স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে খোকসা-ভবানীপুর পাকা রাস্তাটির এক কিলোমিটার তিন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে ইউনিয়নের অর্ধেক মানুষের যাতায়াত প্রধান রাস্তাটি বন্ধের ঝুকিতে পরেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে রাস্তার ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে ৮টি বেশী গ্রাম ও কয়েক শত একর চাষের জমি প্লাবিত হতে পারে।
চলতি বর্ষা মৌসূমে গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জাগোলবা ও দক্ষিন শ্যামপুর গ্রামে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের জাগোলবা গ্রামের কৃষক শহিদুল ও মিনু দম্পতির প্রায় ৮ কাঠা জমির বাগানের ৩০টি গাছ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ৪টি গ্রামের ৮ হাজার মানুষের যাতায়াতের পাকা রাস্তা নদী গর্ভে বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই গ্রামের মানান্নানের বাড়ির অদূরে পাকা রাস্তার এজিং থেকে মাটির বিশাল পাড় ভেঙ্গে পরেছে। নদী ভাঙ্গন উপদ্রæত এলাকায় কয়েকশ নিন্ম আয়ের মানুষের বসত বাড়ি ভাঙ্গনের মুখে পরেছে। নদীর পানি কমাতে শুরু করলে নদীর এসব স্থানে ভাঙ্গন বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
ইতোমধ্যেই নদী ভাঙ্গন উপদ্রæত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। সবাই প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। যে কোন সময় এ জনপদের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাকা রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তার বাড়ির পশ্চিমে নদী তীরে একচিতে জমি ছিল। সেই জমিতে সবজী চাষ করতেন। বছর পাঁচেক (৫) আগে কিছু জমিতে ফলদ ও কাঠের গাছের চারা রোপন করেছিলেন। দুই রাতের ভাঙ্গনে নদী তার প্রায় ৩০টি গাছ ফসল ও জমি কেড়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “তারা সবাই দেখে গেছে। আসলে পাটা নূরার ঘসা-ঘসিতে মরিচেরই প্রাণ যাচ্ছে”।
আব্দুল মান্নান নামের আর এক কৃষক বলেন, নদী ভাঙ্গন রাস্তায় চলে আসায় তারা শিশুদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন না। এদিকে ভাঙ্গনরোধে তেমন কোন ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। তারমত গৃহীনি মর্জিনাও এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র পাকা রাস্তা রক্ষায় নদী ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
বেতবাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন জানান, ইউএনও বলছেন ভাঙ্গোন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানি না কমলে ভাঙ্গোন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, স্থানীয়রা চান প্যালাসাইটিং দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করতে। কিন্তু ভাঙ্গন কবলিত স্থানে খাড়া ভাঙ্গন লেগেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা পূরণদুরহ।
তিনি নিজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন, তারা জানিয়েছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেললেও নাকি হারিয়ে যাচ্ছে। পানি কমলে তারা (পানিউন্নয়ন বোর্ড) ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন – কুমারখালীর প্রধান রাস্তা দখল মুক্ত করার দাবিতে পদযাত্রা
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমানের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
আরও পড়ুন – প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়লো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের






