বাবার কোল থেকে গভীর পানিতে ছিটকে যায় শিশু ইসরাফিল

0
6

ষ্টাফ রিপোর্টার

বাবার বুকের সাথে আদরে লেপটে ছিলো তিন বছর বয়সের একমাত্র শিশুপুত্র ইসরাফিল। দুর্ঘটনার পর পানির ভিতরে বাবার কোল থেকে ছিটকে যায় শিশুটি। পানির তোরে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে আবার ফিরেও পান তিনি। উদ্ধারকারীদের নৌকার ওঠার আগে শিশুটিকে আবার হারিয়ে ফেলেন তিনি।

বুধবার বিকালে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পানিতে ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন খোকসার শোসপুর ইউনিয়নের সন্তোসপুর গ্রামের দোলায়ার তার একমাত্র পুত্রসন্তান ইসরাফিল আর স্ত্রী নূর নাহার। আদরের শিশু পুত্রকে বুকের সাথে জড়িয়ে স্ত্রীর পাশের সিটে বসে ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ফেরিতে ওঠার সময় তাদের বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। স্বামী স্ত্রী দৈবিক (আকষ্মিক) ঁেবচে ফেরেন। কিন্তু শিশু পুত্র ইসরাফিল নিখোঁজ হয়ে যায়। গভীর রাতে নদীতে থেকে মৃত শিশুপুত্রকে ফায়ার সাভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন। ছেলে মৃতদেহ নিয়ে সর্বহারার মত গ্রামে ফিরে আসেন।

একমাত্র সন্তান ইসরাফিলকে হারিয়ে মা নুর নাহার অনেকটা পাগল প্রায়। মৃত ছেলের খাটিয়া থেকে একটু দূরে বাড়ির উঠানে একটি চেয়ারে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে ঘিরে আছেন প্রতিবেশী মহিলারা। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না তিনি। মাঝে মধ্যে চিৎকার করে কেঁদে উঠছেন। আবার একাই নিরব হয়ে যাচ্ছে।

পুত্রহারা শোকের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ইসরাফিলকে বুকে জড়িয়ে বাসের মধ্যে স্ত্রীর পাশে বসে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর পানির মধ্যে হাত থেকে ছুটে যায় ইসরাফিল। পানিতোরে আবার ফিরে আসা একমাত্র সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেন দেলোয়ার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সর্বনাশা পদ্মার তীব্র ¯্রােত বাবার বুক থেকে ইসরাফিলকে কেড়ে নিয়েছে।

একই বাসের যাত্রী ছিলেন খোকসার জানিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের যুবক রাজীব বিশ্বাস। ঢাকার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন রাজিব। এবার ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করার জন্য এক বৌদিকে পাত্রী দেখতে বলেছিলেন।

প্রতিবেশী বৌদি সঙ্গীতা বিশ্বাসকে রাজির বিয়ের জন্য পাত্রি দেখতে বলেছিলেন বলে তিনি জানান। আগামীতে বিয়ে করার জন্য বাড়িতে আসবেন। কিন্তু সে স্বপ্নের বিসর্জন হয়েছে পদ্মা নদীর জলে সৌহাদ্য পরিবহনের যাত্রী হয়ে। বিয়ে নয় শেষ বিদায়ের উৎসব চলছে তাকে ঘিরে।

এ দু’জন ছাড়াও খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের আয়শা সিদ্দিকা নামে ১৩ বছরের আর এক শিশু এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বাবা গিয়াস উদ্দিন ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাস ফেরিতে ওঠার আগেই নেমে যান। স্ত্রীর সাথে বাসে থাকা একমাত্র মেয়েকে চিপস কিনে দিয়ে আবাও ছেলেটিকে নিয়ে নেমে যান। নিজের চোখের সামনে স্ত্রী এবং একমাত্র মেয়েকে ডুবে যেতে দেখেছেন। কিন্তু কাউকে উদ্ধার করতে পারলেন না। তবে তার স্ত্রী লিটা খাতুন কে উদ্ধারকারীরা জীবিত উদ্ধার করে দেন।