ভ্যানসহ কৃষকের পেঁয়াজ ছিনতাই ঘটনার দুইদিন পার হলো

0
1

স্টাফ রিপোর্টার

বিক্রির জন্য হাটে পেঁয়াজ নিয়ে যাওয়ার সময় এক ভ্যানচালকের উর্পাজনের একমাত্র বাহন পাখি ভ্যানটি সহ চাষীর ১৫ মন পেঁয়াজ, নগদ টাকা ও দুটি মুঠো ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার দুইদিন অতিবাহিত হলেও চিহ্নিত করা যায়নি দুর্বৃত্তদের।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের নকশা পাড়া বাজারের অদূরে শনিবার শেষ রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি পাখি ভ্যান ও ১৫ মন পেঁয়াজ ছিনতায়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্ত ভোগীরা শোমসপুর ইউনিয়নের ধুসুন্ডা গ্রামে মৃত শাহাদৎ আলীর ছেলে ভ্যান চালক ফারুক ও একই গ্রামের রজব শেখের ছেলে পেঁয়াজ চাষি কাইয়ূম শেখ। এ ঘটনায় পাখিভ্যানের চালক খোকসা থানায় একটি জিডি করেছেন।

ভুক্তভোগী ভ্যান চালকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিনগত রাত ৪টার দিকে ভ্যান চালক ফারুক প্রতিবেশী পেঁয়াজ চাষি কাইয়ূমের ১৫ মন পেঁয়াজ নিয়ে পাংশা উপজেলার সোনাপুর হাটে যাত্রা করেন। ভোরের আজানের সময় তারা শিমুলিয়া ইউনিয়নের নকশাঁ পাড়া বাজারের কাছে পৌচ্ছালে কালো কাপড়ের চাদর ও মুখোশ পড়া ৫/৬ জন অস্ত্রধারী তাদের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে ভ্যান চালক এবং পেঁয়াজ চাষিকে ভ্যান থেকে নামিয়ে ঘটনা স্থলের পূর্ব দিকের মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা দিয়ে ভ্যানচালক ও চাষীর হাত পা ও চোখ বেঁধে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। রবিবার সকালে ভুক্তভোগীরা নিজেদের চেষ্টায় হাত পা ও চোখের বাঁধন খুলে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। পরে ভ্যান চালক খোকসা থানায় জিডি করেছেন।

রবিবার বিকালে ভ্যান চালক ফারুকের বাড়িতে যাওয়া হয়। তিনি এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। ছিনতাই হওয়া ভ্যান খুঁজতে বেড়িয়েছেন। কৃষক কাইয়ূমকেও বাড়ি পাওয়া যায়নি। দু’জনের ভ্যান ও ছিনতাই হওয়া ফসল খুজে বেড়াচ্ছেন। ভ্যান চালকের বাড়িতে গ্রামবাসীদের জটলা তখনও ছিলো। প্রতিবেশীরা সমবেদনা জানাতে এসেছেন।

উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি রফিক মন্ডল বলেন, কৃষক ও ভ্যান চালক দু’নেই তার পাশের গ্রামের বাসিন্দার। ভ্যান ও ফসল ছিনতাই দুঃখজনক। তিনি অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার আশা করছেন।

ভ্যান চালকের স্ত্রী সাবানা খাতুন জানান, আয়ের একমাত্র বাহন ভ্যান ছিনতায়ের পর থেকে তার স্বামী ফারুক নাওয়া খাওয়ার কথা ভুলে গেছে। সকালে বাড়ি ফিরে শুধু কাঁদছিলেন। এখন কি করে সংসার চলবে। একমাত্র মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানার লেখা পড়ার খরচ সামলাবেন কি ভাবে। এ নিয়ে বিলাপ করছিলো। থানা থেকে ফিরে আবার ভ্যান খুজতে বেড়িয়েছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত আর বাড়ি ফেরেননি। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনিও সংসার নিয়ে চিন্তিত।

সাবানা খাতুন আরও জানান, তার স্বামীর কাছে নগদ ৫ হাজার ও কৃষকের কাছেও নগদ কিছু টাকা ছিলো। এ ছাড়া দু’জনের কাছে থাকা দুটি মুঠো ফোন দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।