বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬.
Home Blog Page 9

বন্ধুত্ব রক্ষা

0

পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর ৩০০ শ টাকার পেট্রোল পেয়েছেন। কিন্তু অন্য বন্ধুর মোটরসাইকেলে তেল নাই। গত দুইদিন ঘরে পরে আছে। তাই নিজের গাড়ির ট্যাঙ্কি থেকে পাইপ দিয়ে বোতল ভরে তেল দিয়ে বন্ধুত্ব রক্ষা করছেন। অথচ প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খোকসা উপজেলার দু’টি পাম্প থেকে গড়ে ৪/৫ হাজার লিটার পেট্রোল অকটের সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সংকট যাচ্ছেনা। সকাল হলেই তেল পাম্পের সামনে হাজারো মোটরসাইকেলের উপস্থিতি চোখে পরে। শনিবার দুপুরে খোকসার প্রধান বাজার থেকে ছবি তোলা।

গভর্নমেন্ট আমাদের, আগের ডিসি গাদ্দারী করেছেন আমরা তাকে বদলি করে দিয়েছি – পরাজিত এমপি প্রার্থী

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ওপর দোষ চাপালেন কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। সে সঙ্গে শাস্তিস্বরূপ তাকে বদলি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও ঘুরছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ সময় অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।

২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। কিন্তু দাওয়াত পাওয়ার অধিকার আমাদের নেই। গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’

সবশেষ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মেহেদী রুমী বলেন, ‘৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নাম, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এই রকম বহু লোককে চিনি আমরা। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তখন এখানে উপস্থিত অনেকেরই জন্ম হয়নি।’

নির্বাচনকালীন এখনকার আগের জেলা প্রশাসকের ভূমিকা টেনে মেহেদী রুমী বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। জানি না আমার অপরাধ কী। আমরা একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি, এটাই আমার অপরাধ। আমি নির্বাচনে ভোট গণনার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছি। হাইকোর্ট একসেপ্ট করেছে। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনঃগণনা হবে। আমি বিজয়ী হব, হব, হব ইনশা আল্লাহ।’

বক্তব্যের শেষ দিকে মেহেদী রুমি বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভর্নমেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন, বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’

কুিষ্টয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকুসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। মেহেদী রুমীকে ভোটে হারিয়ে এই আসনে জয় পান জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বললেন – আমির হামজা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদের জুম্মার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন,”এখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটা নাস্তিক এবং ইসলাম বিদ্বেষী। আপনি যদি বলেন জামায়াত ইসলামী বিদ্বেষী, চরমোনাই পীরের বিদ্বেষী না, উনি ইসলাম বিদ্বেষী। উনার বক্তব্য কালকে দেখেছেন? এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে কেন আপনি বলেন তো? মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছে, আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেসা করেন তারা ইসলাম বিদ্বেষী কি না। তারা ধর্ম বিদ্বেষী কি না।”

আমির হামজা বলেন,”এরআগে তারেক রহমানের যে সমস্ত নামগুলো বাংলাদেশ ছড়ানো, বিশ্বের মানুষ জানে উনারে খাম্বা বলে ডাকে উনার কারণে না। এই টুকুর কারণে। উনারে যে খাম্বা বলে ডাকা হয় কারণ এই টুকুর কারণে। এই জায়গাটায় এর আগেও উনি মন্ত্রী ছিল।”

আমির হামজা আরও বলেন,”উনি এই সমস্ত জায়গাগুলোতে দায়িত্ব পেলে কি হয় হাহাকার লাগে আপনি এখন এই যে মজমপুরের তেল পাম্পে যান। বিআরবি কেবলের তেল পাম্পে যান, মন্ডল ফিলিং স্টেশনে যান। কি অবস্থা দেখেনতো কি হাহাকার চলছে। “

এই সংসদ সদস্য বলেন,”আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম ৫ লিটারের বেশি তেল দেয় না জেনেরেটর চালাতে। অথচো বিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালাতে। কত মানুষের জীবন বিপন্ন এখন আপনি টের পাচ্ছেন। এই সমস্ত অযোগ্য মানুষগুলোকে না দিয়ে যারা যোগ্যতা সম্পন্ন, যারা দেশের মানুষের প্রতি দরদ রাখে এরকম মানুষকে যদি সিরিয়াল আকারে বসানো যেত এই হাহাকারটা লাগতো না। এর আগেই তো সে পরীক্ষিত ছিল।”

দিন-রাত উড়ছে জাতীয় পতাকা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তবে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫ মার্চ থেকে দিনে ও রাতে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। এটিকে জাতীয় পতাকা অবমাননা দাবি করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সচেতন মহল।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৯৩ নম্বর কল্যাণপুর সরকারি প্রাথমমিক বিদ্যালয়ে সুনসান নিরবতা। বারান্দার লোহার গ্রিল ও ভবনের দরজায় ঝুলছে তালা। ভবনের সামনে অবস্থিত লোহার খ্ুঁটিতে উড়ছে অর্ধনমিত লাল – সবুজের পতাকা।

এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর আর নামানো হয়নি। দিনে রাতে একভাবে উড়ছে পতাকা। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও নিয়ম অনুসারে পতাকা তোলা হয়নি।

এঘটনায় ভুল স্বীকার করে মুঠোফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেনে বলেন, বিদ্যালয়ে দপ্তরী নেই। নিজেই জাতীয় পতাকা উঠানো – নামানোর কাজ করি। ২৬ মার্চ ফজরের নামাজ শেষ করে নিজহাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে চলে এসেছিলাম। পরে আর যাওয়া হয়নি। আমার ভুল হয়েছে। এখনই যাচ্ছি বিদ্যালয়ে। ‘

তার ভাষ্য, ২৫ মার্চও তিনি নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ২৬ মার্চ হয়তো বাচ্চারা পতাকা অর্ধনমিত করে ে ফেলতে পারে। এটা অপরাধ।

এমন ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও তিন লাখ মা – বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল – সবুজের পতাকা পেয়েছি। এভাবে সরকারি লোকের কাছ থেকে পতাকা অবমাননা মেনে নেওয়া যায়না। যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা মুঠোফোনে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তবে বিদ্যালয় চালু থাকলে খোলা ও বন্ধ পর্যন্ত পতাকা উড়বে। এভাবে তিন দিন ধরে পতাকা উড়ানো গুরুতর অবরাধ। শিক্ষককে শোকজ করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে নজরে এসেছে। অবশ্যয় তদন্ত সাপক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ, আটক দুই

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদক ও চোরচালানী পণ্যসহ দুই চোরকারবারীকে আটক করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে একপ্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ২টার সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কান্দিরপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে মোঃ মিঠুন মন্ডল (৩৫) এবং শহীদ হোসেন (২৫) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ হতে ২০ বোতল মদ, ৪০০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

এছাড়াও রাত ১টা ১০ মিনিটের সময় চিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গরুরা মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২৪ কেজি কারেন্ট জাল এবং ৪ লিটার অকটেন তেল উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার ৫২০ টাকা।

অন্যদিকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৪ টা ২০ মিনিটের সময় বিলগাথুয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূর্ব বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ৩৬০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

উদ্ধারকৃত এসব ভারতীয় মাদক ও চোরচালানী পণ্যের মোট মুল্য ৪ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য সহ সকল প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিহতদের পরিবার পেলো ত্রানের আর্থিক সহায়তা

0

স্টাফ রিপোর্টার

দৌলতদিয়া ঘটে পদ্মার পানিতে ডুবে যাওয়া বাসের নিহত তিন যাত্রীর পরিবারের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রসাশন।

পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ডুবে যাওয়া বাস থেকে খোকসার শিশু ইসরাফিল, আয়শা সিদ্দিকা ও যুবক রাজিব বিশ্বাসের বাড়িতে মৃতদেহ গুলো পৌছায় বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে সকাল সাড়ে ৬ টার মধ্যে। এরপরে শুরু হয় মৃতদেহগুলো দাফন ও সৎকারের আনুষ্ঠানিকতা। এ আয়োজন চলে দুপুর পর্যন্ত। এর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমাদুল হাসান নিখোঁজ শিশু ও যুবকের বাড়িতে যান। নিহতদের দাফন ও সৎকারের জন্য প্রতিটি পরিবারের জন্য ত্রাণ তহবিলের ২৫ হাজার তুলে দেন।

বাস ডুবির ঘটনায় খোকসা উপজেলার নিহতরা হলেন, শোমসপুর ইউনিয়নের শোমসপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা (১৩), একই ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের তিন বছরের শিশু ইসরাফিল ও জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজিব বিশ্বাস (২৬)।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমাদুল হাসান জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রত্যেকের নিহতদের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

বাবার কোল থেকে গভীর পানিতে ছিটকে যায় শিশু ইসরাফিল

0

ষ্টাফ রিপোর্টার

বাবার বুকের সাথে আদরে লেপটে ছিলো তিন বছর বয়সের একমাত্র শিশুপুত্র ইসরাফিল। দুর্ঘটনার পর পানির ভিতরে বাবার কোল থেকে ছিটকে যায় শিশুটি। পানির তোরে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে আবার ফিরেও পান তিনি। উদ্ধারকারীদের নৌকার ওঠার আগে শিশুটিকে আবার হারিয়ে ফেলেন তিনি।

বুধবার বিকালে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পানিতে ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন খোকসার শোসপুর ইউনিয়নের সন্তোসপুর গ্রামের দোলায়ার তার একমাত্র পুত্রসন্তান ইসরাফিল আর স্ত্রী নূর নাহার। আদরের শিশু পুত্রকে বুকের সাথে জড়িয়ে স্ত্রীর পাশের সিটে বসে ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ফেরিতে ওঠার সময় তাদের বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। স্বামী স্ত্রী দৈবিক (আকষ্মিক) ঁেবচে ফেরেন। কিন্তু শিশু পুত্র ইসরাফিল নিখোঁজ হয়ে যায়। গভীর রাতে নদীতে থেকে মৃত শিশুপুত্রকে ফায়ার সাভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন। ছেলে মৃতদেহ নিয়ে সর্বহারার মত গ্রামে ফিরে আসেন।

একমাত্র সন্তান ইসরাফিলকে হারিয়ে মা নুর নাহার অনেকটা পাগল প্রায়। মৃত ছেলের খাটিয়া থেকে একটু দূরে বাড়ির উঠানে একটি চেয়ারে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে ঘিরে আছেন প্রতিবেশী মহিলারা। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না তিনি। মাঝে মধ্যে চিৎকার করে কেঁদে উঠছেন। আবার একাই নিরব হয়ে যাচ্ছে।

পুত্রহারা শোকের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ইসরাফিলকে বুকে জড়িয়ে বাসের মধ্যে স্ত্রীর পাশে বসে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পানির মধ্যে হাত থেকে ছুটে যায় ইসরাফিল। পানিতোরে আবার ফিরে আসা একমাত্র সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন দেলোয়ার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সর্বনাশা পদ্মার তীব্র ¯্রােত বাবার বুক থেকে ইসরাফিলকে কেড়ে নিয়েছে।

একই বাসের যাত্রী ছিলেন খোকসার জানিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের যুবক রাজীব বিশ্বাস। ঢাকার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন রাজিব। এবার ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করার জন্য এক বৌদিকে পাত্রী দেখতে বলেছিলেন।

প্রতিবেশী বৌদি সঙ্গীতা বিশ্বাসকে রাজির বিয়ের জন্য পাত্রি দেখতে বলেছিলেন বলে তিনি জানান। আগামীতে বিয়ে করার জন্য বাড়িতে আসবেন। কিন্তু সে স্বপ্নের বিসর্জন হয়েছে পদ্মা নদীর জলে সৌহাদ্য পরিবহনের যাত্রী হয়ে। বিয়ে নয় শেষ বিদায়ের উৎসব চলছে তাকে ঘিরে।

এ দু’জন ছাড়াও খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের আয়শা সিদ্দিকা নামে ১৩ বছরের আর এক শিশু এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বাবা গিয়াস উদ্দিন ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাস ফেরিতে ওঠার আগেই নেমে যান। স্ত্রীর সাথে বাসে থাকা একমাত্র মেয়েকে চিপস কিনে দিয়ে আবাও ছেলেটিকে নিয়ে নেমে যান। নিজের চোখের সামনে স্ত্রী এবং একমাত্র মেয়েকে ডুবে যেতে দেখেছেন। কিন্তু কাউকে উদ্ধার করতে পারলেন না। তবে তার স্ত্রী লিটা খাতুন কে উদ্ধারকারীরা জীবিত উদ্ধার করে দেন।

খোকসার নিহত দুই শিশু ও এক যবকের দাফন সম্পন্ন

0

স্টাফ রিপোর্টার

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস থেকে উদ্ধার হওয়া নিহত দুই শিশু ও এক যুবককে খোকসার গ্রামের বাড়িতে দাফন ও সৎকার সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিখোঁজ রয়েছেন অজ্ঞাত পরিচয়ের একবৃদ্ধ যাত্রী।

বৃহস্পতিবার কাকডাকা ভোরে কুষ্টিয়ার খোকসার সন্তোষপুর গ্রামের দোয়লোয়ার হোসেনের নিহত শিশু পুত্র ইসরাফিল (৩) এর মৃতদহ বাড়িতে আনা হয়। প্রায় একই সময়ে নিহত আয়শা সিদ্দিকা (১৩)র মৃতদেহ শোমসপুর গ্রামের বাড়িতে পৌচ্ছায়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একই বাস দুর্ঘটনায় নিহত রাজিব বিশ্বাস (২৬) এর মৃতদেহ বহন করা এ্যাম্বুলেন্সটি তার গ্রামের বাড়ি খাগড়বাড়িয়াতে পৌচ্ছায়। একে একে মৃতদেহ গুলো পৌছানোর খবর ছড়িয়ে পরলে গ্রাম গুলোতে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। তবে পরিবহনটির খোকসার কাউন্টার মাষ্টারের দেওয়া তথ্য মতে অপর এক বৃদ্ধ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি।

সকাল ৯টায় উপজেলা শোমসপুরে পারিবারিক কবর স্থানে বড় চাচার কবরের পাশে দাফন করা হয় নিহত আয়শা সিদ্দিকা (১৩)কে। সে ১৮ পারা কোরআনের হাফেজা ছিলো। দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা লিটা খাতুন মেয়ে নিয়ে বাসে বসে ছিলেন। ছেলে আবুল কাশেম সাফিনকে নিয়ে বাবা গিয়াস উদ্দিন ফেরি ঘাটে নামেন। এর কয়েক মুহুত্যের মধ্যে ঘটে যায় মর্মস্পর্শী বাস দুর্ঘটনা।

নিহত শিশু আয়শা সিদ্দিকার বাবা গিয়াস উদ্দিন জানান, নিজের চোখের সামনে মেয়ে ও স্ত্রীকে ডুবে যেতে দেখেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী ভেসে উঠলেও মেয়েকে আর উদ্ধার করতে পারেনি। পরে গভীর রাতে ডুবুরিরা মৃত আয়শাকে উদ্ধার করেন। রাতেই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে আয়শার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়। তারা শেষ রাতে মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সকাল ৯ টায় পারিবারিক কবরস্থানে শিশুটির দাফন করা হয়। এই পরিবারটি কুমারখালী কাউন্টার থেকে সৌহাদ্য পরিবহনে বাসে উঠেন।

তিন বছরের শিশু ইসরাফিলের মৃতদেহ বৃহস্পতিবার প্রত্যুশে সন্তোষপুরে গ্রামে পৌচ্ছায়। এর পর থেকে শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। পরে তাকে সিংঘড়িয়া কবর স্থানে দাফন করা হয়। তারা পাংশা কাউন্টার থেকে বাসে ওঠেন।

নিহত রাজিবের মৃতদেহ উদ্ধার হয় বুধবার শেষ রাতে। এর পর তার মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে রাজিবের মৃতদহ বহন করা এ্যাম্বুলেন্সটি খাগড়বাড়িয়া গ্রামে পৌচ্ছায়। এসময় গ্রাম শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। নিহত যুবক যে কোম্পানিতে চাকুরি করতেন তার মালিকের আসার অপেক্ষায় মৃতদেহের সৎকার করতে বিলম্ব হয়। তবে দুপুর দিকে স্থানীয় শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশানে যুবকের সৎকার করার জন্য নেওয়া হয়।

সকালে সরেজমিন এসব গ্রামে যাওয়া হয়। শোমসপুর গ্রামের আয়শা সিদ্দিকার দাফন করে স্বজনরা সবে বাড়ি ফিরছেন। বাড়ি জুড়ে সুনশান নিরবতা। জানাযার জন্য নিহত শিশু ইসরাফিলের মৃতদেহ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিশুর বাবা দেলোয়ারকে বাড়িতে প্রবেশের পথের পাশে গাছেন নিচে বসিয়ে শান্তনা দেবার চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। ফুপু শিউলি নিহত শিশুর খাটিয়ার পাশে বসে বিলাপ করছে। মা নূর নাহারকে ঘিরে শান্তনা দিচ্ছেন স্বজনরা। তিনি চোখের পলকও ফেলছেন না। তারা পাংশা কাউন্টার থেকে ওই বাসে যাত্রা করেন।

নিজের বাড়ির উঠানে রাজিবের নিথর দেহের পাশে বিলাপ করছিলেন মা রেখা রানী বিশ্বাস। নিহত যুবকের বাবা হিমাংশু বিশ্বাস কে প্রতিবেশীর ঘরের বারান্দায় বসিয়ে শান্তনা দেবার চেষ্টা করছেন স্বজনরা। কিন্তু সে দিকে পাত্তা না দিয়ে নিথর হয়ে বসে আছেন। খাটিয়া সাজানোর জন্য বাড়ির বাইরে শিশুরা রঙিন কাগজ কাটছে। গ্রামজুড়ে যেনো নিরবতার ¯্রােত বইছে। কেউ কথা বলছেনা। সবাই যেনো নির্বাক হয়ে পরেছে।

ঈশ্বরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজিবের আত্মীয় সুজন মন্ডল জানান, রাজিবের মৃতদেহ উদ্ধারের পর তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। একটি এ্যাম্বুলেস সার্ভিস থেকে তাদের লাশটি বড়িতে পৌচ্ছে দেওয়া হয়। এর জন্য তাদের টাকা দিতে হয়নি। দুপুর পর তিনিই মুঠো ফোনে নিশ্চিত করেন স্থানীয় মহাশ্মশানে রাজিবের সৎকার শুরু হয়েছে।

নিহত শিশু ইসরাফিলের বাবা দোলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিটি গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে ওঠা নামা করে। তার মত আর কোন বাবা মা’র বুক যাতে খালি না হয় সেই জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে পল্টুন গুলোতে গ্রিল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আঠারো পারার কোরআনে হাফেজা মেয়ে আয়শাকে হারিয়ে অনেকটা চুপ হয়ে গেছেন গিয়াস উদ্দিন। তিনি শুধু বলেন, দুর্ঘটনার শুরুতে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পাছিলেন না। মুহুত্যের মধ্যে তার মত অনেক বাবা মার বুক খালি হয়ে গেলে।

নিহতরা সবাই ঈদের ছুটি শেষ করে কুমারখালী থেকে ঢাকা গামী সৌহাদ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসে ঢাকায় ফিরছিলেন। খোকসার নিহত তিনজনে মধ্যে দুই শিশুর বাড়ি শোসপুর ইউনিয়নের শোমসপুর ও সন্তোষপুর গ্রামে। যুবক রাজিবের বাড়ি জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়িয়া গ্রামে।

বাস ডুবি: খোকসার খাইরুল বেঁচে ফিরলেন, তবে নিখোঁজ আরও তিনজন

0

স্টাফ রিপোর্টার

দৌলদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬) বেঁচে ফিরেছেন। তবে তার পাশের সিটে বসা খোকসার অপর এক যুবকের খোঁজ মিলছে না এখনো। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের একবৃদ্ধ ও একশিশু যাত্রীর সন্ধ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।

বুধবার বিকালে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের বেঁচে ফেরা যাত্রী খাইরুল ইসলাম খাঁ’র বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামে। সে মৃত কুদ্দুস খাঁ’র ছেলে। নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেছিলেন তিনি। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহুত্যে কী ভাবে নদীর পানিতে ছিটকে পরলেন তা তিনি বলতে পারেন না। তবে নদী সাঁতরে ডাঙ্গায় ওঠার সাথে সাথে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মুঠো ফোনটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত দেননি। মুঠোফোন গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন তিনি।

কাউন্টার মাষ্টার জানান, দুপুর আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকা গামী সৌহাদ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসটি ছেড়ে আসে। কয়েক মিনিট বলম্বে খোকসা বাস স্ট্যান্ডে এসে পৌছায়। এখান থেকে মাত্র দুইজন যাত্রী বাসটিতে ওঠে। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।

দুর্ঘটনা কবলিত বসের বেঁচে ফেরা যাত্রী খাইরুল ইসলাম জানান, তার সিট নাম্বর ছিলো বি – ২। তার পাশের ছিটের যাত্রী সাদা টি সাট পরা যুবকটিও খোকসা ষ্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠেন। তাদের বাসটি ফেরি ঘাটে পৌছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যায়। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিলো। হঠাৎ প্রচন্ড ঝাকুনি লাগে। তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পরেন। তার দেখা হাতে গোনা কয়েকজন বাসযাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পল্টুনে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন।

খাইরুল জানায়, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সাথে আর দেখা হয়নি। তার ধারনা, হয়তো যুবকটি অন্য যাত্রীদের সাথে বাসের মধ্যে আটকা পরেছে। সে জানায়, বাসের প্রতিটি সিট যাত্রীতে ঠাসা ছিলো। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সাথে দুই/তিন জন বাচ্চা ছিলো। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পরেছে।

তিনি (খাইরুল) একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিন ম্যানের চাকুরি করেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। এ দিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।

খাইরুলের পাশের সিটে বসা সাদা টি সার্ট পরা নিখোঁজ যুবকের নাম রাজিব বিশ্বাস হতে পারে বলে দাবি করছেন তার এক নিটক আত্মীয় ঈশ্বরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুজন মন্ডল এবং সৌহাদ্য পরিবহনের কাউন্টার মাষ্টার। নিখোঁজ রাজিব খোকসার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে।

দুর্ঘটনার পর পরিবারের লোকেরা রাজিবকে ফোনে পাচ্ছেন না। এক পর্যায়ে আত্মীয় সুজন মন্ডল লোকজন নিয়ে সৌহাদ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টারে ছুটে আসেন। রাত ১১ টা পর্যন্ত তারা রাজিবকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে পাশের সিটির যাত্রী খাইরুল সাথে কথা বলে রাজিব নিখোঁজের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। পরে তারা দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের উদ্যেশ্যে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন।

সুজন মন্ডল জানান, নিখোঁজ রাজিব একটি বেসকারী প্রতিষ্ঠানের চাকুরি করতেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার আবার ঢাকার কর্মস্থলে ফিরছিলেন। তার গায়ে সাদা টি সার্ট ছিলো। নিখোঁজ রাজিবের ছবি দেয়নি পরিবাবার।

নদীর পানিত ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী রাজিব ছাড়াও খোকসার শোমসপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের তিন বছরের শিশু ইসরাফিল নিখোঁজ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সূত্রটি বলছে, নিখোঁজ ওই শিশুর পিতার নাম দেলোয়ার হোসেন। শিশুসহ বাবা মা ওই বাসে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দেলোয়ার দম্পতি কোন কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌহাদ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাষ্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলো। তাদের একজন জীবীত ফিরেছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও এখান থেকে বাসে উঠেছিলেন। ওই বৃদ্ধ ও বি – ১ আসনের যাত্রী রাজিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেনের সাথে রাত দেড়টায় কথা বলা হলে তিনি জানান, কয়েকজন নিখোজ (মিসিং) আছে বলে খবর পেয়েছেন। তবে কাগজে কলমে তিনি এখনো কোন তথ্য পাননি।

ট্রেন থেকে ভারতীয় মাদক এলএসডি’র বড় চালান আটক

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক এলএসডি উদ্ধার করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহল দল মিরপুর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘মধুমতি এক্সপ্রেস’ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২ বোতল ভারতীয় মাদক এলএসডি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এলএসডির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

এছাড়া মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে সীমান্তবর্তী মুন্সিগঞ্জ মাঠ ও প্রাগপুর নদীর ঘাট এলাকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ফেয়ারডিল সিরাপ এবং পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৫ টাকা।

বিজিবি জানায়,সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য সহ সকল প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ

কুমারখালীতে রাতে ছাত্রলীগের মিছিল, সকালে গ্রেপ্তার ৩

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে কুমারখালী পৌরসভার শেরকান্দি এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে...

বাঁশের শিল্পকর্ম

বাঁশ দিয়ে তৈরী কুলা, চালুন, টুরিসহ ঘর গৃহস্থলির কাজে ব্যবহারের বাহারী পন্যের পসরা সাজিয়ে বেড়িয়েছে ফেরিওয়ালা নিতাই দাস। কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা থেকে...

কুষ্টিয়ায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে...

পীর শামীম হত্যা মামলায় স্কুল ছাত্র গ্রেফতার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামীমের (৬৫) আস্তানায় হামলা ও হত্যা মামলায় এক স্কুলছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর...

কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিনগত রাত আটটার দিকে শহরতলীর মোল্লাতেঘরিয়া...