শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬.
Home Blog Page 79

কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভিযোগ বক্সে একগুচ্ছ অভিযোগ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে স্থাপিত জেলা বিএনপির বক্সে অন্তত চারটি অভিযোগ জমা পড়েছে। গত এক সপ্তাহে পরা এসব অভিযোগের মধ্যে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে বক্সটি খুলে অভিযোগ পড়ে শোনান কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের মধ্যে ছিল- কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজার ট্রাক শ্রমিক অফিস থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়। লালন একাডেমির সাপ্তাহিক সেবার নামে অনিয়ম, দুর্নীতি প্রতারণার সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে আবেদন। জিয়ারখী ইউনিয়নের মঠপাড়া মাঠের মধ্যে হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে আবেদন ও বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে শহরের ধোপাপাড়া, মধ্য মিলপাড়া কলোনীতে চাঁদা দাবির অভিযোগ সাজু বাহিনীর বিরুদ্ধে।

বক্স খুলে চিঠি পড়ার সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগর, সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সিনিয়র সভাপতি সাংবাদিক লুৎফর রহমান কুমার, কোষাধ্যক্ষ এম লিটন-উজ-জামান, দপ্তর সম্পাদক মোকাদ্দাস হোসেন সেলিমসহ গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

চিঠিপাঠ শেষে জাকির হোসেন সরকার বলেন, মানুষ অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। আমরা দ্রæতই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে আমরা কি ব্যবস্থা নিচ্ছি সেটি গণমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করা হবে। তাছাড়া যেগুলো আইনি বিষয়, সেটা আদালত কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেখবে।

আরও পড়ুন – খোকসায় দুর্বৃত্ত্বরা শিকল কেটে কৃষকের দুটি গরু নিয়ে গেছে

এর আগে গত ২১ জুলাই কুষ্টিয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিষয়ে জানতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ বক্স স্থাপন করে জেলা বিএনপি। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নিচে ফটকের পাশে এটি স্থাপন করেন বিএনপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক কুতুব উদ্দীন আহমেদ ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। শহরের আরও কয়েকটি স্থানে এমন বাক্স বসানোর কথা জানান তারা।

আরও পড়ুন – অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে – প্রধান উপদেষ্টা

খোকসায় দুর্বৃত্ত্বরা শিকল কেটে কৃষকের দুটি গরু নিয়ে গেছে

0

স্টাফ রিপোর্টার

রাতে গরুর গলায় দিয়ে রাখেতেন লোহার শিকল আর তালা। পাহারায় নিজে শুয়ে থাকতেন ঘরের দাওয়ায় (বারান্দয়) মশারী টাঙ্গিয়ে। তবুও শেষ রক্ষা হলো না। বৃদ্ধ কৃষকের সদ্য কেনা গাভী ও পোষা ষাড় গরুর গলার শেকল কেটে নিয়ে গেছে দুবৃত্ত¡রা।

মঙ্গলবার দিনগত রাতে কুষ্টিয়ার খোকসার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মানিকাট মধ্যপাড়ার বৃদ্ধ কৃষক আবু হোসেনের গোয়াল থেকে দুটি গরু নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা। এ সময় বৃদ্ধ কৃষক গোয়াল ঘর থেকে ১০ হাত দূরে নিজের ঘরের বারান্দার চকিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। দুবৃত্ত¡দের নিয়ে যাওয়া দুটি গরুর একটি গাভী গরু ছিলো। গরুটি গত শনিবার ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে পাশের গ্রাম থেকে দালালের মাধ্যমে কিনে এনেছিলেন কৃষক। অপর ষাড় গরুটির নিজের বাড়িতে পালন করা। এটির বয়স প্রায় ২ বছর। ষাড়টির দাম প্রায় লাখ বলে দাবি করে পরিবার।

বুধবার বিকালে ঘটনা স্থলে গিয়ে কৃষক আবু হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তিনি তখন গ্রামে বাজারে ছিলেন। বাড়িতে মহিলা জটলা করে গরুর চুরির পরের আহাজারি করছিলেন। বাড়িতে ঢুকতেই কৃষকে গোয়াল ঘর। এই গোয়ালেই রাখা ছিলো গরু দুটি। গোয়ালের মধ্যে গরু দুটি গলার লোহাল শিকল পরে আছে। তালা থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে গরু দুটি।

কৃষানী জাহানারা খাতুন জানান, গরু চুরি যাওয়া অল্প কিছু সময় আগে তার স্বামী গোয়াল ঘরের সামনে থেকে ঘুরে গেছেন। নামাজের জন্য উঠেই দেখেন গরু চুরি হয়ে গেছে। নিজের বাথানে গরু বিক্রি করে মাত্র চার দিন আগে (শনিবার) গাভীটি কেনা হয়েছিল। অপর টি ছিলো নিজের বাড়ির। গরুটির বয়স দুই বছর হলেও তার দাম প্রায় লাখ টাকা বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বৃদ্ধা আরও জানান, গরু পাহারা দেওয়ার জন্য তার স্বামী বৃদ্ধ মানুষ ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘর ফেলে দাওয়ায় (বারান্দায়) রাত কাটাতেন। তার পরেও তাদের শেষ রক্ষা হলো। দুবৃত্ত¡রা তাদের সব নিয়ে গেছে। তার ধারণা দুর্বৃত্ত¡রা পিকাপে করে গরু দুলো তুলে নিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন – অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে – প্রধান উপদেষ্টা

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাঈমুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দুটি গরু চুরির ঘটনাটি শুনেছেন। গরুর মালিক থানায় এসেছিলেন। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিবেন।

আরও পড়ুন –  বনায়ণ

অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে – প্রধান উপদেষ্টা

0
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস - ছবি সংগৃহীত

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

অন্তর্র্বতীকালীন সরকার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তিনি বলেন, একটি অংশগ্যহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর চারপাশে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য কাজ করছি।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে সুপারিশ বাস্তবায়নে জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট; এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে, মর্যাদায়, স্বাধীনতায় ও গর্বের সঙ্গে বসবাস করতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সংস্কার কর্মসূচির পাশাপাশি আমরা যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তার মতে, ন্যায়বিচার কেবল শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘ন্যায়বিচার মানে হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যেন আর কখনো জনগণের বিরুদ্ধে দমন, নিপীড়ন বা ধ্বংসের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত না হয়’- বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা অংশ নেন।

প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) একটি স্বাধীন তথ্য-উপাত্ত অনুসন্ধান মিশন জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর ঘটনাবলির তদন্ত করে। গত ১২ ফেব্রæয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিস্তুারিত তথ্য, সুপারিশ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় করণীয় তুলে ধরা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা জাতিসংঘের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যখন হাজার হাজার নারী-পুরুষ যাদের অধিকাংশই তরুণ নির্মমতা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধার করে। তাদের সাহস শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মানবতার পক্ষেও এক অমোঘ বার্তা ছিল।

ড. ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট এবং ২০২৪ সালের অন্ধকার সময় পর্যন্ত জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ সব মানুষের ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অবস্থান নির্বিশেষে অপরিহার্য অধিকার নিশ্চিত করতে যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটি বাংলাদেশের সংবিধানে গভীরভাবে প্রোথিত।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এ অধিকারগুলো বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল হয়ে গেছে, স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়েছে, সহিংসতা হয়ে উঠেছে শাসনের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু গত জুলাইয়ে জনগণ একযোগে এ বাস্তবতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, একটি নিরপেক্ষ ও প্রহণযোগ্য সত্য উদ্ঘাটন শুধু ন্যায়বিচারের জন্য নয়, বরং সামাজিক নিরাময়ের জন্যও অপরিহার্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র কয়েক সপ্তাহে আনুমানিক ১,৪০০ মানুষ নিহত হন। এ সহিংসতাকে পূর্বপরিকল্পিত, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এবং রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংঘটিত বলে উল্লেখ করা হয়। এতে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনকে সমর্থন করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি ও আল-জাজিরা তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য তুলে ধরে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ শুধু অপরাধ নথিবদ্ধ করেনি, বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত সুপারিশমালা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, আমরা এ সুপারিশগুলোকে শুধু বাইরের চাপ হিসেবে নয়, নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছি।

সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দন্ডবিধি সংশোধন করেছি এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছি। এ মাসের শুরুতে ওএইচসিএইচআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছি, যার মাধ্যমে ঢাকায় একটি সহযোগী মিশন স্থাপন করা হবে।

এ মিশন রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করবে।

আরও পড়ুন – বনায়ণ

প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে তার অকুণ্ঠ সমর্থন ও গত মার্চে বাংলাদেশ সফরের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার টুর্ক, ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিমের সদস্য, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুইন লুইস এবং সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন – সারাদেশে পুলিশের ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি

বনায়ণ

0

কাঁধে স্কুল ব্যাগ। দুই হাতে চারা গাছ। সামাজিক বনায়ণে শিশুদের সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা স্কুল পর্যায়ে ফলদ ও কাঠজাত গাছের চারা বিতরণ করছে। মঙ্গলবার একটি সংস্থা খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার গাছের চারা বিতরণ করে। সেখান থেকে পাওয়া গাছের চারা নিয়ে ঘরে ফিরছে শিশুরা। খোকসা উপজেলা সদরের থানা মোড় থেকে ছবিটি তোলা।

আরও পড়ুন – সারাদেশে পুলিশের ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি

আরও পড়ুন – জুলাই জাতীয় সনদের খসড়ায় যা রয়েছে

সারাদেশে পুলিশের ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও দেশে-বিদেশে ‘ছদ্মবেশে তৎপর’ রয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গোপনে তারা একত্র হয়ে সহিংসতা বা হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন এমন আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে আগামী ১১ দিন ‘বিশেষ সতর্কতা’ জারি করেছে।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) আশঙ্কা করছে, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইনে সংঘবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হতে পারে।

এসময় দলটির কিছু নেতাকর্মী সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, বিশৃঙ্খলা কিংবা ভাঙচুর চালাতে পারে বলেও ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশের বিভিন্ন পুলিশের ইউনিটে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এসবি।

চিঠি পাঠানো হয়েছে- ডিএমপি কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্পেশাল পুলিশ সুপারসহ দেশের সব জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সামাজিক সংগঠনগুলো পয়লা জুলাই থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এই সময়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো দেশব্যাপী অনলাইন ও অফলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বা উসকানি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টাও হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অভিযান চালাতে বলা হয়েছে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন সব যানবাহনে তল্লাশি, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, বিমানবন্দরের আশপাশে নজরদারি এবং মোবাইল পেট্রল বাড়াতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সাইবার পেট্রলিং এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের নির্দেশও রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের কিছু যুব ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা মাঠে না থাকলেও অনলাইনে ভার্চুয়াল স্কোয়াড গড়ে তুলেছে। যারা ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেল চালিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ছড়ানোর কাজ করছে।

আরও পড়ুন – জুলাই জাতীয় সনদের খসড়ায় যা রয়েছে

এসব বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। যারা দেশে-বিদেশে বসে পরিস্থিতি অশান্ত করার পরিকল্পনায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন – প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন দশম গ্রেড

জুলাই জাতীয় সনদের খসড়ায় যা রয়েছে

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

‘জুলাই জাতীয় সনদের’ খসড়া প্রকাশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা বিষয়গুলো নিয়ে খসড়াটি প্রস্তুত করা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে খসড়াটি পাঠানো হয়েছে। পাঠকদের জন্য খসড়াটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সফল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিসমূহের প্রতিনিধিরা অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ে সংস্কারের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি—

১. পটভূমি

১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতিকে ধারণ করে সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের আকাক্সক্ষা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তা অর্জন করা যায়নি। কারণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে। বস্তুতপক্ষে, বিগত পাঁচ দশকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একদিকে টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। অপরদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নামেমাত্র থাকলেও তা অত্যন্ত দুর্বলভাবে কাজ করেছে।

বস্তুুত রাষ্ট্রকাঠামোতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সুরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দলীয় প্রভাবের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ও বিচারহীনতার সহায়ক হিসেবে পরিচালনা করা হয়েছে।

২০০৯ সালে একটি দলীয় সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্রমান্বয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে অগণতান্ত্রিক চরিত্র ধারণ করতে থাকে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের মানবাধিকার হরণ, গুম, খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা ও হামলার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও বিভীষিকাময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বন্দনার জন্য নিবেদিত রাখা হয়।

দেড় দশকে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের বিকৃতি সাধন, বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুটপাট করে।

এই পটভূমিকায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিপুল ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণের ফলে এক অভূতপূর্ব সফল গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে শাসকগোষ্ঠীর প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শিশু ও নারীসহ এক হাজার চারশোর বেশি নিরস্ত্র নাগরিক নিহত এবং বিশ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়। তাদের আত্মাহুতি ও ত্যাগের বিনিময়ে এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও প্রতিরোধের কাছে স্বৈরাচারী শাসক ও তার দোসররা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এমতাবস্থায় জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের একটি প্রবল অভিপ্রায় সৃষ্টি হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কার বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার, নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুশীলন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসিত জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব।

২. সংস্কার কমিশন গঠন

বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রেরিত প্রশ্নে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশনগুলো হচ্ছে : সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন। কমিশনগুলো ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে সুপারিশসহ সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে।

৩. জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ১২ ফেব্রæয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টাকে সভাপতি, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানকে সহ-সভাপতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে উক্ত কমিশন কিছুটা পুনর্গঠন করা হয়। কমিশনের দায়িত্ব ছিল আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের সঙ্গে আলোচনা করা এবং এ মর্মে পদক্ষেপ সুপারিশ করা। কমিশনের মেয়াদ ছিল কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ছয় মাস। কমিশন তার দায়িত্ববোধ ও সুপারিশের অংশ হিসেবে ঐকমত্যের মৌলিক বিষয় সংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

৪. কমিশনের কার্যক্রম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রæয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ শুরু করে। ২৮ ফেব্রয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো কপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে পুলিশ সংস্কার কমিশন ব্যতীত অপর পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কার বিষয়ে ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায় যোগ্য হওয়ায সেগুলো ে স্প্রডশিটে রাখা হয়নি। অপরদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রæত বাস্তবাত বায়ন নেযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তাসর করা হয়।

মোট ৩৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে ২০২৫ পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়। এই প্রক্রিয়ারর ফলশ্রæতিতে নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ রচিত হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে, আমরা অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে নিম্নোল্লেখিত কাঠামোগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি এবং এসব বিষয়সমূহকে একটি জাতীয় সনদে সন্নিবেশিত করতে সম্মত হয়েছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ এবং উক্ত গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে আমরা এই সনদকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ হিসেবে ঘোষণা করছি।

৫. ঐকমত্যে উপনীত হয়ার বিষয়সমূহ

(পরে যুক্ত হবে) (এই অংশে প্রথম পর্বের আলোচনা এবং চলমান দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শেষে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে)

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা:

১. হাজারো মানুষের জীবন ও রক্ত এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব;

২. ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ দেশের শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার বিষয়ে যেসব প্রস্তার সুপারিশ এই সনদে লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, লিখন ও পুনর্লিখন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজন সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন, লিখন, পুনর্লিখন বা নতুন আইন প্রণয়ন প্রয়েজনিয়তা বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রতিশ্রæতি দিচ্ছি;

৩. ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’- দেশের শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার বিষয়ে যেসব প্রস্তাব/সুপারিশ এই সনদে লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নর জন্য সংবিধানের প্রয়জনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, লিখন ও পুনর্লিখন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন, লিখন, পুনর্লিখন বা নতুন আইন প্রণয়নে, প্রয়োজনীয় বিধি প্রনয়োন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন এই সনদ গৃহীত হওয়ার পরে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে এবং এসব সংস্কার টেকসই করতে অঙ্গীকার করছি। ৪) এই সনদ গৃহীত হওয়ার পর এতে যে সমস্ত প্রস্তাব/সুপারিশ লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো পরবর্তী দুই (২) বছর মেয়াদকালের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রæতি দিচ্ছি;

৫. ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা বিধান করব; ৬) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে এবং এর আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদানে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; এবং

আরও পড়ুন – প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন দশম গ্রেড

৬. ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সংবিধানে যথাযোগ্য স্বীকৃতি দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকব।

আরও পড়ুন – ঝিনাইদহে ত্রিশ গ্রামের জমির ফসল তলিয়ে গেছে

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন দশম গ্রেড

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে অন্তর্র্বতী সরকার। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে দেশের ৬৫ হাজার ৫০২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান শিক্ষক দশম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।

সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষকরা জাতি গঠনের মূল কারিগর। তাদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। সম্প্রতি ১২৪/২০২২ নম্বর সিভিল রিভিউ পিটিশনে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বিদ্যমান ১১তম থেকে দশম গ্রেড বেতন স্কেলে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

‘এর ধারাবাহিকতায় দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ যৌক্তিক বিবেচিত হওয়ায় সরকার সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল বিদ্যমান ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ও ১২তম গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে সম্মতি দিয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়, যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা হলো। গৃহীত উদ্যোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা সুসংহত করবে। ফলে তারা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও সৃজনশীল ও উদ্দীপ্ত ভূমিকা পালন করবে। এতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও গতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

দশম গ্রেড দিয়ে সরকার প্রধান শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সম্মান দেখিয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করার মাধ্যমে তাদের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও সম্মান প্রদর্শন করছে সরকার।

আরও পড়ুন – ঝিনাইদহে ত্রিশ গ্রামের জমির ফসল তলিয়ে গেছে

সরকারের এ পদক্ষেপ প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের অংশীজনের সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করবেন, এটি সরকারের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন – বিএনপি’র আর এক কর্মী হত্যা মামলায় সাবেক এসপি তানভীর গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহে ত্রিশ গ্রামের জমির ফসল তলিয়ে গেছে

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বিএডসির ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় খনন করা ৩টি খাল পুনঃখনন না করায় বৃষ্টির পানিতে সদ্য লাগানো ধানসহ দশ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। ফলে খাল গুলো এখন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে।

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার সাধুহাটী ও মধুহাটী ইউনিয়নে বিএডসির খনন করা কাজলের খাল, পয়াদপুর খাল এবং মামুনশিয়া খাল পুনঃখনন না করায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে পানিতে মাঠ ঘাট গুলো ডুুবে যায়। এতে এলাকার প্রায় ৩০টি গ্রামের কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সাধুহাটি ইউনিয়নের বংকিরা, নাথকুন্ডু, ডহরপুকুর, বেজিমারা, ছাইভাঙ্গা, পোড়াহাটি, শরৎগঞ্জ, আসাননগর, ভুলটিয়া, দশমাইল, জীবনে, ওয়ারিয়া, শ্যামনগর, ছয়ঘরিয়া, মামুনশিয়া, চোরকোল, শ্রীপুর, পয়াদপুর, রাঙ্গিয়ারপোতা, ডাকবাংলা, বেড়াশূলা, বাথপুকুর, মাটিকুমরা, নবিননগর, গোবিন্দপুর, যাদবপুর, গোপালপুর, দোবিলা গ্রামের মাঠ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার কৃষকদের ভাষ্য দীর্ঘদিন ধরে বংকিরা গ্রামের কাজলের খাল, পয়াদপুর খাল এবং মামুনশিয়া খাল পুনঃখনন না করায় একাধিক স্থানে ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও কচুরি পানায় ছেয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গ্রামের ফসলি জমিতে পানি জমে যাচ্ছে। তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি। গত ৪/৫ বছর ধরে কৃষকরা সঠিকভাবে ফসল ফলাতে পারছে না। এ বছরও বৃষ্টিতে মাঠের পানি গ্রামের দিকে ধেয়ে আসছে।

বংকিরা গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তারা বিএডিসি ঝিনাইদহ দপ্তরে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং ভরাট হওয়া খাল খনন করা হবে বলে জানান। কিন্তু তারা আশার বানী শোনালেও কোন কাজ হয়নি। কৃষকের জীবন মান উন্নয়নের জন্য বংকিরা গ্রামের কাজলের খাল, মামুনশিয়া খাল এবং পয়াদপুর খাল খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী বলেও ওই কৃষক জানান।

রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম জানান, ১০ গ্রামের পানি কাজল খাল দিয়ে নিষ্কাশন হতো। এই পানি ভেদড়ির বিল হয়ে মামুনশিয়া খাল দিয়ে পয়াদপুর খালের মাধ্যমে চিত্রা নদীতে পড়ে। কিন্তু উৎস্যমুখ কাজলের খাল ভরাট হয়ে কচুরিপনায় ছেয়ে গেছে। ফলে পানি বের হতে পারছে না। এতে বংকিরা, গোবিন্দপুর, মোহাম্মদপুর, আসাননগর, মামুনশিয়া ও চুয়াডাঙ্গার জীবনা গ্রামের পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম মনসাদ জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে তারা এলাকার খালগুলো খননের জন্য বিএডিসির ক্ষুদ্রসেচ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো তিনি দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। এলাকাবাসি দ্রæত খালগুলো সংস্কার করে কৃষকদের জনদুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার দাবী জানান।

আরও পড়ুন – বিএনপি’র আর এক কর্মী হত্যা মামলায় সাবেক এসপি তানভীর গ্রেপ্তার

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ বিএডিসির (সেচ) সহকারী প্রকৌশলী সৌরভ কুমার বিশ্বাস জানান, কৃষকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি সরজমিন পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ পানিতে ডুবে আছে। পানি বের হতে পারছে না। তিনি এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। আশা করা যায় দ্রæত বিষয়টি সমাধান করতে পারবো।

আরও পড়ুন – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটি স্থগিত

বিএনপি’র আর এক কর্মী হত্যা মামলায় সাবেক এসপি তানভীর গ্রেপ্তার

0

কুৃষ্টিয়া প্রতিনিধি

দৌলতপুরের বিএনপি কর্মী কুদরত আলীকে গুলি করে হত্যা মামলায় কুষ্টিয়ার সাবেক পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিএনপি কর্মী সুজন মালিথাকে গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কুষ্টিয়া কারাগারে আছেন।

সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে হাতকড়া পড়া ছাড়াই কারাগার থেকে কুষ্টিয়া আদালতে আনা হয় পুলিশের এই সাবেক এসপি তানভীর আরাফাতকে। এরপর তাকে দৌলতপুর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পারভেজের আদালতে হাজিরা করা হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে একটা ৫১ মিনিটে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার তানভীর আরাফাত সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার খালিশপুর উপজেলায়। কুষ্টিয়ায় চাকরিকালে বক্তব্যসহ কার্যক্রমে নানাভাবে বিতর্কিত ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এসএম তানভীর আরাফাত। জেলাতে আসার পর থেকেই নানা কর্মকান্ডে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমনকি এসব কান্ডে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় পর্যন্ত দাঁড়াতে হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত বিএনপি কর্মী কুদরত আলীর ছেলে ফের্দস বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন যে, আমার বাবা কুদরত আলী বিএনপির একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমিসহ আমার বাবা ও পরিবার বিএনপি করে আসছি। বিএনপির সকল কর্মসূচিতে আমার বাবা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করে। এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকার কারনে এলাকার সভা-সমাবেশে ও কর্মসূচিতে আমার বাবা কুদরত আলী ব্যাপক লোক সমাগম করতে পারতেন। এ কারনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ও কিছু সুবিধাভোগী পুলিশ আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় আটক ও হত্যা করার পরিকল্পনা করে। যাতে বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে না পারে। এই ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষীতে আসামী (১) ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকার (২) এস আই রোকনুজ্জামান, (৩) এস আই মেহেদী হাসান (৪) এস আই শাহজাহান (৫) এ এস আই আনিচুর রহমান (৬) কুষ্টিয়া জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আহমেদসহ অনান্য পুলিশ সদস্যরা আমার বাবাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৩ জুলাই রাত দুইটার দিকে আমাদের নিজ বাড়ি মুন্সিগঞ্জে উল্লেখিত আসামীরা সহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন পুলিশ আসে এবং আমার বাবা কুদরত আলীকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ২৩ জুলাই হতে ২৫ জুলাই পর্যন্ত আমিসহ আমার আত্মীয়স্বজন ও বিএনপি দলের লোকজন আমার বাবা কুদরতের সন্ধান করতে থাকি। থানায় গিয়ে আসামী নিশিকান্ত সরকার ওসি তদন্তকে জিজ্ঞাসা করি আমার বাবা কোথায়? বলে আমরা কিছু বলতে পারবো না।

২৫ জুলাই ভোর বেলায় শুনতে পাই আমার বাবাকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে। বাবার লাশ থানায় রাখা হয়েছে। এই সংবাদ পেয়ে প্রথমে থানায় যায় এবং সেখানে জানতে পারি লাশ কুষ্টিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সেখানে গিয়ে আমার বাবা কুদরত আলীর লাশ দেখতে পাই। বাবা কুদরত আলীর বুকের ডান দিকে ও বাম দিকে দু’টি গুলির চিহ্ন, দুই হাতে, পিঠে, মুখে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই।

আমার বাড়ি থেকে বাবাকে অপহরণ করে গুম করে নির্যাতন করে ও গুলি করে আসামীরা হত্যা করে লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখে চলে যায়। লাশ দাফনের পর ২৬ জুলাই আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকার বলে যে মামলা করলে তোরও একই পরিণাম হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে এবং পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত কুষ্টিয়ায় কিলার তানভীর উপাধি পাওয়ায় তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারিনি। ফলে আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোন মামলা করতে পারিনি। ০৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অত্র অভিযোগ দায়ের করিলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলাইমান শেখ বলেন, দৌলতপুর থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হয়েছিল আদালতে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

আরও পড়ুন – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটি স্থগিত

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির কর্মী সুজন মালিথাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে কুষ্টিয়া সাবেক এসপি তানভীর আরাফাতের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিহত সুজনের রাজনৈতিক বড় ভাই সুজন হোসেন (৪২) বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০-১২ জনকে। নিহত সুজন মালিথা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামের ইসমাইল মালিথার ছেলে। মামলার বাদী সুজন হোসেন কুষ্টিয়া শহরের মিললাইন এলাকার লালন শাহ সড়কের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

আরও পড়ুন – ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও তিন জনের মৃত্যু

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটি স্থগিত

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে সারাদেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে সংগঠনটি।

রবিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ।

তিনি বলেন, গত কালকের ঘটনাসহ আমরা বেশ কিছু ঘটনা দেখতে পেয়েছি, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে অনেক ধরনের অপকর্ম করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা যেদিন আত্মপ্রকাশ করেছিলাম এ সম্পর্কে সেদিনই সতর্ক করেছিলাম, এ ধরনের কোনো কিছু বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু আমরা পরে দেখেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে তারা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। যেটি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কমিটি বিলুপ্তের ঘোষণা দিয়ে রিফাত বলেন, উপরোক্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্গানোগ্রামের জরুরি মিটিং ডাকা হয়েছিল। সেখানে অর্গানোগ্রামের চারজন উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের সম্মিলিত পরামর্শে আমরা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারাদেশের সব কার্যক্রম আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হলো।

আরও পড়ুন – ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আরও তিন জনের মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, এর মধ্য দিয়ে আগামী কার্যক্রম কোন উপায়ে পরিচালিত হবে সে ব্যাপারে আমরা বসবো, একটা রূপরেখা তৈরি হবে। ওই সময়গুলোতে ছাত্র আন্দোলন অভ্যূত্থানের প্ল্যাটফর্ম। এই প্লাটফর্ম কোনো দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাস্ত করবে না।

আরও পড়ুন – পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে জরুরি : ফখরুল

সর্বশেষ সংবাদ

কুমারখালীতে ওসির গাড়ি ভাঙার অভিযোগ এমপির স্বজনর বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার ওসির গাড়িতে (পিকআপ) হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের স্বজনদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ( ১৯ মার্চ) রাত...

এসিল্যান্ড পরিচয়ে মুঠোফোনে ঈদের চাঁদা দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচয়ে মুঠোফোনে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ( ১৯ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে...

রফিকুল ইসলাম রফিকের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত বাচিক শিল্পী রফিকুল ইসলাম রফিকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে খোকসার কেন্দ্রীয় পৌর ঈদগাহ ময়দানে মরহুম রফিকুল ইসলাম রফিকের জানাযার নামাজ...

ঈদে মিথিলার নতুন জামা হবে তো ?

মিথিলা। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ক্ষেত থেকে রসুন তুলে বিক্রি করে তবেই তাদের ঈদে নতুন জামা কেনা হবে। তাই বাবার সাথে জমি থেকে রসুন তুলে...

খোকসায় কয়েলের আগুনে ব্যবসায়ীর সেমাই চিনি পুড়ে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসা বাজারের তালাবন্দ মুদির দোকানে মশা তাড়ানোর কয়েলের আগুনে ব্যবসায়ীর সেমাই চিনিসহ বেশ কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও বাজারের নৈশ প্রহরীরা...