মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২৬.
Home Blog Page 99

কোটি টাকার স্বর্ণসহ তুলে নেওয়া সিন্দুকের সন্ধ্যান মিলেছে, তবে………….

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার প্রধান বাজারের একটি সোনার দোকান থেকে কোটি টাকার সোনা ও রুপাসহ তুলে নিয়ে যাওয়া সিন্দুকটি ২৪ ঘন্টা পর পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত অপরাধি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সোনা ব্যবসায়ীর সিন্দুক লুটের ঘটনার পর বাজারটির ৬ শতাধিক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের আতঙ্কে সময় পার করছেন।

শনিবার দুপুরে খোকসা থানা পুলিশে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় প্রাইভেটকারে আসা দুর্বৃত্তরা খোকসা বাজারের প্রধান সড়কের বাংলাদেশ জুয়েলার্সে সাটারের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে একটি লোহার সিন্দুক তুলে নিযে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার দিন গত রাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না গ্রামে ভাঙ্গা অবস্থায় একটি সিন্দুক পাওয়া যায়। পরে মোবাইলের ভিডিও কলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবাসীকে দিয়ে সেটি সনাক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ ও ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিরা সিন্দুক উদ্ধারে রওনা হয়েছেন।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় প্রাইভেট কারে আসার দুর্বৃত্ত¡রা মাত্র ১২ মিনিট দশ সেকেন্ড অপারেশন চালিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্সের সোনা ও রুপা রাখার লোহার প্রধান সিন্দুকটি তুলে নিয়ে যায়। দুপুরে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা দোকান খুলতে এলে ঘটনাটি জানাযানি হয়।

দুর্বৃত্তদের চিহ্ণিত করার দাবিতে শনিবার সকালে বাজার ব্যবসায়ীদের বৈঠক করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে তা হয়নি। তবে সিন্দুক লুট হওয়া বাংলাদেশ জুয়েলার্স সহ সব গুলোর জুয়েলার্স খোলা থাকলেও অডার বা ডেলিভারি হয়নি বলে জানান একাধিক ব্যবসায়ী। তারা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা জানান, প্রতি শুক্রবার দুপুর পর তিনি দোকান খুলতে আসেন। এসে দেখতে পান তার দোকানের একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা। দোকানের ভিতরে ঢুকে দেখেন তার প্রায় ৪ মন ওজনের লোহার প্রধান সিন্দুকটি দুর্বৃত্বরা লুট করে নিয়ে গেছে।

তিনি দাবি করেন, লোহার সিন্দুকটিতে বিভিন্ন কাস্টমারের (খরিদ্দারের) প্রায় ৪৫/৫০ ভরি সোনা, প্রায় ৩০০ ভরি রুপা, ৩০ হাজার নগদ টাকা রাখা ছিলো। তিনি জানান ক্ষয় ক্ষতি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালচনা করে দেখা যায়, শুক্রবার ভোর ৪টা ত্রিশ মিনিটের সময় সিলভার কালারের একটি প্রেইভেটকার স্কুল মার্কেটের বাংলাদেশ জুয়েলার্সের শো রুমের সামনে পাকিং করে। এ সময় সাটার খোলার শব্দ হয়। মসজিদে ফজরের আজান হচ্ছিল। পথচারীরা স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করছিল। ঠিক ১২ মিনিট পর প্রাইভেট কারটি যে দিক থেকে এসেছিল সেই দিকে ফিরে যায়। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে প্রাইভেট কারে আসা দুর্বৃত্তরাই শো রুমটিতে হানা দিয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক নিরোদ কুমার রায় বলেন, থানা থেকে সামান্য দূরে স্বর্ণের দোকান থেকে দুর্বৃত্বরা সিন্দুক লুটে নিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অপরাধিদের আটক ও লুটে নেওয়া মালামাল ফেরতের দাবি করেন।
খোকসা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আলনবী হাডওয়ারের মালিক গোলাম ছরোয়ার জানান, শনিবার ব্যবসায়ীদের বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। বাজারের সব ব্যবসায়ীরাই আতঙ্কে দিন পার করেছে বওে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন – সংস্কার কমিশন বাতিল দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, মামলা হয়েছে। তদন্ত ও অপরাধি চিহ্ণিত করতে অভিযান চলছে। দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে যাওয়া সিন্দুক ভাঙ্গা অবস্থায় পাশের জেলা ঝিনাইদহে উদ্ধার হয়েছে। দুই এক বেলায় ভালো খবর পাওয়া যাবে।

সংস্কার কমিশন বাতিল দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলাম।

কুষ্টিয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে শুক্রবার (২৩ মে) বিকালে বড় বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে পাঁচ রাস্তার মোড়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে কুষ্টিয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি শামসুল হক, আব্দুর রউফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ খান প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারী অধিকার সংস্কার কমিশন যেসব প্রস্তাব করেছে, সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে ধর্মীয় বিধিবিধান, বিশেষ করে ইসলামি উত্তরাধিকার আইন ও ইসলামি পারিবারিক আইনকে নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিতর্কিত, ইসলামবিদ্বেষী, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও কটাক্ষপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার কারণে আমরা এই কমিশন বাতিল চাই।

আরও পড়ুন – ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

সমাবেশে ৫ মে শাপলা চত্বরে ও জুলাই গণহত্যাসহ সব গণহত্যার বিচার, হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ফিলিস্তিন ও ভারতে গণহত্যা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে তাকে গুলি করে হত্যারও হুমকি দেওয়া হচ্চে।

বৃহস্পতিবার ( ২২ মে) রাত ৮ টা ২০ মিনিটের দিকে ‘০১৯৫৯৭৬৫৩৭৫ ‘ নম্বর থেকে তার মুঠোফোনে কল করে এ হুমকি দেন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসয়ী আশরাফুল আলম (৩৮)। তিনি উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও চর এতমামপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা ২০ মিনিটের দিকে কাঠের ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে ০১৯৫৯-৭৬৫৩৭৫ নম্বর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি কল দেন। ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, ‘ ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমাকে পাঁচ লাখ টাকা দিবি, যদি না দিস তোর জন্য ৬টি বুলেট বরাদ্দ আছে। ‘ এর আগে গত ২০ মে একই নম্বর থেকে আশরাফুলকে প্রথমে কল দেওয়া হয়েছিল। সেদিন কলে অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, ‘আগামীকালের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা দিবি। যদি না দিস তাহলে তোর লাশ যেকোন জায়গায় পড়িয়া থাকিবে।’

শুক্রবার (২৩ মে) সকালে ফোনে ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি বার বার পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। পরিবার নিয়ে খুবই আতঙ্কে আছি। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়ায় দুর্বৃত্তরা ফোনে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে ওই ফোন নম্বরে কল দেওয়া হয়। ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন – খোকসায় কোটি টাকার স্বর্ণসহ সিন্দুক নিয়ে গেছে দুর্বৃত্বরা

লিখিত অভিযোগের কথা স্বীকার করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান শেখ বলেন, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীকে সনাক্ত করে খুব দ্রæতই আইনের আওতায় আনা হবে।

খোকসায় কোটি টাকার স্বর্ণসহ সিন্দুক নিয়ে গেছে দুর্বৃত্বরা

0

স্টাফ রিপোর্টার

মাত্র ১২ মিনিট অপারেশেন চালিয়ে দুর্বৃত্তরা একটি সোনার দোকানের শোরুম থেকে কোটি টাকার সোনা ও রুপাসহ লোহার সিন্দুক তুলে নিয়ে গেছে। বাজারের দুই নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়ার খোকসা পৌর বাজারের প্রধান সড়কে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ৪টায় প্রাইভেট কারে আসার দুর্বৃত্ত¡রা একটি জুয়েলার্সের শোরুমে হানা দেয়। মাত্র ১২ মিনিট দশ সেকেন্ড অপারেশন চালিয়ে দুর্বৃত্বরা প্রতিষ্ঠানটির সোনা ও রুপা রাখার লোহার প্রধান সিন্দুকটি তুলে নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা শো-রুম খুলতে এসে দোকানের একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। দোকান খুলে তিনি দেখেন দুর্বৃত্বরা তারা সোনা ও রুপা রাখার লোহার সিন্দুকটি তুলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তিনি থানা পুলিশ ও জুয়েলার্স মালিক সমিতিকে জানিয়েছেন।

এ ঘটনা জানাযানি হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাজারের দুই নৈশ প্রহরীকে থানা হেফাজতে নিতে দেখা যায়। পুলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সরেজমিন গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সাথে দেখা করে শান্তনা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লা জানান, প্রতি শুক্রবার দুপুর পর তিনি দোকান খোলেন। আজ একই নিয়মে দোকান খুলতে এসে দেখেন তার একটি সাটারের সবকটি তালা খোলা। দোকানের ভিতরে ঢুকে দেখেন তার প্রায় ৪ মন ওজনের লোহার প্রধান সিন্দুকটি দুর্বৃত্বরা তুলে নিয়ে গেছে। আগের রাতে সাড়ে ৯ টার তিনি দোকান বন্ধ করেন।

তিনি দাবি করেন, লোহার সিন্দুকটিতে বিভিন্ন কাস্টমারের (খরিদ্দারের) প্রায় ৪৫/৫০ ভরি সোনা, প্রায় ৩০০ ভরি রুপা, ৩০ হাজার নগদ টাকা রাখা ছিলো। তিনি জানান ক্ষয় ক্ষতি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালচনা করে দেখা যায়, রাত ৪টা ত্রিশ মিনিটের সময় সিলভার কালারের একটি প্রেইভেটকার স্কুল মার্কেটের বাংলাদেশ জুয়েলার্সের শো রুমের সামনে পাকিং করে। এ সময় সাটার খোলার শব্দ হয়। মসজিদে ফজরের আজান হচ্ছিল। পথচারীরা স্বাভাবিক চলাফেরা শুরু করছিল। ঠিক ১২ মিনিট পর প্রাইভেট কারটি যে দিক থেকে এসেছিল সেই দিকে ফিরে যায়। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে প্রাইভেট কারে আসা দুর্বৃত্তরাই শো রুমটিতে হানা দিয়েছিল।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক নিরোদ কুমার রায় বলেন, থানা থেকে সামান্য দূরে স্বর্ণের দোকান থেকে দুর্বৃত্বরা সিন্দুক লুটে নিয়ে যাওয়ার পর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অপরাধিদের আটক ও লুটে নেওয়া মালামাল ফেরতের দাবি করেন।

সন্ধ্যায় ঘটনা স্থলে উপস্থিত থানা পুলিশের এএসআই দিবাকর জানান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি নৈশ প্রহরীদের নিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন – অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজের লাশ উত্তোলনে পরিবারের বাধা

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম রাত সাড়ে ৮টায় বলেন, এ ঘটনায় এজার লেখা চলছে। মামলা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবসা নেওয়া হবে। নৈশ প্রহরীদের থানায় আসার কথা আছে বলেও জানান।

অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজের লাশ উত্তোলনে পরিবারের বাধা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

জুলাই ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদের (১৭) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যারা।

শেষ পর্যন্ত পরিবারের বাধা ও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া কবরস্থানে মরেদহ উত্তোলনে গেলে শহীদ পরিবার আপত্তি জানায়। এতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা।

নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্ট বিকালে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল আমার ছেলে হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ। এসময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হয়। তার পেটে গুলি লাগে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্ত ছাড়াই তার দাফন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এটা সবাই জানেন। ঘটনাটি তদন্ত করলে এবং ওইসব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি জানা যাবে। পুলিশের গুলিতে জুবাইয়ের নিহত হয়েছে এটা পরিষ্কার।

আমার ছেলের লাশ উত্তোলন করতে চায় না এবং ময়না তদন্ত করার দরকার নেই বলে মনে করি। এজন্য লাশ উত্তোলন করতে দিইনি। আমার ছেলের হত্যাকান্ডের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জুবায়ের আহমদের মরদেহ উত্তোলনের জন্য কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া কবরস্থান যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু মরদেহ উত্তোলনে শহীদ পরিবার আপত্তি জানায়। এ অবস্থায় মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আরও জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর খিলগাঁও চৌরাস্তায় ছাত্রজনতার বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন জুবায়ের। এসময় তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি করে পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন জুবায়ের। তাকে উদ্ধার করে সরকারি মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জুবায়ের আহমদের বাবা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। তিনি মাদ্রাসা ছাত্র ছিলেন।

নিহত হাফেজ মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি হাফেজ ও মাদরাসা ছাত্র ছিলেন। তার পেট ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন – দৌলতপুরে হামলায় দুই এসএসসি শিক্ষার্থী আহত

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জুবায়ের আহমেদের মরদেহ উত্তোলনের জন্য কবরস্থানে এসেছিলাম। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ায় মরদেহ উত্তোলন করা হয়নি। বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

দৌলতপুরে হামলায় দুই এসএসসি শিক্ষার্থী আহত

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে বহিরাগতদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন – হোসেনাবাদ এলাকার মমুনুর রশিদের ছেলে মনোয়ার হোসেন রুদ্র (১৮) ও আতিক হাসানের ছেলে ফাহিম (১৮)। তারা দুজনেই হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

এ ঘটনায় দুপুরে মনোয়ার হোসেন রুদ্র বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে কলেজে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন বহিরাগত যুবক কলেজ চত্বরে অনধিকার প্রবেশ করে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে রুদ্র ও তার বন্ধু ফাহিম মারাত্মকভাবে আহত হন।

আহত ফাহিম জানান, পরিক্ষা শেষ করে বাইরে আসতেই কলেজের গেটে আমাদের উপর হামলা চালায় কয়েকজন বহিরাগত।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান বলেন, “সামান্য একটি বিষয় নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

আরও পড়ুন – ঝিনাইদহে জব্দকৃত ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, “প্রতিষ্ঠানটিতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঝিনাইদহে জব্দকৃত ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধারকৃত ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সদর দপ্তরে এই মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজিবির রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ন কবীর ও বিশেষ অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়া বিজিবির সেক্টর কমান্ডার আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে ঝিনাইদাহ চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ধরনের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে বিজিবি মহেশপুর ৫৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, ধ্বংশ করা মাদকের মধ্যে ২৫ হাজার ৮১৩ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৮ হাজার ৯৮০ বোতল মদ, ১৩০ কেজি গাঁজা, ৬৫ হাজার ১৭৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭ কেজি হেরোইন, ৭৯ কেজি কোকেন, ক্রিস্টাল ম্যাথ আইস ৭ কেজি, এলএলডি ২৯ বোতল, ২১ হাজার ৩১৬ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ট্যাপেন্টাল ট্যাবলেট ৩০ হাজার ৭০ পিস, ভারতীয় ঔষধ ৯ হাজার ৮৪৫ পিস এবং বাংলাদেশী ওষুধ ৯ হাজার ৯৬০ পিস। যার আনুমানিক মূল্য ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ ২০২ টাকা।

আরও পড়ুন – মেলা কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ১১

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রæয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই ১৫ মাসে মহেশপুর ও জীবননগর সীমান্ত থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে বিজিবি।

মেলা কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ১১

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী গাজীকালু – চম্পাবতী মেলা বসানো নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার ( ২০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা চাপাইগাছি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় মেলায় আগত দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে মেলায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ নিয়ে উভয়পক্ষের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

জামায়াতের আহতরা হলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মহেন্দ্রপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, জামায়াতের কর্মী কুদ্দুস প্রামাণিক (৭০), শহিদুলের ছেলে তুহিন হোসেন, আক্কাস আলীর ছেলে জিহাদ হোসেন, সুকচাঁদের ছেলে জামাত আলী, জালালের ছেলে ইউনুস আলী। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপির আহতরা হলেন-খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান, বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক টিপু সুলতান, গফুর শেখের ছেলে সুকুর শেখ, আজিজুলের ছেলে শরীফ, আসাকুর রহমান। তারা বিএনপির কর্মী – সমর্থক। তারা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড়শ বছর ধরে হোগলা চাপাইগাছি বাজারে গাজীকালু – চম্পাবতী মেলার আয়োজন করে আসছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেলায় অশ্লীল কর্মকান্ড ও জুয়া খেলার অভিযোগ তুলে মেলা বন্ধের দাবি তোলেন জামায়াত ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আর প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও বিএনপির সমর্থকরা মেলা বসানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকাল থেকে এলাকায় উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ টহল শুরু করে। তবুও এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সংঘর্ষের সময় অস্ত্র, হাঁসুয়া, রাম দা, লাঠিসোটাঁ নিয়ে অন্তত ৩০ টি দোকানে হামলা, ভাঙচুর লুটপাট চালানো হয়।

এ সময় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, মেলায় অশ্লীল কর্মকান্ড ও জুয়ার আসর বসানো হয়। সেজন্য প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। তবুও বিএনপি ও মেলা কমিটি মেলার আয়োজন করেছেন। আমরা মেলার বিষয় জানতে গেলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। আমিসহ আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। থানায় মামলা করা হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির সমর্থক ও খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান বলেন, জামায়াতের কয়েকশ লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। মেলার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। বিচারের আশায় থানায় মামলা করব।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বাজারের কলা ব্যবসায়ী মফি শেখের ছেলে নাদের শেখ (৬৫) বলেন, শও শও বছর ধরে মেলা হয়ে আসছে। আজ দেখলাম দুইপক্ষের দাবড়া দাবড়ি। জামায়াতের লোক বেশি ছিল। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।

মেলায় হরেক মালের দোকান বসিয়েছেন পাবনার চাটমোহরের দিলবার হোসেনের ছেলে আরজ আলী। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আসরের পর থেকে জামায়াত শিবিরের লোকজন বার বার উঠে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন। পরে সন্ধ্যার একটু আগে কয়েক শত টুপিপড়া লোক রামদা, হাঁসুয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে দোকানে হামলা চালায়। ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। পরে এসে দেখি মালামাল কিছুই নেই। প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আফজাল হোসাইন বলেন, ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডে জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে মেলা কমিটির লোকজন হামলা করেছেন। থানায় মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন – কুমারখালীতে সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

শতবছর ধরে চলা আসা মেলায় এবার অনুমতি মেলেনি বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ। তিনি বলেন, মেলা বসানো নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন এলাকার পরিবেশ শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমারখালীতে সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত সৈয়দ মাসউদ রুমী সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনু্ষ্িঠত হয়েছে। বুধবার (২১ মে) বিকাল সাড়ে ৩ টায় কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করেন সর্বস্তরের জনগণ ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমারখালী শাখার আহবায়ক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আফজাল হুসাইন, কুষ্টিয়া শহর ছাত্র শিবিররে সভাপতি হাফেজ সেলিম রেজা, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক সোহাগ মাহমুদ খান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক শরিফুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার মুখপাত্র পারভেজ মোশাররফ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা মুশফিকুর রহমান তিহা, নয়ন হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘২০০৪ সালে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করে সওজ। ২০০৫ সাল থেকে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইজারাদারের মাধ্যমে টোল আদায় করা হয়। তবে সেতু নির্মাণের পর তিনগুণ টাকা টোল আদায় হয়েছে। তবুও ফ্যাসিবাদীরা টোলের নামে জনগণের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিল। সেজন্য গত বছর ৫ আগষ্ট জ্লুাই বিপ্লবের পর ছাত্রজনতা টোল আদায় বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি আবারো টোল আদায়ের পাঁয়তারা করছেন ফ্যাসিবাদী সরকারী কর্মকর্তা। তবে স্থায়ীভাবে টোল বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত বছরের ৭ আগস্ট সকালে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে টোলপ্লাজায় আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। সে সময় টোলপ্লাজা ছেড়ে পালিয়ে যান আদায়কারী। ১৩ আগস্ট সওজ কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। এরপরও কয়েক দফা হামলা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাবে সেখান থেকে চলে আসেন কর্মকর্তারা। এরপর থেকে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার প্রতিদিন তিন-চার লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানান কুষ্টিয়া সওজ কর্তপক্ষ। সম্প্রতি সেতুর টোল আদায়ের জন্য আবারও দরপত্র আহবান করেছে সওজ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন – যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্রিধান চাষে ফলন বেড়েছে

এ বিষয়ে জানতে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্রিধান চাষে ফলন বেড়েছে

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুঁজরুখ বাঁখই মাঠে প্রথমবারের মতো আধুনিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্রিধান -৯২ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। সেখানে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১৫০ বিঘা জমিতে ১২৮ জন কৃষক সমলয় চাষাবাদ করেছেন। এ পদ্ধতিতে কম খরচে গতবারের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি ফলন বেড়েছে প্রায় আট থেকে দশ মণ। এতে ব্যাপক খুশি তাঁরা। ভবিষ্যতে সমলয় পদ্ধিতে চাষাবাদের স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে একই মাঠে একই সাথে একই জাতের ফসল চাষাবাদকে সমলয় বলে। এ পদ্ধিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। জমির অপচয় রোধ করে অল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। ২০২৪ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বুঁজরুখ বাঁখই মাঠে ১৫০ বিঘা জমিতে ব্রিধান -৯২ জাত চাষ করা হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন পাওয়া গেছে ২৮-২৯ মণ। যা সনাতন পদ্ধতির তুলনায় আট থেকে দশ মণ বেশি।

দুপুরে বুঁজরুখ বাঁখই মাঠে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কম্বাইন্ড হারভেস্টর যন্ত্রের সাহায্যে ধান কর্তন করা হচ্ছে। সেখানে রয়েছেন কৃষক, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, গতবছর সনাতন পদ্ধতিতে ব্রিধান – ২৯ চাষ করে বিঘাপ্রতি ১৮ – ২০ মণ ফলন পেয়েছিলাম। এবারই প্রথম যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্রিধান -৯২ চাষ করেছি। একই জমিতে বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২৭ থেকে ২৯ মণ। এ পদ্ধতিতে অল্প শ্রম ও খরচে অধিক লাভ হওয়ায় আগামীতে সমলয় চাষাবাদ করব।

বুঁজরুখ বাঁখই মাঠে মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মোক্তার হোসেনের প্রায় তিন বিঘা জমি চাষাবাদ আছে। তিনি বলেন, এই কায়দার চাষে চারা কম লেগেছে। পরিশ্রমও কম হয়েছে। তবে ফলন আগের চেয়ে অনেকখানি বেশি হয়েছে। এখন থেকে যন্ত্র দিয়ে চাষ করবেন তিনি।

কৃষক মিঠুন বলেন, মেশিনে চারা লাগানোর কারণে জমি অপচয় হয়নি। গাছ ভাল হয়েছে, ফলনও ভাল হয়েছে। প্রচলিত চাষের চেয়ে যান্ত্রিক চাষ সহজ। কষ্ট এবং খরচ কম। তাঁর ভাষ্য, গেল বছর বীজ, চারা, জমি ভাড়া, পরিচর্যাসহ প্রতিবিঘায় খরচ পড়েছিল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। আর ১৯ মণ ধান এবং দুই হাজার বিছালী পেয়েছিলাম। এবার হিসেব করে প্রতি বিঘায় খরচ পড়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আর ধান পয়েছি ২৯ মণ।

যন্ত্রের মাধ্যমে চারা উৎপাদন, রোপন এবং ধান কর্তন করায় সময় ও শ্রম কম লাগবে এবং উৎপাদন বাড়বে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুফি রফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

আরও পড়ুন – বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধু নিহত

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সমলয়ে চাষাবাদে কম খরচে অধিক লাভ। সেজন্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচি চালু রাখা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচনায় হয়নি, মিথ্যা বলছেন ট্রাম্প: ইরান

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি মিথ্যা বলে অভিহিত করল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের...

ইরানের সঙ্গে ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্য’ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...

ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর কমলো তেলের দাম

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে। সোমবার (২৩...

তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭ জন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয় বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে...

বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে নয়ন শেখ (১৬) নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টা দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী...