বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬.
Home Blog Page 5

শ্রেনিকক্ষে ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় বিদ্যালয়ের পিয়ন গ্রেপ্তার

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন মো.হামিদুল ইসলামকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে পিয়ন হামিদুলের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চান। এসময় পিয়ন দাবি করেন, বিদ্যালয়ে কেউ নেই এবং তিনি বিদ্যালয়ের চাবি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

এনিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে জোরপূর্বক পিয়ন হামিদুলের কাছ থেকে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের নিচ তলায় ওই ছাত্রীর পায়ের স্যান্ডেল, দোতালায় স্কুল ব্যাগ পাওয়া যায়। এবং তিন তলার একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

পরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।

মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, নএ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর মা শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৬। গ্রেপ্তারকৃত পিয়ন হামিদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আসামির রিমান্ড চাওয়া হবে।

দৌলতপুরে কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরীফ নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) নামে কথিত এক পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এসময় কথিত ওই পীরের আস্তানাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত দরবার শলীফে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় শামীমের আরও দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত শামীম ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন।

হামলাকারীদের অভিযোগ, তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশ বাগানের দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতেন।

এছাড়াও, তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী নিয়ম উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হামলাকারীদে অভিযোগ এই ভন্ড পীর নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করে থাকে। এসব কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

সম্প্রতি শামীম তার দরবারে অনুসারীদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআন শরীফ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। শামীম দাবি করেন, “কোরআন যিনি লিখেছেন তিনিও মূর্খ এবং যারা এটি পড়েন তারাও মূর্খ।” এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ধারাবাহিকতায় শনিবার বেলা একটার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী এলোপাথাড়ি পিটুনির শিকার হন।

বিকাল তিনটার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমসহ তিনজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত বাকি দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫-৬ বছর ধরে শামীম ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও গান-বাজনা করে লাশ দাফন করাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে তিনি জনসমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছিলেন।

শামীম ঢাকা থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রসঙ্গত এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকান্ড শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

খোকসায় প্রকাশ্য বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক আহত

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় প্রকাশ্য বাজারের দুর্বৃত্তরা এক যুবককে গুলি করে অপর এক রং মিস্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা ওসমানপুর ইউনিয়নের হিজলাবট বাজারে জনসমুখ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আহত হয়েছেন হিজলাবট গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে রিয়াজ (২২)। এ সময় দুর্বৃত্তরা দেবিনগর গ্রামে ময়েন আলীর ছেলে রং মিস্ত্রী আশরাফুল (৩৫) কে রক্তাক্ত আহত করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। গুলিবিদ্ধ আহত রিয়াজকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গুলিবিদ্ধ আহত যুবকের ফুফাতো ভাই রুহুল আমিন জানান, বেলা ১২টার দিকে হিজলাবট বাজারের একটি কাঠের ফার্নিচারের দোকানে রিয়াজ ও রং মিস্ত্রী আশরাফুল কথা বলছিলো। স্বশস্ত্র দুর্বৃত্তরা জনসমুখ্যে বাজারের মধ্যে তাদের উপর আক্রমন চালায়। এসময় রিয়াজ পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে। ফিল্মী ষ্টাইলে ছোড়া গুলিতে সে গুলিবিদ্ধ আহত হয়। এক পর্যাযে দুর্বৃত্তরা নিরাপদে চলে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মুক্তাদির হাসান বলেন, গুলিবিদ্ধ রিয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ডার পাশর দিয়ে একটা গুলি ঢুকেছে। পেটের সামনের দিকে চামড়ার নিচে গুলিটি আটকে রয়েছে। গুলিটির অবস্থান নির্ণয় করাসহ উন্নত চিকিৎার জন্য তাকে কুষ্টিয়া রেফার্ড করা হয়েছে।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন প্রকাশ্য বাজারে যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ যুবক ও রং মিস্ত্রী একই চিহ্ণিত সন্ত্রাসী বাহিনীর লোক। নিজের মধ্যে কথা কাটাকাটি নিয়ে গুলির পর্যাযে পৌঁ”েছে। গুলিবিদ্ধ আহতের চিকিৎসা নিয়ে তার পরিবার কুষ্টিয়াতে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ মামলা দিলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম- অ্যার্টনি জেনারেল

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, দেশে এখন যে ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম হয়েছে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে এসেছে। বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার অংশ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে স্থানীয় সুধীজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার কাজল একথা বলেন। অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র বিনির্মানের প্রত্যাশা জনগণ করেছিল। দেশের মানুষের সেই প্রত্যাশা পুরণে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এই সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে সরকার জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাইবুনাল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেছেন। রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আইনগত ভাবে আপিলের সুযোগ আছে। সরকার কিংবা আসামীপক্ষ রায়ের বিপক্ষে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। আমাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, অভিযুক্ত আসামী সবসময়ই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে থাকে। তবে, সংক্ষুব্ধ পক্ষকে মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানানোর চেয়ে আদালতের আশ্রয় নেয়া এবং আদালতেই তাদের বক্তব্য তুলে ধরা উচিত।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। মাননীয় আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সুস্পষ্ট ভাবে সরকারের অবস্থান ব্যাখা করেছেন।

কোটচাঁদপুরের জনপ্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট একরামুল আলম, কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান, কোটচাঁদপুর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান, জাহিদুজ্জামান মনা, আবুবকর বিশ্বাস, লিয়াকত আলী, কেএমএইস কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুস সবুর খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরে শ্রেণিকক্ষ থেকে ধর্ষিত কিশোরী উদ্ধার

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতে স্কুল ভবন থেকে অচেতন অবস্থায় এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর ওই কিশোরীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানালেও এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী কিশোরী মিরপুর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের বাসিন্দা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে তার নানাবাড়ি ছত্রগাছা গ্রামে বসবাস করে আসছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয় যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরিবারের দাবি, অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত আটটার দিকে বিদ্যালয়়র পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ওই কিশোরীকে খোঁজা শুরু করে। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে কিশোরীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: হোসেন ইমাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে রাতের দিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়েজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, অনুষ্ঠান শেষে তার মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ আনতে গিয়েছিল ওখান থেকে তৃতীয় তলায় গিয়েছিল। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছে না।

এদিকে জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, সে সিড়ির কাছে বসে ছিল, এরপর তার আর কিছুই মনে নেই।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর জানান, তারা আপাতত বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে সঠিক বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কবর স্থানের গাছ বিক্রি ও বিএনপির দুই গ্রুপের হামলায় আহত ৪২

0

স্টাফ রিপোর্টার

কবর স্থানের গাছ বিক্রি কেন্দ্র করে দুই গ্রাম বাসীরা মাইকিং করে হামলা পাল্টা হামলা চালায়। অপরদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায়র স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রæপের মধ্যে রক্তয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪২ জন আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া করব স্থানের গাছ বিক্রি করে মাটি ভরাট করা কেন্দ্র করে দুই দল গ্রাম বাসীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় কমপক্ষে দুই গ্রামের ২০ জন আহত হয়। হামলা কারীরা কবর স্থানের দেয়ালে লেখা বর্তমান কমিটি ও স্থপতিদের নাম লাল কালি দিয়ে মুছে দেয়। শতবর্শী সাতপাখিয়া কবর স্থানটি ১৬ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। কোটি টাকা মূল্যের কয়েক হাজার মেহগনি গাছ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতুব্বরদের বিরোধ রয়েছে। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রনে চলে বর্তমান কমিটি। বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরদের রয়েছে আর একটি কমিটি। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীদের বর্তমান কমিটি এখান থেকে ১০টি মেহগণির গাছ বিক্রি করে কবরস্থানের মাটি ভরাট শুরু করে। এ দিন সকালে বরইচাড়া গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা করে কবর স্থানের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দাররা মাইকে ঘোষনা দিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহতের চেষ্টা করে। শুরু হয় দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এভাবে চলে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা। দুই পক্ষের আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সাময়ীক নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে দুপুরে এ রিপোট লেখা পর্যন্ত সাতপাখিয়া গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে হামলা প্রতিহত করতে ঘোষনা দেওয়া হচ্ছে।

কবর স্থানের মাটির শ্রমিক শুরুর আলী বলেন, তারা প্রায় ২০জন শ্রমিক কবর স্থানে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে বরইচারা গ্রামের প্রায় ২শ লোক তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশী ধারালো অস্ত্র ছিলো। শ্রমিকরা পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলী বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা সাতপাখিয়া কবর স্থানের জমি দান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটা মানতে নারাজ। সাতপাখিয়া গ্রামের কয়েকজন সাবেক মেম্বর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চুরি করে গাছ বিক্রি করেছে। বরইচাড়া গ্রামের লোকজন গাছ কাটা বন্ধ করতে গিয়েছিলো। এ সময় প্রতিপক্ষ তাদের উপর হামলা করে। হামলা আহত বরইচারা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৪০)সহ দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

সাতপাখিয়া কবর স্থানের সভাপতি আবু মুসা বলেন, কবর স্থানে প্রতিপক্ষ বরইচাড়া গ্রামবাসীদের কোন অবদান নেই। তার পরেও তারা মৃতদেহ দাফন করে। অনেকবার তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কমিটর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০টি মেহগণির গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সে টাকা দিয়ে কবর স্থানের মাটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বিনা উষ্কানিতে কমিটির নিয়োজিত শ্রমিকদের উপর হামলা করে। দেয়াল লিখন মুছে দেয়। সাতপাখিয়া গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। তাদের হামলায় কমিটির প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। তিনি কবর স্থানে শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের উপর হামলা কারীদের বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার সকালে প্রায় একই সময়ে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে দুই যুবকের মধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুটি গ্রæপের কর্মীরা হামলা পাল্টা হামলা জড়িয়ে পরে।

দুই পক্ষের আহতরা সবাই নিজেদের বিএনপি কর্মী বলে দাবি করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিনের দলীয় পদ নেই। তার প্রতিপক্ষ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুল বিশ্বাসের ছেলে রনি ও নবীনের ছেলে শিপলুর মধ্যে বিরোধ হয়। এ ঘটনা কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের ২২ জন আহত হয়। এ ছাড়া দুই পক্ষ ৬টি বাড়ি ভাংচুর করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জনকে ভর্তিকরা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কবর স্থান কমিটি ও বিএনপির নেতারা।

বনগ্রামের বিএনপি নেতা ও স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিন জানায়, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তার লোকদের উপর হামলা করেছে। হামলার তার পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। তার কর্মী শান্ত বিশ্বাসের ছেলে রন বিশ্বাসের অবস্থা গুরুত্বর হওয়া তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করা হয়েছে। তিনি মামলা করবেন।

আর এক বিএনপি নেতা আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু বলেন, হামলায় তার প্রায় ৭ জন কর্মী আহত হয়েছে। এসব কর্মীদের বাড়ি ঘরও তারা ভাংচুর করেছে।

খোকসা থানার ওসি তদন্ত মোশারফ হোসেন বলেন, দুই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। কোন অভিযোগ পাওযা যায়নি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাম্পে সিরিয়াল নিয়ে দন্দ্বে অন্ধকারে মিরপুর

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে তেল পাম্পে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার টানাপোড়েনে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকা। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা।

জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মিরপুর উপজেলাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাব-স্টেশনের ১৫টি ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা স্থানীয় মেসার্স মল্লিক তেল পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। এসময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জরুরী সেবাই নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলেন। কিন্তু জরুরি পরিষেবার কথা জানিয়ে কর্মীরা দ্রæত তেল নিতে চাইলে বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের জরুরি কাজ ব্যাহত হয় এবং ক্ষোভে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।

সকাল ৯টা থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলা স্থবির হয়ে পড়ে।

মিরপুর উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাড়িতে পানি তুলতে পারছি না, রান্নাবান্নাসহ সব কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

একই চিত্র সরকারি অফিসগুলোতেও। মিরপুর পৌর এলাকার সুলতানপুর থেকে জমির মিউটেশন (নামজারি) করতে আসা রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার জানান, সকাল থেকে বসে আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে ফরম পূরণ বা টাকা জমা দিতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহ শেষ। এখন আবার রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের এই কষ্টের দায় কে নেবে?

মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফুল হক বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা রাত থেকেই কাজ করছিল। সকালে নতুন কিছু ত্রæটি দেখা দিলে দ্রæত যাতায়াতের জন্য কর্মীদের তেল প্রয়োজন হয়। আমি নিজে ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করেছিলাম ওযন জরি বিবেচনায় আমাদের দ্রæত তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। তেল পেতে দেরি হওয়ায় লাইন চেক করে চালু করতেও বিলম্ব হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ট্রাক দিয়ে পথ আটকে পেট্রোল পাম্প অবরোধ

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় ডিজেলের দাবিতে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে ট্রাক রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় ১৮ ঘন্টা পরে প্রশাসনের মধ্যস্ততায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের সামনে থেকে অবরোধ সৃষ্টিকরা ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক গুলো সরিয়ে নেয় শ্রমিকরা। পরে পাম্পটির স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়।

সূত্র জানায় মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে বুধবার রাতে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল আনলোড করা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ২৫০০ লিটার ডিজেল কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করে দেয়। বাঁকী ৩৫০০লিটার ডিজেল স্থানীয়ও গণপরিবহনের জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু পাম্প কর্তৃপক্ষ গণপরিবহনের বরাদ্দ তেল কালোবাজারে কিক্রির চেষ্টা করলে পরিবহন শ্রমিকরা পাম্পটি অবরোধ করে রাখে।

ট্রাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় মালিকদের প্রায় ৩০ খানা ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন থেকে নিয়মিত ডিজেল নিয়ে থাকে। জ্বালানী তেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পর থেকে পাম্প থেকে তাদের সীমিত পরিমানের তেল দেওয়া শুরু করে। সম্প্রতি তাদের তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে এসব গাড়ির শ্রমিকরা বেকার হয়ে পরেছে। তারা বাধ্যহয়ে পাম্প অবরোধ কররেতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রত্যেকটি পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমান ডিজেল পেট্রোল অকটেন আসছে। এদিকে তেলে সংকট থেকেই যাচ্ছে। এই পাম্পের ডিজেল বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ন্যার্যদরে পরিহন পাচ্ছেনা।

ট্রাক ড্রাইভার আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন তাদের জন্য ৩৫০০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেয় পাম্প মালিক সে তেল আত্মসাতের চেষ্টা করলে তারা অবরোধ সৃষ্টি করে। প্রায় ১৮ ঘন্টা তারা অবরোধ করে রাখে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্ততায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা সাংবাদিক এড়িয়ে যান।

এই পাম্পের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হান বলেন, তারা ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ২ হাজার লিটার অকটের নিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিবহন শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় তেল দেওয়ার শর্তে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। পরে স্বাভাবিক অবস্থায় মোট তেল বন্টন করা হয়েছে।

কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১২ জন

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার কয়েকটি গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ১২ টার মধ্যে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের সিংঘড়িয়, বিলজানি, শিমুলিয়া মোল্লা পাড়াসহ ৬টি গ্রামে কুকুরের হামলায় এসব শি, ভ্যান শ্রমিক ও পথচারী আহত হন। আহতদের মধ্যে মাইশা (৪), রোহান (৫), ফারুক (২৫), মাইশা (১০), লোকমান (৩০), আব্দুস সালাম শেখ (৪৫) ও আব্দুল মালেক (৫০) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তিকরা হয়। তবে আহত যুবক ফারুক (২৫) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাঁকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামশ্য দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কুকুরের আক্রমনের শিকার ভ্যানচালক আব্দুল মালেক সরকার বলেন, তিনি ভ্যানে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজে গ্রাম সিংঘড়িয়ার মধ্যে রাস্তার পাশ থেকে ছুটে এসে পাগলা কুকুরটি তার উপর আক্রমন করে। একপর্যায়ে তার ভ্যানটি উল্টে যায়। কুকুরটি ভ্যান চালকের পেটের চামড়ায় কামর দিয়ে ঝুলে ছিলো। এখন হাসপাতালে ভ্যাকসিন নাই। নিজের টাকায় বাইরে থেকে ভ্যসিন কিনতে হবে।

শিশুলিয়া গ্রামের স্কুল ছাত্রী মাইশা (১০) জানায়, সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিলো। তখনই রাস্তায় কুকুর তার উপর আক্রমন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রাকিব হাসান জানান, কুকুরের আক্রমনে ফারুক নামের এক যুবকের হাতের টেন্ডুল ছিড়ে গেছে। উপজেলা পর্যায়ে টেন্ডুল জোড়া দেওয়া হয় না। তাই তাকে কুষ্টিয়াতে রেফার্ড করা হয়েছে।

“আমার বাবাকে খুজে দেন না”

0

স্টাফ রিপোর্টার

“পুলিশ আমার বাবাকে খুজে দিলো না। অনেক দিন হলো রাতে বাবা আর বাড়ি ফেরে না। দয়া করে আপনারা আমার বাবাকে খুঁজে দিন না।” রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ভ্যান চালক আজিমের শিশু পুত্র মাহিম তার বাবাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কাঁপাকাঁপা কন্ঠে এ ভাবেই মাইকে আকুতি করছিলো।

বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা বাস স্ট্যান্ডে নিখোঁজ ভ্যান চালক আজিম (৩৫) কে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করে নিখোঁজের পরিবার ও গ্রামবাসী। সকাল ১০ টায় মানববন্ধন শুরু হয়। এতে কয়েকশ নারী পুরুষ অংশ গ্রহন করেন। পরে মানববন্ধনকারীরা বিক্ষোভ মিছিলসহ থানা ও উপজেলা পরিষদে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন। কর্মকর্তারা না থাকায় বিক্ষোভকারীরা ফিরে যায়। মানববন্ধন চলাকালে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে এক কিলোমিটার জুড়ে যাত্রী ও পন্যবাহী গাড়ির জাম সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়।

মানববন্ধন চলাকালে ভ্যান চালকের ৮ বছর বয়সের শিশু পুত্র মাহিম বাবাকে ফিরে পেতে তার আকুতি জানায়। শিশুটি দাবি করে, তার বাবাকে খুন করা হতে পারে। তারা অনেক বার পুলিশের কাছে গেছে কিন্তু পুলিশ তার বাবাকে খুজে দেয়নি। নিখোঁজ বাবাকে খুজে দেওয়ার জন্য উপস্থিত মানুষের কাছে আকুতি জানায়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিখোঁজ ভ্যান চালকের বোন মাজেদা খাতুন দাবি করেন, প্রতিবেশীর সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাই আমিজকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। বিএনপির এক নেতার কারনে তারা পুলিশের কাছে গিয়ে বিচার পাচ্ছেন না। তারা তার ভাইকে জীবিত অথবা মৃত উদ্ধারের দাবি করেন।

নিখোঁজ ভ্যান চালকের ভগ্নিপতি ইকরামূল হক দাবি করেন, তার শ্যালক নিখোঁজের চার দিন পার হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। জিডিতি উল্লেখ করা আসামীরা বাড়ি ফিরে এসেছে। এর পেছনে একজন রাজনৈতিক নেতা কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খোকসা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় নিজের পাখি ভ্যান মেরামতে দিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন ভ্যান চালক আব্দুল আজিম। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি তাঁতী পাড়ার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। সে দুই সন্তানের পিতা। প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানের সাথে তার চার শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সে নিখোঁজের কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্ততায় ইউনিয়ন পরিষদে শালিসী বৈঠক হয়। সে বৈঠকে ভ্যানচালক আজিমকে দখলী জমি থেকে ঘর ভেঙ্গে নেওয়ার রায় দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে রহস্যজনক ভাবে ভ্যানচালক নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় খোকসা থানায় একটি জিডি রেকর্ড করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদাবাজী অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ৩৬ জন সাধারণ দলিল লেখক এ...

অস্ত্র ঠেকিয়ে এজেন্ট ব্যাংকের টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি বাজারের ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের স্বত্ত¡াধিকারীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চার লাখ ৪১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার...

কুমারখালীতে রাতে ছাত্রলীগের মিছিল, সকালে গ্রেপ্তার ৩

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে কুমারখালী পৌরসভার শেরকান্দি এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে...

বাঁশের শিল্পকর্ম

বাঁশ দিয়ে তৈরী কুলা, চালুন, টুরিসহ ঘর গৃহস্থলির কাজে ব্যবহারের বাহারী পন্যের পসরা সাজিয়ে বেড়িয়েছে ফেরিওয়ালা নিতাই দাস। কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা থেকে...

কুষ্টিয়ায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে...