বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬.
Home Blog Page 7

চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিপ্রি সেলসিয়াস

0

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বৈশাখ আসার আগেই আগাম তাপদাহে পুড়ছে পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গা। জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক ও রিকশাচালকরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া জেলায় বাতাসের আর্র্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ।

জেলার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সামনে সড়কসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পিচ গলে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলের সময় গলিত পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে বাড়াচ্ছে ভোগান্তি।

চুয়াডাঙ্গা শহরের নাম না বলা এক পথচারী বলেন, চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া সবসময়ই চরম। শীতে বেশি শীত, গরমে বেশি গরম। কিন্তু গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি, সামনে কী হবে তা ভেবেই উদ্বিগ্ন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের চৌরাস্তার মোড়ের তরমুজ বিক্রেতা মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, এই গরমে রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু স্বস্তি পেতে বারবার পানি দিচ্ছি শরীরে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক বলেন, এটি চলতি মৌসুমের প্রথম মাঝারি তাপপ্রবাহ। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আজ এ জেলায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

গাইড বাণিজ্যে অর্ধকোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলো ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অবৈধ গাইড বই চালানোর প্রতিশ্রæতি দিয়ে একটি গাইড বই কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঞ্জেরী পাবলিকেশন কোম্পানীর অবৈধ গাইড চালানোর কথা বলে শিক্ষাক সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিব অর্ধকোটি টাকা চুক্তি করেন। উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের অবৈধ গাইড কিনতে চাপ দিতে শুরু করে স্কুল গুলোর কতিপয় শিক্ষক। তবে শিক্ষক অভিভাবকদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করেন। গাইড কোম্পানী ইতোমধ্যে সমিতির একটি ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা দিয়েছে বলে সূত্র গুলি নিশ্চিত করেছেন। বাঁকীঁ টাকা লেনদেন হয় নগদে। বিষয়টি সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ফাঁস হলে জেলা শিক্ষা অফিস গত ১৯ ফেব্রæয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা ও সময় ক্ষেপনের অভিযোগ উঠেছে।

সেলিম হোসেন নামে এক অভিবাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে মেয়েকে শিক্ষকরা পাঞ্জেরী পাবলিকেশন গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এতো টাকা দিয়ে পাঞ্জেরী গাইড কিনতে পারছেন না।

কালিগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সদস্য সচিব আহসান হাবীব গাইড বাই কোম্পানীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।

সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগাগ করার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্নকার জানান, ‘শিক্ষকদের টাকা বা উপঢৌকন দেওয়ার ব্যাপারটা এজেন্ট ও কোম্পানি সরাসরি করে থাকে। মার্কেটিংয়ের জন্য উপঢৌকন এখন বৈধ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, তদন্ত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রæতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকদের সম্মানীর বিনিময়ে গাইড কেনার পরামর্শ ও অর্থ দেওয়া বে আইনী। শিক্ষকরা এটা করতে পারেন না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, টাকার বিনিময়ে গাইড বই শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়, এটা অবৈধ। তিনি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া হুসিয়ারী এবং বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পাশে বসা সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমপি আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে নিজের চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, আমার ডানেবামে এমন এমন ভুড়িওয়ালা লোক আমি পেয়েছি, যেহেতু এগুলো সিরিয়াল করা থাকে আগে থেকে, কে কোথায় বসবে আমরা জানিও না। আল্লাহর ইশারা ভেতরে যেয়ে দেখি আমার ডানে বামে ভুড়িওয়ালা। এমন বড় বড় ভুড়ি আমার মনে হয়, ভুড়ি চিড়লে ওর ভেতর থেকে হয় ব্রিজ কালভার্ট এগুলো বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।

সম্প্রতি আমির হামজার এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি কবে কোথায় কখন এই বক্তব্য দিয়েছেন, তা ঠিকঠাক জানা যায়নি। এমনকি বক্তা নিজেও ভুলে গেছেন তিনি কোথায় এই মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আমির হামজাকে মুঠোফোনে কল দিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হামজা বলেন, দেড় ঘণ্টার একটা আলোচনা। কোন জায়গায় কোন উদাহরণে বলেছি, মনে আছে নাকি?

ভাইরাল ওই বক্তব্যে আমির হামজা আরও বলেন, রুমিন ফারহানা আপা আছে, এরপরে এই যে মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে ফারজানা শারমিন; এটার পরে নায়াব ইউসুফ আছে ফরিদপুরের। এই আপারা আমাদের সামনে। আমার মাঝে মাঝে চিন্তা হয়, আল্লাহ, আমার ডানে বামে যে অবস্থা; ম্যাডামগুলো যদি এদের পেটের দিকে তাকায় ভাববে, আল্লাহ ছেলেমেয়ে হয় আমাদের আর পেট হয় হুজুরের পাশে দুইজনের। কী ভুড়ি! উঁকুন মারা যাবে ভুড়ির ওপরে।

আমির হামজার এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, এটা কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন লোক বলতে পারে বলে আমার মনে হয় না। এটা তো আমাদের কাছে খুবই বিব্রতকর মনে হচ্ছে। উনি যাদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা তো উনার পাশেই বসেন। এরপরে নেক্সট সংসদ অধিবেশনে উনাদের সামনে উনি কিভাবে মুখ দেখাবেন বা উনাদের পাশে কীভাবে বসবেন উনি, এই সমস্ত বিব্রতকর মন্তব্য করার পরে। একজন সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ এগুলো বলে কীভাবে, আর এগুলো মানুষের সামনে কীভাবে আলোচনা করে। যাদের সম্পর্কে বলছেন, তারাও তো মাননীয় সংসদ সদস্য।

নিজ দলীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার বলেন, একজন মানুষ প্রতিদিন তো অনেক কথা বলে, সব কি শিখিয়ে দেওয়া লাগে নাকি। উনাকে তো বারবার সতর্ক করা হচ্ছে, প্রতিনিয়ত সতর্ক করা হচ্ছে; দলীয়ভাবে করছি, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে করছি, আমরা স্থানীয়ভাবে করছি। উনার বন্ধুবান্ধবদের দিয়ে বলাচ্ছি। আমরা খুব বিব্রত।

মেধাবী শিক্ষার্থী ওমরের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিল স্বপ্ন

0

বিশেষ প্রতিনিধি, কুমারখালী থেকে

কুমারখালীর অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী ওমর ওসমান রাজু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ওমর ওসমান রাজু সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তার এই সাফল্য বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন। তারা ওমর ওসমান রাজুর উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকার জন্য মাঠে শ্রমিকের কাজ করছেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী ওমর” বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর তা দেখেই ওমরের পাশে এগিয়ে আসে স্বপ্ন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ মেধাবী ওমরের বাড়িতে গিয়ে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ওমর ওসমান রাজু সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তার এই সাফল্য বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হচ্ছে।

ওমরের জীবনসংগ্রাম ছোটবেলা থেকেই শুরু। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা খবির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তার মা ফাতেমা খাতুন অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও ওমর পড়াশোনায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন। তিনি জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতে ৪.৯২ পয়েন্ট নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহায়তায় বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। ওমর ওসমান রাজুর বাড়ি উপজেলার মহিষাকোলা গ্রামে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, আমার পরিবার আমাকে বই-খাতা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। শিক্ষকরা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এখন স্বপ্ন যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, এতে আমি ও আমার মা অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছি। এখন আমি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারব।
এ বিষয়ে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডে যুক্ত। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত ও সময়োপযোগী সহায়তা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের পাশে থাকার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ওমরের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে সেই অনুপ্রেরণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বপ্ন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গণমাধ্যমের কল্যাণে অদম্য মেধাবী ওমর ওসমান রাজুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তাদের মতো সকল মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে সমাজের সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফাতেমা খাতুন, ছোট ভাই রাফিউল, স্বপ্ন সুপার শপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন প্রমূখ।

দেশের বাজারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

দেশের বাজারে এপ্রিলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ ১ ফেব্রæয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে দুই টাকা কমে ১০০ টাকা করা হয়। এছাড়া দুই টাকা কমে প্রতি লিটার অকটেন ১২২ টাকা থেকে ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৮ টাকা থেকে ১১৬ টাকা হয়। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ টাকা থেকে ২ টাকা কমে হয় ১১২ টাকা।

মার্চ মাসেও সেই দাম বহাল থাকে। এখন এপ্রিল মাসও একই দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।

এপ্রিল মাসেও ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এজন্য ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত)’ আলোকে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে জানুয়ারি থেকে তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে সংকট। জ্বালানি তেল নিতে গ্রাহকদের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বেশিরভাগ সময়ই পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তেলের সরবরাহ ও মজুত পর্যাপ্ত। আতঙ্কিত হয়ে মানুষের বেশি তেল কেনা ও অবৈধভাবে মজুত করায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকারের অভিযানে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হচ্ছে। বেশি দাম পাওয়ার আশায় কিছু অসাধু মানুষ তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তুলছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো চিন্তা তাদের নেই।

সাঁতারু নয়ন আলী জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন

0

কুমারখালী প্রতিনিধি

ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতায় সফলতা সহ জাতীয় পর্যায়ে অবদানের স্বীকৃতি-স্বরূপ কুমারখালী নয়ন আলী জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার অর্জন করেছেন।

ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হাত থেকে সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া নয়ন আলীর বাবা রোজদার আলী ও মা পারুলি বেগম। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের অনুপ্রেরণায় তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন।

২০০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা নয়ন আলী বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-তে কর্মরত আছেন। ছোটবেলা থেকেই সাঁতারের প্রতি গভীর আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করে। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি আজ একজন সফল সাঁতারু।

ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পদক জিতে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে নয়ন আলী শুধু নিজের নয়, পুরো কুমারখালী তথা কুষ্টিয়া জেলার গর্বে পরিণত হয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং এখান থেকে আরও প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নয়ন আলী ভবিষ্যতেও দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ-এর পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরবেন।

কৃষককে হত্যার ঘটনায় চারজনের যাবজ্জীবন

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষক সাহাবুল ইসলাম মন্ডলকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে চারজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে এ রায় দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.এনায়েত কবির সরকার। নিহত সাহাবুল ইসলাম সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া চকপাড়া এলাকার মৃত লোকমান মন্ডলের ছেলে।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন মিরপুর উপজেলার মিটন পশ্চিমপাড়া গ্রামের মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক কালু, একই গ্রামের মসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের, আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন ও ওমর আলীর ছেলে মিলন। রায় ঘোষণার সময় আবু তাহের ছাড়া বাকিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সহধর্মিনীর ছোট বোন প্রবাসে অবস্থান করায় দেশে থাকা তার মেয়েক দেখভালের জন্য সন্তানদের নিয়ে মিরপুর উপজেলার মেটন গ্রামে পরিবার নিয়ে বাস করতো সাহাবুল ইসলাম। ২০১৯ সালের ২০ অক্টােবর বাড়ি থেকে বাজার করার জন্য স্থানীয় বাজারে গিয়ে নিখোঁজ হন সাহাবুল। পরেরদিন সকালে উপজেলার নওদা আজমপুর মাঠপাড়ার ধৈঞ্চা ক্ষেতের আইল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন নিহতের স্ত্রী সুমি খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম জাবীদ হাসান আসাদুল প্রামানিক কালুকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আবু তাহের, হাবিল হোসেন ও মিলনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রাম্য দলাদলির জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সাহাবুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তারা। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। এজাহারের বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলাটির দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসাদুল প্রামাণিক,আবু তাহের, হাবিল হোসেন ও মিলনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন বলে জানান।

প্লাটফর্ম না থাকায় ট্রেনে উঠতে হয় যুদ্ধ করে

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসা রেল ষ্টেশনের ২ নম্বর লাইনে প্লাটফর্ম নাই। সমতল থেকে ট্রেনের কামরার দূরত্ব খাড়া ৫ ফুট উচুতে। ফলে যাত্রীরদের ট্রেনে উঠা-নামা করতে হয় বাদুর ঝোলা হয়ে। বেশী বিরম্বনায় শিকার হন নারী যাত্রীরা। সেড সহ অধুনিক প্লাট ফর্ম নির্মানের দাবি স্থানীয় যাত্রীদের।

পশ্চিম রেলওয়ের পোড়াদহ – দৌলতদিয়া ঘাট (রাজবাড়ী সেকশন) রেল রুটে রাজধানী ঢাকা- রাজশাহী- বেনাপোল- খুলনায় প্রায় ১০ জোড়া ট্রেন আপ ডাউন করে। এসব ট্রেনের মধ্যে কমপক্ষে ২ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনের ক্রসিং হয় খোকসা ষ্টেশনে। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। দুই নম্বর লাইনে প্লাট ফর্ম নাই। এই লাইনে দাঁড়ানো ট্রেনে ওঠা-নামার যাত্রীরা পরেন বিরম্বনায়। সমতল ভূমি থেকে ট্রেনের কামরার দূরত্ব খাড়া ৫ ফুট উচুতে। যাত্রীদের ট্রেনে ওঠা নামা করতে হয় বাদুর ঝোলা হয়ে। এই রেল রুটের কুষ্টিয়ার জেলার খোকসা সহ ৬টি ষ্টেশনের একটিরও ২ নম্বর লাইনের প্লাটফর্ম নেই।

স্থনীয়রা জানান, রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর খুলনা ও রাজশাহী ছাড়াও বেনাপোল স্থলবনন্দর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রেন যাত্রী এই রুটে আসা যাওয়া করেন। রেলওয়ের রাজবাড়ী সেকশনের ১৬টি ষ্টেশনের দুই/একটি বাদে একটি ষ্টেশনেও ২ নম্বর লাইনে কোন প্লাটফর্ম ও সেড নেই। শুধু ট্রেনে ওঠাই নয় ২ নম্বর প্লাটমর্ধে নামা যাত্রীরা মূল প্লাটফর্মে উঠতে পরেও আর এক বিরম্বনায়। সমতল থেকে প্লাটফর্মটির তিন ফুটের বেশা উচুু। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই রুটের ট্রেনযাত্রীরা যাওয়া আসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ট্রেন গুলোতে যাত্রীদের ওঠা নামা হয়রানির ঘটনা নিরশনের জন্য এ পর্যন্ত একাধিকবার রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবার আবেদনের পর স্থানীয় প্রতিনিধিদের একাধিক দল রেলের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন। প্রতিবারই নতুন প্লাটফর্ম করার আশ্বাস পাওয়া গেছে কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

বুধবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তখন রাজশাহী গ্রামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনর জন্য যাত্রীরা দুই নম্বর লাইনের অপেক্ষা করছেন। ট্রেনটি ষ্টেশনের ঢোকার সাথে সাথে নারী শিশু সহ যাত্রীদের টেনে ওঠা নিয়ে তারাহুরা শুরু হয়ে গেলো। রেল লাইন থেকে ট্রেনের কামরার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট উচুতে। যাত্রীরা একে অন্যের সহযোগীতায় পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ট্রেনে উঠতে লাগলেন। একটু ভীড় থাকায় অনেক নারী যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারলেনা। ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ালো ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেন দু’খানি পর্যায় ক্রমে ষ্টেশন ছেড়ে গেলো। পরে রইলেন অনেক যাত্রী।

রাহেলা বেগম নামের এক যাত্রী জানান, রাহশাহী ডাক্তর দেখানোর জন্য তার যাওয়ার কথা ছিলো। আগে ভাগে ট্রেনের টিকেট নিয়েছিলেন। ট্রেনের কামড়ার উচ্চতা বেশী থাকায় সে ও তার ছেলে ট্রেনে উঠতে পারেনি। আজ আর তার ডাক্তার দেখানো হলো না। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তার বাড়ি উপজেলা সাতপাখিয়া গ্রামে। তার মতই অনেকেই ট্রেনে উঠতে না পেরে ফিরে গেলেন।

যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন, কন্ঠ শিল্পী খন্দকার সেলিম রেজা বলেন, দুই নম্বর প্লাটফর্ম নির্মানের দাবিতে তারা কয়েক দফায় আবেদন করেছেন। প্রতিবারই রেলের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন কিন্তু প্লাটফর্ম তৈরী হয়নি।

বুকিং মাস্টার স্বজল হোসেন জানান, ট্রেনের ক্রসিং হলে ২ নম্বর লাইনের ট্রেন যাত্রীদের সমস্যা হয়। মাটি থেকে প্রায় ৫ ফুট উচুতে ওঠা একটু কষ্টের।

পশ্চিম রেলের পাকশি রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হানিফ এর সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, রাজবাড়ী সেকশনের পাংশা ষ্টেশনের উন্নয়ন কাজ চলছে। কুষ্টিয়া সদরের কোট ষ্টেশনের প্লাটফর্ম নির্মানের টেন্ডার হয়ে গেছে। পর্যায় ক্রমে ষ্টেশন গুলোর উন্নয়ন করা হবে।

অলৌকিক ভাবে প্রাণে বেঁচে গেলো বাসের ৪০ যাত্রী

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়া রাজবাড়ী সড়কের খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখমুখি সংঘর্ষে গাড়ি দুটি দুমড়ে মুচরে গেলেও অলৌকিকভাবে ৪০ যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেলো।

সোমবার বিকাল চারটার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসার শিমুলিয়া কুঠি পাড়ায় যাত্রীবাহী বাস (ফরিদপুর জ ১১-০০৪৮) ও (ঢাকা মেট্রো চ ৫২-০৯২৮ নম্বর ) মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। কুষ্টিয়া গামী মাইক্রো বাসটি দুমড়ে মুচরে চালক ও যাত্রী আটকে যায়। স্থানীয় উদ্ধার কর্মীরা চালক আশরাফ বিশ্বাস (৪০) ও গাড়ীর অপর আরহী মোঃ হাসান আলী (৪৫)কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগেয় নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসের চালকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাহত দু’জনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

যাত্রীবাহী বাসটি কুষ্টিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যাচ্ছিলো। বাসটির কয়েকজন নারী ও শিশু যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে উদ্ধারকারীরা আহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি। বাসটিতে ৪০ জনের মত যাত্রী ছিলো।

সুমাইয়া খাতুন নামের স্থানীয় এক নারী জানান, দুই গাড়ীর মুখোমুথি সংঘর্ষের পর বাসের চালক পালানোর সময় তাদের ডেকে বলেন রাস্তায় বাস এক্সিসেডেন্ট করেছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। তার মুখে খবর পেয়ে তিনি রাস্তায় এসে চিৎকার দেন। এসময় অনেক লোক জুটে যায়। বাসের কয়েকজন মহিলা ও শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে গেছে।

উদ্ধার কর্মী জহির উদ্দিন জানান, দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের শব্দ শুনে তিনি ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন। মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে মুচরে যাওয়া মাইক্রো বাসের চালক ও অপর যাত্রী আটকে ছিলেন। প্রথমে লোহার রডের তৈরী সাবল দিয়ে মাইক্রোর চালক ও যাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কয়েক মিনিট চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। অবশেষে অন্য একটি ট্রাকের সাথে মাইক্রো বাসের ডালা বেঁধে দিয়ে আটকেপরাদের উদ্ধার করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত সিনিয়র নাস আব্দুস সালাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই রোগীকে জরুরী বিভাগে আনা হয়। এদের মধ্যে আশরাফ নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহত মাইক্রো চালকের বোন প্রিয়ার সাথে রাত পৌনে ১০ টায় কথা বলাহলে তিনি হয়। তিনি জানান তারা শুধু একবার খবটা শুনেছেন। এর পরের অবস্থা আর জানা নেই।

খোকসা থানা পুলিশের এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি। তবে মাইক্রো চালকের অবস্থা গুরুতর বলে মনে হয়েছে। বাঁকী কাজ করবে কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ। তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্যেশে যাত্রা করেছেন।

ঘাট পারে বিরম্বনা

0

নদীতে চর যেগে ওঠায় কয়েক সপ্তাহ আগেই খেয়া ঘাটে নৌকা পারা বন্ধ হয়ে যায়। গড়াই নদীতে বাঁশের চরাট দিয়ে যাত্রী পারপার হচ্ছিলো। কিন্তু রবিবার বিকালে বৃষ্টির পর নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁশের চরাট ডুবে যায়। সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় পারাপার। দুই পারেই যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। গড়াই নদীর খোকসা -ওসমানপুর খেয়া ঘাট থেতে রবিবার সন্ধ্যায় তোলা ছবি।

সর্বশেষ সংবাদ

কুষ্টিয়ায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে...

পীর শামীম হত্যা মামলায় স্কুল ছাত্র গ্রেফতার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামীমের (৬৫) আস্তানায় হামলা ও হত্যা মামলায় এক স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর...

কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিনগত রাত আটটার দিকে শহরতলীর মোল্লাতেঘরিয়া...

কবে দুধ খেয়েছেন মনে নেই গড়াই মন্ডলের, আছে কিস্তির চাপ

স্টাফ রিপোর্টার “ ভালো নেই বাপ, সেদিন ল-পেসার ( ব্লাড প্রেসার কমে) হয়ে রাস্তায় পরে ছিলাম। একটু দুধ ডিম খাওয়ার উপয়নেই, কিস্তি ওয়ালেদের চাপ আছে।”...

খোকসায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুনার্মেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসায় উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুনার্মেন্টের ছেলে ও মেয়েদের একাদশের ফাইনাল খেলা দু’টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছেলেদের একাদশে ১-০ গোলে আমবাড়িয়া ও...