয় ক্ষতি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালচনা করে দেখা যায়, শুক্রবার ভোর ৪টা ত্রিশ মিনিটের সময় সিলভার কালারের একটি প্রেইভেটকার স্কুল মার্কেটের বাংলাদেশ জুয়েলার্সের শো রুমের সামনে পাকিং করে। এ সময় সাটার খোলার শব্দ হয়। মসজিদে ফজরের আজান হচ্ছিল। পথচারীরা স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করছিল। ঠিক ১২ মিনিট পর প্রাইভেট কারটি যে দিক থেকে এসেছিল সেই দিকে ফিরে যায়। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে প্রাইভেট কারে আসা দুর্বৃত্তরাই শো রুমটিতে হানা দিয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক নিরোদ কুমার রায় বলেন, থানা থেকে সামান্য দূরে স্বর্ণের দোকান থেকে দুর্বৃত্বরা সিন্দুক লুটে নিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অপরাধিদের আটক ও লুটে নেওয়া মালামাল ফেরতের দাবি করেন।
খোকসা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আলনবী হাডওয়ারের মালিক গোলাম ছরোয়ার জানান, শনিবার ব্যবসায়ীদের বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। বাজারের সব ব্যবসায়ীরাই আতঙ্কে দিন পার করেছে বওে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন – সংস্কার কমিশন বাতিল দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, মামলা হয়েছে। তদন্ত ও অপরাধি চিহ্ণিত করতে অভিযান চলছে। দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে যাওয়া সিন্দুক ভাঙ্গা অবস্থায় পাশের জেলা ঝিনাইদহে উদ্ধার হয়েছে। দুই এক বেলায় ভালো খবর পাওয়া যাবে।

সংস্কার কমিশন বাতিল দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম।

কুষ্টিয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে শুক্রবার (২৩ মে) বিকালে বড় বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে পাঁচ রাস্তার মোড়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে কুষ্টিয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি শামসুল হক, আব্দুর রউফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ খান প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারী অধিকার সংস্কার কমিশন যেসব প্রস্তাব করেছে, সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে ধর্মীয় বিধিবিধান, বিশেষ করে ইসলামি উত্তরাধিকার আইন ও ইসলামি পারিবারিক আইনকে নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিতর্কিত, ইসলামবিদ্বেষী, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও কটাক্ষপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার কারণে আমরা এই কমিশন বাতিল চাই।

আরও পড়ুন – ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

সমাবেশে ৫ মে শাপলা চত্বরে ও জুলাই গণহত্যাসহ সব গণহত্যার বিচার, হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ফিলিস্তিন ও ভারতে গণহত্যা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে তাকে গুলি করে হত্যারও হুমকি দেওয়া হচ্চে।

বৃহস্পতিবার ( ২২ মে) রাত ৮ টা ২০ মিনিটের দিকে ‘০১৯৫৯৭৬৫৩৭৫ ‘ নম্বর থেকে তার মুঠোফোনে কল করে এ হুমকি দেন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসয়ী আশরাফুল আলম (৩৮)। তিনি উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও চর এতমামপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা ২০ মিনিটের দিকে কাঠের ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে ০১৯৫৯-৭৬৫৩৭৫ নম্বর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি কল দেন। ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, ‘ ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমাকে পাঁচ লাখ টাকা দিবি, যদি না দিস তোর জন্য ৬টি বুলেট বরাদ্দ আছে। ‘ এর আগে গত ২০ মে একই নম্বর থেকে আশরাফুলকে প্রথমে কল দেওয়া হয়েছিল। সেদিন কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, ‘আগামীকালের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা দিবি। যদি না দিস তাহলে তোর লাশ যেকোন জায়গায় পড়িয়া থাকিবে।’

শুক্রবার (২৩ মে) সকালে ফোনে ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি বার বার পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। পরিবার নিয়ে খুবই আতঙ্কে আছি। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়ায় দুর্বৃত্তরা ফোনে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে ওই ফোন নম্বরে কল দেওয়া হয়। ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন – খোকসায় কোটি টাকার স্বর্ণসহ সিন্দুক নিয়ে গেছে দুর্বৃত্বরা

লিখিত অভিযোগের কথা স্বীকার করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান শেখ বলেন, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীকে সনাক্ত করে খুব দ্রæতই আইনের আওতায় আনা হবে।

খোকসায় কোটি টাকার স্বর্ণসহ সিন্দুক নিয়ে গেছে দুর্বৃত্বরা

0

স্টাফ রিপোর্টার

মাত্র ১২ মিনিট অপারেশেন চালিয়ে দুর্বৃত্তরা একটি সোনার দোকানের শোরুম থেকে কোটি টাকার সোনা ও রুপাসহ লোহার সিন্দুক তুলে নিয়ে গেছে। বাজারের দুই নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়ার খোকসা পৌর বাজারের প্রধান সড়কে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ৪টায় প্রাইভেট কারে আসার দুর্বৃত্ত¡রা একটি জুয়েলার্সের শোরুমে হানা দেয়। মাত্র ১২ মিনিট দশ সেকেন্ড অপারেশন চালিয়ে দুর্বৃত্বরা প্রতিষ্ঠানটির সোনা ও রুপা রাখার লোহার প্রধান সিন্দুকটি তুলে নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা শো-রুম খুলতে এসে দোকানের একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। দোকান খুলে তিনি দেখেন দুর্বৃত্বরা তারা সোনা ও রুপা রাখার লোহার সিন্দুকটি তুলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তিনি থানা পুলিশ ও জুয়েলার্স মালিক সমিতিকে জানিয়েছেন।

এ ঘটনা জানাযানি হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাজারের দুই নৈশ প্রহরীকে থানা হেফাজতে নিতে দেখা যায়। পুলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সরেজমিন গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সাথে দেখা করে শান্তনা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা জানান, প্রতি শুক্রবার দুপুর পর তিনি দোকান খোলেন। আজ একই নিয়মে দোকান খুলতে এসে দেখেন তার একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা। দোকানের ভিতরে ঢুকে দেখেন তার প্রায় ৪ মন ওজনের লোহার প্রধান সিন্দুকটি দুর্বৃত্বরা তুলে নিয়ে গেছে। আগের রাতে সাড়ে ৯ টার তিনি দোকান বন্ধ করেন।

তিনি দাবি করেন, লোহার সিন্দুকটিতে বিভিন্ন কাস্টমারের (খরিদ্দারের) প্রায় ৪৫/৫০ ভরি সোনা, প্রায় ৩০০ ভরি রুপা, ৩০ হাজার নগদ টাকা রাখা ছিলো। তিনি জানান ক্ষয় ক্ষতি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালচনা করে দেখা যায়, রাত ৪টা ত্রিশ মিনিটের সময় সিলভার কালারের একটি প্রেইভেটকার স্কুল মার্কেটের বাংলাদেশ জুয়েলার্সের শো রুমের সামনে পাকিং করে। এ সময় সাটার খোলার শব্দ হয়। মসজিদে ফজরের আজান হচ্ছিল। পথচারীরা স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করছিল। ঠিক ১২ মিনিট পর প্রাইভেট কারটি যে দিক থেকে এসেছিল সেই দিকে ফিরে যায়। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে প্রাইভেট কারে আসা দুর্বৃত্তরাই শো রুমটিতে হানা দিয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক নিরোদ কুমার রায় বলেন, থানা থেকে সামান্য দূরে স্বর্ণের দোকান থেকে দুর্বৃত্বরা সিন্দুক লুটে নিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অপরাধিদের আটক ও লুটে নেওয়া মালামাল ফেরতের দাবি করেন।

সন্ধ্যায় ঘটনা স্থলে উপস্থিত থানা পুলিশের এএসআই দিবাকর জানান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি নৈশ প্রহরীদের নিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন – অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজের লাশ উত্তোলনে পরিবারের বাধা

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম রাত সাড়ে ৮টায় বলেন, এ ঘটনায় এজার লেখা চলছে। মামলা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবসা নেওয়া হবে। নৈশ প্রহরীদের থানায় আসার কথা আছে বলেও জানান।

অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজের লাশ উত্তোলনে পরিবারের বাধা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

জুলাই ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদের (১৭) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা।

শেষ পর্যন্ত পরিবারের বাধা ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া কবরস্থানে মরেদহ উত্তোলনে গেলে শহীদ পরিবার আপত্তি জানায়। এতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা।

নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্ট বিকালে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল আমার ছেলে হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ। এসময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হয়। তার পেটে গুলি লাগে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্ত ছাড়াই তার দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এটা সবাই জানেন। ঘটনাটি তদন্ত করলে এবং ওইসব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি জানা যাবে। পুলিশের গুলিতে জুবাইয়ের নিহত হয়েছে এটা পরিষ্কার।

আমার ছেলের লাশ উত্তোলন করতে চায় না এবং ময়না তদন্ত করার দরকার নেই বলে মনে করি। এজন্য লাশ উত্তোলন করতে দিইনি। আমার ছেলের হত্যাকান্ডের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জুবায়ের আহমদের মরদেহ উত্তোলনের জন্য কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া কবরস্থান যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু মরদেহ উত্তোলনে শহীদ পরিবার আপত্তি জানায়। এ অবস্থায় মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আরও জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর খিলগাঁও চৌরাস্তায় ছাত্রজনতার বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন জুবায়ের। এসময় তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি করে পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন জুবায়ের। তাকে উদ্ধার করে সরকারি মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জুবায়ের আহমদের বাবা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। তিনি মাদ্রাসা ছাত্র ছিলেন।

নিহত হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি হাফেজ ও মাদরাসা ছাত্র ছিলেন। তার পেট ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন – দৌলতপুরে হামলায় দুই এসএসসি শিক্ষার্থী আহত

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জুবায়ের আহমেদের মরদেহ উত্তোলনের জন্য কবরস্থানে এসেছিলাম। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ায় মরদেহ উত্তোলন করা হয়নি। বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

দৌলতপুরে হামলায় দুই এসএসসি শিক্ষার্থী আহত

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে বহিরাগতদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন – হোসেনাবাদ এলাকার মমুনুর রশিদের ছেলে মনোয়ার হোসেন রুদ্র (১৮) ও আতিক হাসানের ছেলে ফাহিম (১৮)। তারা দুজনেই হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

এ ঘটনায় দুপুরে মনোয়ার হোসেন রুদ্র বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন বহিরাগত যুবক কলেজ চত্বরে অনধিকার প্রবেশ করে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে রুদ্র ও তার বন্ধু ফাহিম মারাত্মকভাবে আহত হন।

আহত ফাহিম জানান, পরিক্ষা শেষ করে বাইরে আসতেই কলেজের গেটে আমাদের উপর হামলা চালায় কয়েকজন বহিরাগত।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান বলেন, “সামান্য একটি বিষয় নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

আরও পড়ুন – ঝিনাইদহে জব্দকৃত ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, “প্রতিষ্ঠানটিতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঝিনাইদহে জব্দকৃত ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধারকৃত ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সদর দপ্তরে এই মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজিবির রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ন কবীর ও বিশেষ অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়া বিজিবির সেক্টর কমান্ডার আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে ঝিনাইদাহ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ধরনের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে বিজিবি মহেশপুর ৫৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, ধ্বংশ করা মাদকের মধ্যে ২৫ হাজার ৮১৩ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৮ হাজার ৯৮০ বোতল মদ, ১৩০ কেজি গাঁজা, ৬৫ হাজার ১৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭ কেজি হেরোইন, ৭৯ কেজি কোকেন, ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস ৭ কেজি, এলএলডি ২৯ বোতল, ২১ হাজার ৩১৬ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ট্যাপেন্টাল ট্যাবলেট ৩০ হাজার ৭০ পিস, ভারতীয় ঔষধ ৯ হাজার ৮৪৫ পিস এবং বাংলাদেশী ওষুধ ৯ হাজার ৯৬০ পিস। যার আনুমানিক মূল্য ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ ২০২ টাকা।

আরও পড়ুন – মেলা কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ১১

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রæয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ১৫ মাসে মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে বিজিবি।

মেলা কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ১১

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাজীকালু – চম্পাবতী মেলা বসানো নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার ( ২০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা চাপাইগাছি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় মেলায় আগত দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে মেলায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ নিয়ে উভয়পক্ষের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

জামায়াতের আহতরা হলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মহেন্দ্রপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, জামায়াতের কর্মী কুদ্দুস প্রামাণিক (৭০), শহিদুলের ছেলে তুহিন হোসেন, আক্কাস আলীর ছেলে জিহাদ হোসেন, সুকচাঁদের ছেলে জামাত আলী, জালালের ছেলে ইউনুস আলী। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপির আহতরা হলেন-খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান, বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক টিপু সুলতান, গফুর শেখের ছেলে সুকুর শেখ, আজিজুলের ছেলে শরীফ, আসাকুর রহমান। তারা বিএনপির কর্মী – সমর্থক। তারা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছর ধরে হোগলা চাপাইগাছি বাজারে গাজীকালু – চম্পাবতী মেলার আয়োজন করে আসছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেলায় অশ্লীল কর্মকান্ড ও জুয়া খেলার অভিযোগ তুলে মেলা বন্ধের দাবি তোলেন জামায়াত ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আর প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও বিএনপির সমর্থকরা মেলা বসানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকাল থেকে এলাকায় উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টহল শুরু করে। তবুও এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সংঘর্ষের সময় অস্ত্র, হাঁসুয়া, রাম দা, লাঠিসোটাঁ নিয়ে অন্তত ৩০ টি দোকানে হামলা, ভাঙচুর লুটপাট চালানো হয়।

এ সময় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, মেলায় অশ্লীল কর্মকান্ড ও জুয়ার আসর বসানো হয়। সেজন্য প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। তবুও বিএনপি ও মেলা কমিটি মেলার আয়োজন করেছেন। আমরা মেলার বিষয় জানতে গেলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। আমিসহ আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। থানায় মামলা করা হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির সমর্থক ও খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান বলেন, জামায়াতের কয়েকশ লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। মেলার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বিচারের আশায় থানায় মামলা করব।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের কলা ব্যবসায়ী মফি শেখের ছেলে নাদের শেখ (৬৫) বলেন, শও শও বছর ধরে মেলা হয়ে আসছে। আজ দেখলাম দুইপক্ষের দাবড়া দাবড়ি। জামায়াতের লোক বেশি ছিল। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।

মেলায় হরেক মালের দোকান বসিয়েছেন পাবনার চাটমোহরের দিলবার হোসেনের ছেলে আরজ আলী। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আসরের পর থেকে জামায়াত শিবিরের লোকজন বার বার উঠে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার একটু আগে কয়েক শত টুপিপড়া লোক রামদা, হাঁসুয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে দোকানে হামলা চালায়। ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। পরে এসে দেখি মালামাল কিছুই নেই। প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আফজাল হোসাইন বলেন, ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডে জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে মেলা কমিটির লোকজন হামলা করেছেন। থানায় মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন – কুমারখালীতে সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

শতবছর ধরে চলা আসা মেলায় এবার অনুমতি মেলেনি বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, মেলা বসানো নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন এলাকার পরিবেশ শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

কুমারখালীতে ওসির গাড়ি ভাঙার অভিযোগ এমপির স্বজনর বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার ওসির গাড়িতে (পিকআপ) হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ( ১৯ মার্চ) রাত...

এসিল্যান্ড পরিচয়ে মুঠোফোনে ঈদের চাঁদা দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচয়ে মুঠোফোনে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ( ১৯ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে...

রফিকুল ইসলাম রফিকের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত বাচিক শিল্পী রফিকুল ইসলাম রফিকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে খোকসার কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহ ময়দানে মরহুম রফিকুল ইসলাম রফিকের জানাযার নামাজ...

ঈদে মিথিলার নতুন জামা হবে তো ?

মিথিলা। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ক্ষেত থেকে রসুন তুলে বিক্রি করে তবেই তাদের ঈদে নতুন জামা কেনা হবে। তাই বাবার সাথে জমি থেকে রসুন তুলে...

খোকসায় কয়েলের আগুনে ব্যবসায়ীর সেমাই চিনি পুড়ে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসা বাজারের তালাবন্দ মুদির দোকানে মশা তাড়ানোর কয়েলের আগুনে ব্যবসায়ীর সেমাই চিনিসহ বেশ কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও বাজারের নৈশ প্রহরীরা...