শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬.
Home Blog Page 4

মিরপুরে শ্রেণিকক্ষ থেকে ধর্ষিত কিশোরী উদ্ধার

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতে স্কুল ভবন থেকে অচেতন অবস্থায় এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর ওই কিশোরীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানালেও এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী কিশোরী মিরপুর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের বাসিন্দা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে তার নানাবাড়ি ছত্রগাছা গ্রামে বসবাস করে আসছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয় যায়। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরিবারের দাবি, অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত আটটার দিকে বিদ্যালয়়র পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ওই কিশোরীকে খোঁজা শুরু করে। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে কিশোরীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: হোসেন ইমাম বলেন, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে রাতের দিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়েজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, অনুষ্ঠান শেষে তার মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ আনতে গিয়েছিল ওখান থেকে তৃতীয় তলায় গিয়েছিল। এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছে না।

এদিকে জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, সে সিড়ির কাছে বসে ছিল, এরপর তার আর কিছুই মনে নেই।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর জানান, তারা আপাতত বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে সঠিক বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কবর স্থানের গাছ বিক্রি ও বিএনপির দুই গ্রুপের হামলায় আহত ৪২

0

স্টাফ রিপোর্টার

কবর স্থানের গাছ বিক্রি কেন্দ্র করে দুই গ্রাম বাসীরা মাইকিং করে হামলা পাল্টা হামলা চালায়। অপরদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায়র স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রæপের মধ্যে রক্তয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৪২ জন আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাতপাখিয়া করব স্থানের গাছ বিক্রি করে মাটি ভরাট করা কেন্দ্র করে দুই দল গ্রাম বাসীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় কমপক্ষে দুই গ্রামের ২০ জন আহত হয়। হামলা কারীরা কবর স্থানের দেয়ালে লেখা বর্তমান কমিটি ও স্থপতিদের নাম লাল কালি দিয়ে মুছে দেয়। শতবর্শী সাতপাখিয়া কবর স্থানটি ১৬ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। কোটি টাকা মূল্যের কয়েক হাজার মেহগনি গাছ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃত্ব নিয়ে সাতপাখিয়া ও বরইচাড়া গ্রামের মাতুব্বরদের বিরোধ রয়েছে। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীর নিয়ন্ত্রনে চলে বর্তমান কমিটি। বরইচাড়া গ্রামের মাতব্বরদের রয়েছে আর একটি কমিটি। সাতপাখিয়া গ্রামবাসীদের বর্তমান কমিটি এখান থেকে ১০টি মেহগণির গাছ বিক্রি করে কবরস্থানের মাটি ভরাট শুরু করে। এ দিন সকালে বরইচাড়া গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা করে কবর স্থানের উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় সাতপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দাররা মাইকে ঘোষনা দিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহতের চেষ্টা করে। শুরু হয় দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এভাবে চলে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা। দুই পক্ষের আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সাময়ীক নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে দুপুরে এ রিপোট লেখা পর্যন্ত সাতপাখিয়া গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে হামলা প্রতিহত করতে ঘোষনা দেওয়া হচ্ছে।

কবর স্থানের মাটির শ্রমিক শুরুর আলী বলেন, তারা প্রায় ২০জন শ্রমিক কবর স্থানে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলীর নেতৃত্বে বরইচারা গ্রামের প্রায় ২শ লোক তাদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশী ধারালো অস্ত্র ছিলো। শ্রমিকরা পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গোপগ্রাম ইউনিয়ন বিএপির সাবেক সভাপতি মাসুদ আহসান শিবলী বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা সাতপাখিয়া কবর স্থানের জমি দান করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটা মানতে নারাজ। সাতপাখিয়া গ্রামের কয়েকজন সাবেক মেম্বর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চুরি করে গাছ বিক্রি করেছে। বরইচাড়া গ্রামের লোকজন গাছ কাটা বন্ধ করতে গিয়েছিলো। এ সময় প্রতিপক্ষ তাদের উপর হামলা করে। হামলা আহত বরইচারা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৪০)সহ দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

সাতপাখিয়া কবর স্থানের সভাপতি আবু মুসা বলেন, কবর স্থানে প্রতিপক্ষ বরইচাড়া গ্রামবাসীদের কোন অবদান নেই। তার পরেও তারা মৃতদেহ দাফন করে। অনেকবার তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কমিটর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০টি মেহগণির গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সে টাকা দিয়ে কবর স্থানের মাটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ বিনা উষ্কানিতে কমিটির নিয়োজিত শ্রমিকদের উপর হামলা করে। দেয়াল লিখন মুছে দেয়। সাতপাখিয়া গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। তাদের হামলায় কমিটির প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। তিনি কবর স্থানে শ্রমিক ও গ্রামবাসীদের উপর হামলা কারীদের বিচার দাবি করেন।

শুক্রবার সকালে প্রায় একই সময়ে উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে দুই যুবকের মধ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুটি গ্রæপের কর্মীরা হামলা পাল্টা হামলা জড়িয়ে পরে।

দুই পক্ষের আহতরা সবাই নিজেদের বিএনপি কর্মী বলে দাবি করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিনের দলীয় পদ নেই। তার প্রতিপক্ষ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া কেন্দ্র বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুল বিশ্বাসের ছেলে রনি ও নবীনের ছেলে শিপলুর মধ্যে বিরোধ হয়। এ ঘটনা কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের ২২ জন আহত হয়। এ ছাড়া দুই পক্ষ ৬টি বাড়ি ভাংচুর করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জনকে ভর্তিকরা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে কবর স্থান কমিটি ও বিএনপির নেতারা।

বনগ্রামের বিএনপি নেতা ও স্কুল শিক্ষক সামছুজ্জামান তুহিন জানায়, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তার লোকদের উপর হামলা করেছে। হামলার তার পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। তার কর্মী শান্ত বিশ্বাসের ছেলে রন বিশ্বাসের অবস্থা গুরুত্বর হওয়া তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করা হয়েছে। তিনি মামলা করবেন।

আর এক বিএনপি নেতা আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু বলেন, হামলায় তার প্রায় ৭ জন কর্মী আহত হয়েছে। এসব কর্মীদের বাড়ি ঘরও তারা ভাংচুর করেছে।

খোকসা থানার ওসি তদন্ত মোশারফ হোসেন বলেন, দুই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। কোন অভিযোগ পাওযা যায়নি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাম্পে সিরিয়াল নিয়ে দন্দ্বে অন্ধকারে মিরপুর

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে তেল পাম্পে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার টানাপোড়েনে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকা। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা।

জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মিরপুর উপজেলাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাব-স্টেশনের ১৫টি ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা স্থানীয় মেসার্স মল্লিক তেল পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। এসময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জরুরী সেবাই নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বলেন। কিন্তু জরুরি পরিষেবার কথা জানিয়ে কর্মীরা দ্রæত তেল নিতে চাইলে বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের জরুরি কাজ ব্যাহত হয় এবং ক্ষোভে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়।

সকাল ৯টা থেকে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলা স্থবির হয়ে পড়ে।

মিরপুর উপজেলা পাড়ার বাসিন্দা সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাড়িতে পানি তুলতে পারছি না, রান্নাবান্নাসহ সব কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

একই চিত্র সরকারি অফিসগুলোতেও। মিরপুর পৌর এলাকার সুলতানপুর থেকে জমির মিউটেশন (নামজারি) করতে আসা রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার জানান, সকাল থেকে বসে আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে ফরম পূরণ বা টাকা জমা দিতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহ শেষ। এখন আবার রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের এই কষ্টের দায় কে নেবে?

মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফুল হক বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইন মেরামতে আমাদের কর্মীরা রাত থেকেই কাজ করছিল। সকালে নতুন কিছু ত্রæটি দেখা দিলে দ্রæত যাতায়াতের জন্য কর্মীদের তেল প্রয়োজন হয়। আমি নিজে ইউএনও মহোদয়কে অনুরোধ করেছিলাম ওযন জরি বিবেচনায় আমাদের দ্রæত তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আমরা কোনো সহযোগিতা পাইনি। তেল পেতে দেরি হওয়ায় লাইন চেক করে চালু করতেও বিলম্ব হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ট্রাক দিয়ে পথ আটকে পেট্রোল পাম্প অবরোধ

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় ডিজেলের দাবিতে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে ট্রাক রেখে অবরোধ সৃষ্টি করে পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় ১৮ ঘন্টা পরে প্রশাসনের মধ্যস্ততায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের সামনে থেকে অবরোধ সৃষ্টিকরা ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক গুলো সরিয়ে নেয় শ্রমিকরা। পরে পাম্পটির স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়।

সূত্র জানায় মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে বুধবার রাতে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল আনলোড করা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ২৫০০ লিটার ডিজেল কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করে দেয়। বাঁকী ৩৫০০লিটার ডিজেল স্থানীয়ও গণপরিবহনের জন্য বরাদ্দ দেয়। কিন্তু পাম্প কর্তৃপক্ষ গণপরিবহনের বরাদ্দ তেল কালোবাজারে কিক্রির চেষ্টা করলে পরিবহন শ্রমিকরা পাম্পটি অবরোধ করে রাখে।

ট্রাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় মালিকদের প্রায় ৩০ খানা ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন থেকে নিয়মিত ডিজেল নিয়ে থাকে। জ্বালানী তেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পর থেকে পাম্প থেকে তাদের সীমিত পরিমানের তেল দেওয়া শুরু করে। সম্প্রতি তাদের তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে এসব গাড়ির শ্রমিকরা বেকার হয়ে পরেছে। তারা বাধ্যহয়ে পাম্প অবরোধ কররেতে বাধ্য হয়েছেন।

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রত্যেকটি পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমান ডিজেল পেট্রোল অকটেন আসছে। এদিকে তেলে সংকট থেকেই যাচ্ছে। এই পাম্পের ডিজেল বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ন্যার্যদরে পরিহন পাচ্ছেনা।

ট্রাক ড্রাইভার আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন তাদের জন্য ৩৫০০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেয় পাম্প মালিক সে তেল আত্মসাতের চেষ্টা করলে তারা অবরোধ সৃষ্টি করে। প্রায় ১৮ ঘন্টা তারা অবরোধ করে রাখে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্ততায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা সাংবাদিক এড়িয়ে যান।

এই পাম্পের দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হান বলেন, তারা ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ২ হাজার লিটার অকটের নিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিবহন শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় তেল দেওয়ার শর্তে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। পরে স্বাভাবিক অবস্থায় মোট তেল বন্টন করা হয়েছে।

কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১২ জন

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার কয়েকটি গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ১২ টার মধ্যে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের সিংঘড়িয়, বিলজানি, শিমুলিয়া মোল্লা পাড়াসহ ৬টি গ্রামে কুকুরের হামলায় এসব শি, ভ্যান শ্রমিক ও পথচারী আহত হন। আহতদের মধ্যে মাইশা (৪), রোহান (৫), ফারুক (২৫), মাইশা (১০), লোকমান (৩০), আব্দুস সালাম শেখ (৪৫) ও আব্দুল মালেক (৫০) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে ভর্তিকরা হয়। তবে আহত যুবক ফারুক (২৫) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাঁকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামশ্য দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কুকুরের আক্রমনের শিকার ভ্যানচালক আব্দুল মালেক সরকার বলেন, তিনি ভ্যানে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজে গ্রাম সিংঘড়িয়ার মধ্যে রাস্তার পাশ থেকে ছুটে এসে পাগলা কুকুরটি তার উপর আক্রমন করে। একপর্যায়ে তার ভ্যানটি উল্টে যায়। কুকুরটি ভ্যান চালকের পেটের চামড়ায় কামর দিয়ে ঝুলে ছিলো। এখন হাসপাতালে ভ্যাকসিন নাই। নিজের টাকায় বাইরে থেকে ভ্যসিন কিনতে হবে।

শিশুলিয়া গ্রামের স্কুল ছাত্রী মাইশা (১০) জানায়, সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিলো। তখনই রাস্তায় কুকুর তার উপর আক্রমন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রাকিব হাসান জানান, কুকুরের আক্রমনে ফারুক নামের এক যুবকের হাতের টেন্ডুল ছিড়ে গেছে। উপজেলা পর্যায়ে টেন্ডুল জোড়া দেওয়া হয় না। তাই তাকে কুষ্টিয়াতে রেফার্ড করা হয়েছে।

“আমার বাবাকে খুজে দেন না”

0

স্টাফ রিপোর্টার

“পুলিশ আমার বাবাকে খুজে দিলো না। অনেক দিন হলো রাতে বাবা আর বাড়ি ফেরে না। দয়া করে আপনারা আমার বাবাকে খুঁজে দিন না।” রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ভ্যান চালক আজিমের শিশু পুত্র মাহিম তার বাবাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে কাঁপাকাঁপা কন্ঠে এ ভাবেই মাইকে আকুতি করছিলো।

বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা বাস স্ট্যান্ডে নিখোঁজ ভ্যান চালক আজিম (৩৫) কে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করে নিখোঁজের পরিবার ও গ্রামবাসী। সকাল ১০ টায় মানববন্ধন শুরু হয়। এতে কয়েকশ নারী পুরুষ অংশ গ্রহন করেন। পরে মানববন্ধনকারীরা বিক্ষোভ মিছিলসহ থানা ও উপজেলা পরিষদে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন। কর্মকর্তারা না থাকায় বিক্ষোভকারীরা ফিরে যায়। মানববন্ধন চলাকালে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে এক কিলোমিটার জুড়ে যাত্রী ও পন্যবাহী গাড়ির জাম সৃষ্টি হয়। যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়।

মানববন্ধন চলাকালে ভ্যান চালকের ৮ বছর বয়সের শিশু পুত্র মাহিম বাবাকে ফিরে পেতে তার আকুতি জানায়। শিশুটি দাবি করে, তার বাবাকে খুন করা হতে পারে। তারা অনেক বার পুলিশের কাছে গেছে কিন্তু পুলিশ তার বাবাকে খুজে দেয়নি। নিখোঁজ বাবাকে খুজে দেওয়ার জন্য উপস্থিত মানুষের কাছে আকুতি জানায়।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিখোঁজ ভ্যান চালকের বোন মাজেদা খাতুন দাবি করেন, প্রতিবেশীর সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাই আমিজকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। বিএনপির এক নেতার কারনে তারা পুলিশের কাছে গিয়ে বিচার পাচ্ছেন না। তারা তার ভাইকে জীবিত অথবা মৃত উদ্ধারের দাবি করেন।

নিখোঁজ ভ্যান চালকের ভগ্নিপতি ইকরামূল হক দাবি করেন, তার শ্যালক নিখোঁজের চার দিন পার হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। জিডিতি উল্লেখ করা আসামীরা বাড়ি ফিরে এসেছে। এর পেছনে একজন রাজনৈতিক নেতা কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খোকসা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় নিজের পাখি ভ্যান মেরামতে দিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন ভ্যান চালক আব্দুল আজিম। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি তাঁতী পাড়ার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। সে দুই সন্তানের পিতা। প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানের সাথে তার চার শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সে নিখোঁজের কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্ততায় ইউনিয়ন পরিষদে শালিসী বৈঠক হয়। সে বৈঠকে ভ্যানচালক আজিমকে দখলী জমি থেকে ঘর ভেঙ্গে নেওয়ার রায় দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে রহস্যজনক ভাবে ভ্যানচালক নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় খোকসা থানায় একটি জিডি রেকর্ড করা হয়েছে।

সৈয়দ মাছুদ রুমী সেতুতে টোল আদায় নিয়ে উত্তেজনা, এমপির কঠোর হুঁশিয়ারি

0

কুমারখালী প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সৈয়দ মাছুদ রুমী সেতুতে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। টোল আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন।

বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সেতুতে টোল আদায়ের নামে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি অটো, সিএনজি ও ভ্যানচালকসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন টোল আদায় বন্ধ থাকায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ টাকা হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সেতুটির টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে টোলপ্লাজা এলাকা পরিদর্শন করেছে।

সওজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের গড়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ওই সময় টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয় এবং পরে টোল আদায়ের চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। এরপর থেকেই সেতুটিতে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘মেসার্স থ্রী স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় তিন বছরের জন্য টোল আদায়ের দায়িত্ব পায়। প্রতিষ্ঠানটি ১২ কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে টোল সংগ্রহ করবে।

আগামী ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় বিরোধিতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী’কে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুল আওয়াল(৪২)-র যাবজ্জীন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদন্ডের আদেশ দেন।

বুধবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: এনায়েত কবীর সরকার দন্ডপাপ্ত আসামীর উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল আওয়াল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ন পুর কুন্ডুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করীম বিশ্বাসের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারী সকাল ৮ টার দিকে ৩ সন্তানের জননী স্ত্রী শাহানা খাতুন ওরফে জাহানারা খাতুন (৩০)র সাথে আসামীর পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়। নিহত শাহানা তার স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকাকে গালি দিয়ে এই অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করে। আসামী আব্দুল আওয়াল তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হরিনায়নপুর কুন্ডুপাড়ায় প্রকাশ্যে বাড়ির অন্যান্যদের সম্মুখে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী শাহানা খাতুনের দেহের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে স্ত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার সময় আসামীর মা ঠেকাতে গেলে আসামী তার মা’কেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এসময় শোরচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আসামীকে আটক করে নিকটস্থ ইবি থানা পুলিশে খবর দেয়।

সংবাদ পেয়ে ইবি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল প্রস্তুত করে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এবং আসামী আব্দুল আওয়ালকে থানায় নিয়ে যান।

এঘটনায় নিহতের বড় ভাই ঘটনার দিনেই সদর উপজেলার উত্তর মাগুরা গ্রামের মৃত: আব্দুল জলিলের ছেলে মো শফি উদ্দিন বাদি হয়ে আব্দুল আওয়ালকে একমাত্র এজাহার নামীয় আসামী করে ইবি থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ইবি থানার উপপরিদর্শক শাহ আলী মিয়া ২০২০ সালের ০৩ মার্চ মামলার একমাত্র আসামী আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এ্যাড.খন্দ: সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ইবি থানার এই স্ত্রী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামী আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দীর্ঘদিন স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা প্রধানের এ আদেশ দেন।

কুষ্টিয়ায় ভোজ্য তেল মজুদের অপরাধে ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় ভোজ্য তেল মজুদ রাখার অভিযোগে ‘বাবলু পাল স্টোর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানের গুদামে অভিযান চালানো হয়। এসময় ৫ হাজার ৫৭৩ লিটার সয়াবিন তেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসময় অবৈধ মজুদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সংশ্লিষ্টরা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

বাবলু পাল স্টোরের মালিক বাবলু পাল কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিদ মোস্তফা হাসান বলেন, কৃষি বিপণন আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের বেশি তেল মজুদ রাখা যায় না, অথচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি গত ডিসেম্বর থেকে এসব তেল মজুদ করে আসছিল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মাসুম আলী বলেন, চলমান বাজার মনিটরিংয়ে ভোজ্য তেলের কোনো প্রকৃত সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ে ও তেল মজুদ করছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

অভিযানের সময় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতার আরজুর মৃত্যুর ৭ বছর পর মামলা

0

সাবেক এমপি,ডিসি,এসপিসহ ১৫ জন আসামী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম.এ. শামিম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে এস. এম. ফুয়াদ শামীম বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, সাবেক পুলিশ সুপার তানভির আরাফাতসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলী আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি আমলে নিয়ে এক মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা চলমান আছে কিনা তা জানাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সদর আমলী আদালতের পেশকার সোহাগ হোসেন।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডাঃ তাপস কুমার সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান, সাবেক জেল সুপার জাকির হোসেন, তৎকালীন কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, সাব-ইন্সপেক্টর লিপন সরকার, সাব-ইন্সপেক্টর কাজি মেহেদী হাসান, সাব-ইন্সপেক্টর সোহেলী আক্তার, শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মৃত চাঁদ আলী মুক্তার আলীর ছেলে আবুল হাশেম, সাবেক কারারক্ষী লিমন হোসেন ও মিরপুর উপজেলার তাঁতিবন্দ এলাকার মৃত নেহাল মন্ডলের ছেলে তারেক নেহাল তপে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া ডিসি অফিস সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। এ সময় পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এছাড়া শামীম আরজুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটক অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনে আরজু অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী এস. এম. ফুয়াদ শামীম বলেন, বাবাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। সাবেক এমপির নির্দেশে আটক করেছিল পুলিশ। অসুস্থতার কথা ডিসিকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। জামিন দেইনি। নির্যাতন ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই বাবার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে দায়ীদের দ্রæত বিচার দাবি করেন।

বাদীর আইনজীবী নুরুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতা এম, এ শামীম আরজু কারাগারে পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মারা গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করতে গেলে গুমের ভয় দেখাতো ফ্যাসিস্টরা। তাই এতদিন মামলা করতে পারিনি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এ সংক্রান্ত আদালতের কোন নির্দেশনা এখনও হাতে পাইনি।

সর্বশেষ সংবাদ

বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিবাদী শাসনের ভূতে ধরেছে – মিয়া গোলাম পরওয়ার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে হাঁটা শুরু...

ব্যবসায়ীকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে পিটেছে দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার রাতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন মুরগী ব্যবসায়ী উজ্জল মোল্লা। মধ্যরাতে বাবার ডাকে সারা দিয়ে দরজা খুলে বাইরে আসার সাথে সাথে একদল...

সড়ক অবরোধের পর পাকিং টোল প্রত্যাহারের ঘোষণা এলো

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা বাস স্ট্যান্ডে পাকিং টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকরা। পরে পৌর প্রশাসনের...

পরীক্ষার পরও পরীক্ষা

পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেড়িয়ে খাতায় লিখে আসা উত্তর সহপাঠিদের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছে তারা। চলতি এসএসসি’র প্রথম দিন মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষে কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী...

দৌলতপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের...