শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬.
Home Blog Page 5

কুমারখালীতে ইটভাটায় হামলা ভাঙচুর – গুলিবর্ষণ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইটভাটায় হামলা ভাঙচুর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামে অবস্থিত এনএসবি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টার দিকে মুঠোফোনে এ তথ্য জানিয়েছেন এনএসবি ইটভাটার মালিক আনোয়ার হোসেন আসাদ। তিনি ওই গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের ছেলে।

আসাদ বলেন, ‘ আমি ভাটায় ছিলাম না। ম্যানেজার ফোনে জানালো যে, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ৭ – ৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ইটভাটায় এসে আমাকে খোঁজেন। না পেয়ে ঘরের জানালা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে গুলিবর্ষণ করেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। ভয়ে এখনও লিখিত অভিযোগ করিনি। আগামী কাল অভিযোগ করবো।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও এনএসবি ইটভাটার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ আকাশে মেঘ ছিলো। কাঁচা ইট ঢাকাঢাকি করছিলাম। তখন পদ্মানদীর দিক থেকে ৭ থেকে ৮ জন ভাটায় এসেছে মালিক আসাদ ও ব্যবস্থাপককে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করেন এবং খোঁজেন। দুর্বৃত্তদের হাতে শর্টগান, বন্ধুক ও লোহার পাইপ ছিল। আমারা চিনতে পারিনি। এরপর কাউকে নে পেয়ে তাঁরা ইটভাটার কার্যালয়ের জানালার গøাস, সিসিটিভি ক্যামেরা ও হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এবং ৫ থেকে ৭টা ফাঁকা গুলি করে।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ফোনে একজন ভাটায় ভাঙচুরের কথা জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কৃষি অফিসের স্লি-পেলেও তেল পেলেন না কৃষক আনছার

0

স্টাফ রিপোর্টার

কৃষকদের ডিজেল দেওয়ার মাইকিং শুনে স্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প ও পাওয়ার ট্রেলারের মালিক কৃষক আনছার উদ্দিন ছুটে যান কৃষি অফিসে। সেখানে ভোটার কার্ড ও স্যালো ইনঞ্জিনের নম্বর জমা দিয়ে মূল্য পরিশোদের শর্তে ১ হাজার টাকার ডিজেলের ¯িøপ পেয়েছিলেন। কিন্তু পাম্প থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তেল আসেনি। আগামী কাল (বৃহস্পতিবার) তেল আসলে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

বুধবার সকালে তার মত কয়েকশ কৃষক খোকসা উপজেলা কৃষি অফিসের প্রত্যয়ণ পত্র ও ¯িøপ নিয়ে নির্দ্ধারিত মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে ডিজেল নিতে আসেন। কিন্তু পেট্রোল পাম্পেরে ম্যানেজার তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ডিলেজ নেই। বৃহস্পতিবার তাদের তেল দেওয়া হতে পারে। এসময় পাম্পে উপস্থিত কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষুদ্ধ কৃষকদের ক্ষোভের মুখে পরেন। পরে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পেট্রোল পাম্পের আন্ডার গ্রাউন্ডের ফুয়েল ট্যাংকি পরীক্ষা করেন। ট্যাংকারটি ডিজেল শুন্য পেয়ে তিনি ফিরে যান। তবে অনন্যা নামের অপর একটি পাম্প থেকে বেশ কয়েকজন কৃষককে ৫শ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে।

ভোগান্তির শিকার কৃষকরা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল দেওয়া হবে বলে মাইকিং করা হয়। সাধারণ কৃষকরা নির্দেশনা মেনে কৃষি অফিস থেকে ডিজেলের জন্য প্রত্যয়ন ও ¯িøপ সংগ্রহ করেন। বুধবার সকালে বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশ কৃষক নির্দ্ধারিত মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে লাইনে দাঁড়ান। বেলা ১০টার দিকে পাম্পের ম্যানেজার তাদের সাফ জানিয়ে দেয় ডিজেল নেই।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের দিন উপজেলা পরিষদের এক সভায় কৃষকদের মধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মাইকে প্রচার করা হয়। উপজেলা সদরের মক্কা মদিনা ও অনন্যা নামের পেট্রোল পাম্প দুটি থেকে একদিন পর একদিন কৃষকদের ডিজেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক বুধবার মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনেডিজেল দেওয়ার জন্য দিন নির্দ্ধারিত ছিলো। পাম্প মালিকের অসহযোগিতার জন্য কৃষকরা হয়রানি শিকার হয়। তবে তারা জানায় অনেক চাষীকে অন্য একটি পাম্প থেকে তেল দেওয়া হয়েছে।

১৫ কিলোমিটার দূরের পদ্মাতীরের আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোকরাকোল কুঠিপাড়া গ্রামের আনছার উদ্দিন উপজেলা সদরের পেট্রোল পাম্পে ৩০ লিটার ডিজেল নিতে আসেন। কিন্তু কোন পাম্প তাকে এক ফোটা ডিজেল দেয়নি। এক পর্যাযে কৃষি কর্মকর্তার কাছে থেকে ¯িøপ নিয়ে আসেন কিন্তু সেই ¯িøপে তাকে তেল দেওয়া হয়নি। বেলা একটার পর্যন্ত তেল জন্য অপেক্ষায় থেকে নিরুপায় হয়ে তিনি ফিরে যান।

কৃষক আনছার উদ্দিনের একটি স্যালোইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প ও একটি পাওয়ার টেলার চালু আছে। নিজের বøকে সাত বিঘা জমিতে বরো ধান ও ৪ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ১০/১১ লিটার ডিজেল তার প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় একমাস ধরে পাম্প থেকে তাকে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না।

ডিজেলের ¯িøপ ও তেলেপাত্র হাতে নিয়ে জানিপুর ইউনিয়নের একতার গ্রামে কৃষক আব্দুর রহমান এসেছিলেন তেল নিতে। তারও একটি স্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। শোমসপুর ইউনিয়নের শোমসপুরের কৃষক জহুরুল ইসলাম, হাসিব উদ্দিন। দুইজন পাওয়াট্রেলার চালক। গত দুইদিন আগে মাঠে পাওয়ার ট্রেলার রেখে এসেছেন। তেলের অভাবে মেশিনটি চালিয়ে বাড়ি নিতে পারছেন না। তাদের মত প্রায় শতাধিক চাষীকে তেলের পাত্র হাতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ প্রতিটি পাম্পে ডিজেল স্টক রয়েছে কিন্তু কৃষকদের ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। এক ট্যাগ অফিসারের দেওয়া তথ্যের সাথে কৃষকদের অভিযোগের মিল খুজে পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১২টি গভীর নলকুপে ৩৬ হেক্টর, ৯৯২টি স্যালোইঞ্জির চালিত সেচ যন্ত্রে অধিন ৭২৮৩ হেক্টর, ২২ টি পাওয়ার পাম্পের ২০০ হেক্টর ও জিকে সেচ খালের ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি আবদ হচ্ছে। এসব জমি চাষে ৮টি ট্রাকটর ও ৫২৮টি পওয়ারটেলার চালু রয়েছে। এসব সেচযন্ত্র ও চাষের যন্ত্রের জন্য পতিদিন কয়েক হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় তেলের সুসম বন্টনের জন্য উপজেলা প্রশাসন কৃষকদের এ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন শুরু করেছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন জানান, মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার মিটিং ছিলেন। পাম্পে তেল ছিলো বলে নিশ্চিত করার পর তারা ¯িøপ ও প্রত্যয়ণ দিয়েছেন। কৃষকদের হয়রানির পেছনে ট্যাগ অফিসারের ভূমিকা আছে।

মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার তরুন জানান, মঙ্গলবার তারা খুলনা ডিপু থেকে ডিজেল লোড করতে পারেনি। ডিজেলের ট্রাংক লড়ি না আসায় তাদের তেল নেই। তেল আসলে কৃষদের মধ্যে দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন তাদের সাথে আলাপ না করে মাইকিং করেছে। একই ভাবে কৃষি বিভাগ তেলের ¯িøপ দিয়েছে। মাইকংএর বিষয়ে তারা জানা নেই বলে দাবি করেন।

মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হানকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

তবে অনন্যা পেট্রোল পাম্পের ট্যাগ অফিসার মিলোন হোসেন খান জানান, বুধবার কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কিছু কৃষককে ডিজিল দেওয়া হয়েছিলো। এর পরেও ওই পাম্পের নিয়মিত কিছু গাড়ির জন্য ২ হাজার লিটার ডিজেল রাখা ছিলো।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপসহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, কৃষকদের জন্য নির্দ্ধারিত পাম্পে ডিজেল না থাকায় অন্য পাম্প থেকে ডিজেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন মিটিংএ নির্দ্ধারিত পাম্প থেকে কৃষকদের ডিজেল দেওয়া হয়নি। তবে অন্য একটি পাম্প থেকে কিছু কৃষকে ডিজেল দেওয়া হয়েছে । তবে তার পরিমান জানেন না।

ধুলায় আঁধার সড়ক

0

কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কারের অল্প কিছু দিনের মধ্যে আঞ্চলিক সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে চলাচল অযোগ্য হয়ে যায়। এসব স্থানে পাকাসড়ক ভেঙ্গে ইট বিছিয়ে হ্যারিং বন্ড করে সড়ক জনপদ বিভাগ। এখান থেকে সৃষ্টি হচ্ছে ধুলা। দ্রæতগতির যারবাহন গেলে বা সামান্য হাওয়া বয়ে গেলে ধুলায় অন্ধ্যকার হয়ে যায় সড়কটি। দশহাত দূরের দেখা যায়। হাজার হাজার যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা এতে রোগব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা বাস স্ট্যান্ড থেকে রবিবার সকাল ১১টায় ধুলায় আক্রান্ত যারবাহন।

দুই দিনেও সন্ধ্যান মেলেনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ভ্যান চালকের

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ভ্যানচালকের সন্ধান মেলেনি দুই দিনেও। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে গুম করা হতে পারে মনে করছেন পরিবার।

সোমবার ভ্যানচালক আব্দুল আজিম (৩০) নিখোঁজের দ্বিতীয় দিন পার হয়েছে গেলো। শনিবার সন্ধ্যায় খোকসা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পাখি ভ্যান মেরামতে দিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন ওই ভ্যান চালক। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি তাঁতী পাড়ার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। সে দুই সন্তানের পিতা। প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানের সাথে তার মাত্র চার শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সে নিখোঁজের কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্ততায় ইউনিয়ন পরিষদে শালিসী বৈঠক হয়। সে বৈঠকে ভ্যানচালক আজিমকে দখলী জমি থেকে ঘর ভেঙ্গে নেওয়ার রায় দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে রহস্যজনক ভাবে ভ্যানচালক নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় খোকসা থানায় একটি জিডি রেকর্ড করা হয়েছে।

আজিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে নিজের পাখি ভ্যানে ভাড়া নিয়ে খোকসা বাস স্ট্যান্ডের একটি পরিবহনের কাউন্টারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেড় হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তার ভ্যান বিকল হয়ে যায়। স্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে মেকারের কাছে ভ্যান সারতে দেওয়ার কিছু সময় পর তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ওই মেকার নিখোঁজ ভ্যানচালকের সন্ধ্যানে তার বাড়িতে লোক পাঠান। সে রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে থানা পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হয়।

সোমবার দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিখোঁজ ভ্যানচালকের বিবাদপূর্ণ জমির ঘর কেন্দ্রিক অসংখ্য নারী পুরুষের আনা গোনা। ঘরের ভিতর থেকে নারী কণ্ঠের কান্নার আওয়াজ ভেসে আছে। এ সময় নিখোঁজ ভ্যান চালকের স্ত্রী মনিরা খাতুন দুই সন্তান মাহিম ও আবির সহ বাড়িতে ছিলো না। পরিবারের লোকেরা জানান, পুলিশের সাথে দেখা করতে গেছেন। কাঁচা রাস্তার বিপরিতে প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানের বাড়ি। ওই বাড়ির ভিতর সুনশান নিরবতা। এক গৃহবধূ ছাড়া সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

নিখোঁজ ভ্যানচালকের স্ত্রী মনিরা খাতুনের সাথে খোকসা থানায় দেখা করা হয়। তখন দুপুর দুইটা। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশ আব্দুল মান্নানের সাথে তাদের দোকান ও বসত ঘরের জমি নিয়ে বিরোধ। কোর্টে মামলা আছে। এই জমি নিয়ে এক শুক্রবার আগে বোর্ড অফিসে শালিস হয়। সেখানে ঘর ভেঙ্গে জমি মুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। শালিসীর রায় না মানায় প্রতিপক্ষ তাকে হুমকী দিয়ে আসছিলো। জমি কেন্দ্র করে তার স্বামী আজিমকে গুম করা হতে পারে।

তিনি আরও জানান, তার স্বামী আজিম নিখোঁজ হওয়ার আগে থানা পুলিশের কাছে প্রতিপক্ষ মান্নানদের বিরুদ্ধে একাধিক বার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। দুই দিন ধরে থানা মামলা রেকর্ড করবে বললেও আজ (সোমবার) অবশেষে জিডি করতে রাজি হয়েছে।

শালিস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান আইন উদ্দিন মেম্বর বলেন, তিনি শুরু থেকে এই শালিসের বিরোধিতা করে আসছেন। পরিষদের সালিশ করে উচ্ছেদের প্রস্তাব হয়েছিলো। কিন্তু সে রায় বাস্তবায়নের আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে নিখোঁজ ভ্যান চালক আজিমকে উদ্ধার করতে পারলে আসল সত্য পাওয়া যাবে।

নিখোঁজ ভ্যান চালকের প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানকে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মুঠো ফোনে কল করেও সারা পাওয়া যায়নি।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন জানান, ভ্যানচালক নিখোঁজের ঘটনাটি রহস্যে ঘেরা। জমি জমা নিয়ে বিরোধ কেন্দ্র করে কোন ঘটনা ঘটছে কি না। আবার গ্রামে সালিশ হয়েছিলো। এ ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে একটা জিডি হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৩ শিশুর মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হামের সংক্রমণ। এ নিয়েছে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী ইব্রাহিম ও আফরান এবং পাঁচ মাস বয়সী আইজা নামের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।

অন্যদিকে, রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আইজার মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে।

এরআগে, ভোর ৬টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী আফরানের মৃত্যু হয়। সে সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে হাম রোগীদের জন্য আলাদা “হাম কর্নার” চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, এতে আমাদের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় অন্তত ৩০০-এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলা থেকে মানুষের আগমন সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত শিশুদের জন্য জেলার সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে এবং টিকা পাওয়া মাত্র দ্রæত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের কোন সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই সনদ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর দলিল, যার বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সংসদই এ সনদ কার্যকর করতে সক্ষম এবং এর বাস্তবায়নের পদ্ধতিও সনদের মধ্যেই উল্লেখ রয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে রচিত। এটি সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়নের কথা সনদেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই গণভোট বাতিল হলে সনদ বাতিল হবে এমন দাবি বিভ্রান্তিকর।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ মানবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবেন এটি দ্বিচারিতা। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি প্রায় ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা অর্জন করতে পারেনি।

জ্বালানি তেল সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, একটি মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে তেল মজুত করছে। এ ধরনের কর্মকান্ড ঠেকাতে প্রয়োজনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

প্রশাসনের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও সতর্ক ভূমিকা পালন করবে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে দুইটি বোমাসহ চোরাকারবারী আটক

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে দুইটি বোমাসহ এক চোরাকারবারীকে আটক এবং বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল উদ্ধার করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

আটক চোরাকারবারী নাম মোঃ মনতাজ আলী (৬০)। তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কালিয়ানী ভিটাপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ধলা মাঠে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো: মনতাজ আলীকে দুইটি বোমাসহ আটক করা হয়। এসময় তার অপর এক সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে আটক মনতাজকে গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বোমা দুইটির ওজন প্রায় ১ কেজি ২০০ প্রাম।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার সময় কাথুলি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ০৯ বোতল ভারতীয় মদ এবং ১ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও একই রাতে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ১৬০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৮৪০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৫৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫২৫ টাকা।

বিজিবি জানায়,সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য সহ সকল প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পেট্রোল রিজার্ভ থাকতেও দু’দিন বিক্রি বন্ধ রাখলো পাম্প কর্তৃপক্ষ

0
মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় মক্কা মদিনা নামের একটি পেট্রোল পাম্পোর আন্ডার গ্রাউন্ডে কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল থাকলেও গতদুই দিন (শুক্র ও শনিবার) মোরসাইকেল চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেট্রোল বিক্রি বন্ধের কারণ বলতে পারেনি ট্যাগ অফিসার, ম্যানেজার ও মালিক। কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালি সিদ্ধান্তে মোটরসাইকেল চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

পেট্রোলের কৃত্রিম সংকটের শুরু থেকে উপজেলা সদরের দুটি পেট্রোল পাম্প থেকে ছুটির দিনসহ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে একদিন পর পর একদিন পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছিলো। মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন থেকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই পাম্প কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটের মুজদ থাকলেও শুক্র ও শনিবার পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। পূর্ব ঘোষনা অনুয়ায়ি শনিবার ভোর থেকে পাম্পের সামেনে শতশত মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে যান। সকাল ৯টার দিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় পেট্রোল দেওয়া হবে না। পরে পেট্রোল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা ফিরে যায়।

বেলা ১২টার দিকে মক্কা মদিনা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তখনো পেট্রোল পাওয়ার আশায় কয়েকশ মোটর সাইকেল চালক পাম্প কেন্দ্রিক পেট্রোলের জন্য অপেক্ষো করছেন। পাম্পের ভিতরে বেশ কিছু মোটর সাইকেল চালক অপেক্ষা করছেন। তাদের তেল তা দিয়ে বিভিন্ন কনটেনারে করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

পেট্রোলের জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল শিক্ষক আশিকুর রহমান, মনিরুজ্জামান, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই পাম্প মালিকের হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এসব শিক্ষকরা জানান, স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে ভোর ৫টায় এসে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন। প্রায় চার ঘন্টা পর সকাল ৯ টায় তাদের জানানো হয় আজ তেল দেওয়া হবে না। স্বেচ্ছাচারী পাম্প মালিকদের বিচারের দাবিও করেন তারা।

পাম্প মালিক আনোয়ার খানের সাথে কথা বলা হলে প্রথমে তিনি জানান, পাম্পে পেট্রোল নেই। খুলনা ডিপু থেকে তেলবাহী ট্রাংক লড়ি আসছে। সাথে সাথে কথা পাল্টে বলেন, কি কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ আছে তা তিনি জানেন না। তিনি ম্যানেজারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পাম্পটির ম্যানেজার জামশেদ রহমান তরুন জানান, টানা কয়েকদিন অধিক পরিশ্রমের কারনে কর্মচারীরা ক্লান্ত। তাই পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন তাদের পাম্পের আন্ডার গ্রাউন্ডে ২ হাজার লিটার পেট্রোল আছে। আগামী কাল রবিবার ট্যাগ অফিসারের অনুমতি পেলে পেট্রোল বিক্রি করা হতে পারে।

ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হানের সাথে ফোনে কথা বলা হয়। তিনিও জানেন না কি কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্বীকার করেন পাম্পে দুই দফায় আনা কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল মজুদ রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পেট্রোল ডিজেল সুষ্ট বন্টনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহানের সাথে সর্বশেষ রাত ৯টায় মুঠো কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসভ করেন নি।

কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। নিহত আফরান সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিয়েছিল। এরপর আফরানকে কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরামর্শে শিশুটিকে দ্রæত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বৃহস্পতিবার আফরানের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শুক্রবার ভোরের দিকে খুব খারাপ অবস্থা হলে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকা হয়। কিন্তু নার্সরা সঠিকভাবে সহযোগিতা করেনি। পরে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যাননি। তবু তার যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার ভোরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

ষাঁড় বিক্রির টাকায় পেঁয়াজ চাষ করে বাছুরও কিনতে পারবে না আবু জাফর

0

স্টাফ রিপোর্টার

শখ করে পোষা ষাঁড় গরুটি বিক্রি করে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন প্রান্তিক কৃষক আবু জাফর। স্বপ্ন অধিক লাভবান হবেন। ফলন যা পেয়েছে তাতে তিনি খুশি। বাজারে হাইব্রিজ পেঁয়াজের দাম কম, অন্য দিকে সংরক্ষন করা নিয়ে কৃষক বিপাকে পরেছেন। নিজের জমিতে উৎপাদন করা সব পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে এখন একটা বাছুর গরুও কিনতে পারবে না তিনি।

খোকসার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের মুকশিদপুর গ্রামের শাহাদত বিশ্বাসের ছেলে প্রান্তিক কৃষক আবু জাফর। অধিক লাভের আশায় সোনাপাতিল বিলে বাবা’র তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিজ জাতের শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। আবাদের খরচ জোগান দিতে বাড়িতে পোষা ষাঁড় গরুটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। গরু বিক্রির সব টাকা পেঁয়াজ আবাদের জন্য ব্যয় করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলেছেন। বিঘা প্রতি ৭০ মন ফলন পেয়েছেন। তিনি প্রায় ২শ মন পেঁয়াজ পেয়েছেন। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ হাইব্রিড পেঁয়াজ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা মণদরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রতিমণ পেঁয়াজ আবাদে ব্যয় হয়েছে একহাজার থেকে ১২শ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসূমে প্রায় ২৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। হতোমধ্যে ২৫ শতাংশ জমি থেকে পেঁয়াজ তোলা হয়েছে। জাতভেদে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১শ মণ।

সোনাপাতিল বিলে ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন বেতবাড়িয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন। তিনি নিজের জমির সাথে অন্য কৃষকের কিছু জমি ইজারা নিয়ে ছিলেন। প্রতিবিঘা পেঁয়াজের জমির মালিককে ২০-৩০ হাজার টাকা ইজারা দিতে হয়েছে। জমির ইজার টাকা ছাড়াই তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে পুজি ফেরত হতে পারে। লাভ হবে না।

একই বিলে উচ্চ ফলন শীল হাইব্রিড জাতের ক্রস -৮০, মেটাল, কিং, সুপার কিং ও সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন নজরুল ইসলাম, মাসুদসহ কয়েকশ কৃষক। তাদের প্রত্যেকেরই ফলন হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু দাম নিয়ে রয়েছে চরম হতাশা। হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের চাহিদা নেই বলে দাবি কৃষকদের। তারা বলছেন, এই পেয়াজ ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক আবু জাফর জানান, তিনি প্রকৃত পক্ষে তাঁতী সম্প্রদয়ের লোক। কাপড়ের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে তাই লাভের আশায় বাবার জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফলন যা পেয়েছেন তাতে তিনি খুশি। কিন্তু তাদের উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বাজারে চলে না। প্রতিমণ পেঁয়াজ ৬০০ টাকা মণদরে বিক্রি করতে হচ্ছে। জমির খাজনাসহ প্রতিমন পেঁয়াজ আবাদে তাদের ব্যয় হয়েছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকা।

তিনি আরও জানান, শখের ষাঁড় গরু বিক্রি করে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এখন বাজার দর দেখে মনে হচ্ছে সব পেয়াজ বিক্রি করে একটা বাছুর গরুও কিনতে পারবেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, হাইব্রিড পেঁয়াজে একটু রস বেশী থাকায় এই পেঁয়াজ সংরক্ষন একটু কষ্ট সাধ্য। তবে এই পেঁয়াজ সংরক্ষনের জন্য বাজারে কিছু মেশিন এসেছে। পরীক্ষা মূলক ভাবে সে গুলো ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক ফলন হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু কম বলে তিনি স্বীকার করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে – মিয়া গোলাম পরওয়ার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটা শুরু...

ব্যবসায়ীকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে পিটেছে দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার রাতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন মুরগী ব্যবসায়ী উজ্জল মোল্লা। মধ্যরাতে বাবার ডাকে সারা দিয়ে দরজা খুলে বাইরে আসার সাথে সাথে একদল...

সড়ক অবরোধের পর পাকিং টোল প্রত্যাহারের ঘোষণা এলো

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা বাস স্ট্যান্ডে পাকিং টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকরা। পরে পৌর প্রশাসনের...

পরীক্ষার পরও পরীক্ষা

পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেড়িয়ে খাতায় লিখে আসা উত্তর সহপাঠিদের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছে তারা। চলতি এসএসসি’র প্রথম দিন মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষে কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী...

দৌলতপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের...