এবার মাজারের খাদেমের ওপর হামলা

0
11

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হযরত শাহ রউফ (রা.) মাজার শরীফের খাদেম কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার বোন রিতা খাতুনও হামলার শিকার হন।

শনিবার (৯ মে) বিকালে উপজেলার মথুরাপুর বড় বাজার এলাকার দর্গাতলা গ্রামে অবস্থিত হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহত কামাল হোসেন (৪০) ও রিতা খাতুন (৩৫) ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বৈশাখের ২৯ ও ৩০ তারিখ এবং ১ জ্যৈষ্ঠ হযরত শাহ রউফ (রা.) মাজার শরীফে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন ওরশকে সামনে রেখে মাজার এলাকায় নানা প্রস্তুতি চলছিল। ওরশ উপলক্ষে সেখানে একটি মেলাও বসে। সম্প্রতি ওই মেলা পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খাদেম কামাল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শনিবার তিনি মাজারের ভেতরে রংয়ের কাজ করছিলেন। এ সময় একই বংশের কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ সময় পাশে থাকা তার বোন রিতা খাতুনকেও মারধর করা হয়। তবে তার উপর কেন হামলা করা হয়েছে তা তিনি বুঝেউঠতে পারেননি। পরে রাতে তিনি দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নবগঠিত মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হাসেম বলেন, “আমরা দায়িত্বে আসার পর মাজারের কোনো খাদেম নেই। তবে শনিবার মাজারের ভেতরে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, কামালের পরিচিত বংশের লোকজনই তার ওপর হামলা চালিয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামিম নামে এক পীরকে তার আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।